kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

এখন সেই নিউজিল্যান্ড

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এখন সেই নিউজিল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সে এক সময় ছিল বটে!

 

সময়টা ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হওয়ার আবহের। এর আগের পাঁচ বছরে এ দুই দল মুখোমুখি সাতবার। কালো টুপির কিউইদের বিপক্ষে প্রতিটিতেই জয় লাল-সবুজের। ২০১০ সালে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের একটি খেলা ভেসে যায় বৃষ্টিতে; বাকি চারটিতে জয় বাংলাদেশের। ক্রিকেট-পরিভাষায় ‘বাংলাওয়াশ’ শব্দটি ঢুকে পড়ে সেবার। এর পুনরাবৃত্তি ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় সিরিজে। সেবারও তিন ম্যাচের প্রতিটিতে জয় বাংলার ক্রিকেটযোদ্ধাদের।

২০১৫ বিশ্বকাপে এ দ্বৈরথের আগে তাই দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দেয় বিশ্রাম। তবু লড়ে শেষ পর্যন্ত। নিউজিল্যান্ডের জয়টি যে ঘাম ঝরানো ছিল, তিন উইকেটের ব্যবধান সে ঘোষণাই দিচ্ছে।

চার বছর আগের বিশ্বকাপে টানা সাত ওয়ানডে জয়ের আত্মবিশ্বাসও বাংলাদেশের জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। এবার দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার আগের আবহটা অবশ্য ভিন্ন। মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের পেছনে অমন টানা জয় নেই। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে যে প্রেরণার মশাল জ্বেলেছে বাংলাদেশ, তাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আলোর পথ খুঁজে পাওয়াটা আশ্চর্যের হবে না মোটেও!

বিশ্বকাপের সূচিতে এবার বড্ড কঠিন শুরু বাংলাদেশের। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম তিন ম্যাচ। এ তিনের মধ্যে কিউইদের বিপক্ষে জয়কেই মনে হচ্ছিল তুলনামূলক কম কঠিন। সেখানে প্রথম ম্যাচে প্রোটিয়াদের হারিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্যাম্পের আত্মবিশ্বাসের পারদ কত উঁচুতে, বুঝতেই পারছেন। আর শুরুর তিন প্রতিপক্ষের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়কে দৃষ্টিসীমায় মনে হওয়ার কারণটাও বোধগম্য। কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ডই সে সাহস জোগাচ্ছে যে!

গত বিশ্বকাপের দ্বৈরথে পারেনি; এরপর দুইবার নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ছয় ওয়ানডেতেও হার। কিউইদের কাছে সর্বশেষ সিরিজে ধবলধোলাই মাস তিনেক আগে; গেল ফেব্রুয়ারিতে। তবু কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে প্রেরণার কমতি নেই। সেটি মূলত ২০১৭ সালের কারণেই।

সেবার ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলার আগে আয়ারল্যান্ডে এক ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। স্বাগতিক বাদে অন্য দল নিউজিল্যান্ড। দুই মুখোমুখির প্রথমটিতে কিউইদের কাছে চার উইকেটে হারে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল; পরেরটিতে হারিয়ে দেয় পাঁচ উইকেটে। এ আত্মবিশ্বাস টেনে নেয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও। সেমিফাইনালে খেলার জন্য কার্ডিফের সেই ম্যাচে জয়ের বাধ্যবাধকতার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিউইদের আট উইকেটে ২৬৫ রানে আটকে রেখে সেটি মনে হচ্ছিল খুবই সম্ভব। তা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় নিজেরা ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৩ রানে চার উইকেট হারালে।

এরপর? বাংলাদেশ ক্রিকেট রূপকথায় নতুন এক অধ্যায় যোগ হয় সাকিব আল হাসান ও মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটে। ২২৪ রানের অবিশ্বাস্য জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান তাঁরা। ১১৫ বলে ১১৪ রান করে সাকিব আউট হলেও ১০৭ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদ। পাঁচ উইকেটে জিতে প্রথমবারের মতো কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।

এবারের বিশ্বকাপের মাশরাফির দলের ন্যূনতম লক্ষ্য ওই সেমিফাইনাল। ১০ দলের টুর্নামেন্টে প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকের খেলার ফরম্যাটের কারণে তা বড্ড কঠিন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে সে কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার কাজটি তো দারুণভাবে শুরু করেছে বাংলাদেশ। কাল নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে বড় এক পদক্ষেপই ফেলা হবে।

তবে নিউজিল্যান্ডও তো বিশ্বকাপ শুরু করেছে বিস্ফোরক ঢঙে। শ্রীলঙ্কাকে আক্ষরিক অর্থেই গুঁড়িয়ে দিয়ে। ১৯৯৬-র বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শুরুতে অল আউট করেছে ১৩৬ রানে; এরপর নিজেরা সে রান পেরিয়ে গেছে কোনো উইকেট না হারিয়ে। গত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড। এবারের অভিযানও দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই অন্তত প্রথম ম্যাচে।

নিজেদের সেই প্রথম ম্যাচ আবার স্বপ্নের আকাশটা বড় করে দিয়েছে বাংলাদেশের। সে আকাশে এখন মেঘের কালিতে লেখা পরবর্তী শিকারের নাম—নিউজিল্যান্ড!

মন্তব্য