kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

অমীমাংসিত রহস্যের জট খোলার বিশ্বাস

মাসুদ পারভেজ   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অমীমাংসিত রহস্যের জট খোলার বিশ্বাস

আগে যা কখনোই করা হয়ে ওঠেনি, সেটি নিয়েই ভাবনার নানা দিগন্ত খুলছিল টিম মিটিংয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে কষা হচ্ছিল বিশাল সংগ্রহ গড়ার নানা ছকও। কিন্তু কোনো ছকই ঠিক জয়যুক্ত হতে পারছিল না।

পারবে কিভাবে? রবিবারের ওভালের আগ পর্যন্ত ৩৩০ রানের সীমাটি যে মাশরাফি বিন মর্তুজাদের জন্য অজানা এবং অচেনা এক জগৎই ছিল। যেখানে পা-ই পড়েনি কখনো, সেখানে পৌঁছানোর অব্যর্থ ছকও তাই কারো জানা ছিল না। না থাকলেও এমন কিছুর জন্য মরিয়া মানসিকতায় কমতি ছিল না কোনো। তাই নানা জনের নানা তত্ত্ব নিয়ে টিম মিটিংয়ে আলোচনার ঝড়ও উঠেছে। তাতে শেষ পর্যন্ত কূল-কিনারা খুঁজে পাওয়া গেলেও পাশাপাশি অনিশ্চয়তাও রয়ে যাচ্ছিল।

তার ওপর পেছনে আবার ছিল ২০১৭-র চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৫ রান করেও ৮ উইকেটে হারের স্মৃতি। সম্প্রতি ব্রিটিশ ভূমে একের পর এক রানোৎসবের ছবি এই বোধোদয়েরও জন্ম দিচ্ছিল যে আগে ব্যাটিং করলে তিন শ পেরোনোই শেষ কথা নয়। করতে হবে আরো বেশি। কিন্তু সে পথে কিভাবে ঝাপাবে তাঁরা? শুরু থেকেই ঝড় তোলার চেষ্টায় যাবে? সেই চেষ্টা করতে গেলে আবার ঝটপট কিছু উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও পদে পদে। সেটি এড়িয়ে বড় সংগ্রহের উপায় হিসেবে মধ্যম পন্থা বেছে নেওয়াই জনপ্রিয়তা পায় টিম মিটিংয়ে। সেই পন্থাটি হলো ৩০ ওভারে হাতে পর্যাপ্ত উইকেট রেখে স্কোর ১৭০-১৮০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার। সেখানে পৌঁছানো গেলে পরের ২০ ওভারে ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলে দলের সংগ্রহ ৩২০-৩৩০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াকে অসম্ভব বলেও মনে হয়নি কারো। সেই অনুযায়ী ব্যাটসম্যানদের সামনে ওভারপ্রতি ৬ রানের চাহিদাপত্রও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সেই চাহিদা ব্যাটসম্যানরা মিটিয়েছেনও। তামিম আর সৌম্য সরকারের ব্যাটে দারুণ সূচনার পর হাল ধরেন সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিম। এর আগে সৌম্যর ব্যাটে ওভালের উইকেটে দারুণ ব্যাটিংয়ের আত্মবিশ্বাসও ছড়িয়ে পড়ে ওই দুজনের মধ্যে। সব মিলিয়েই ৩৩০ পর্যন্ত যাওয়ার প্রত্যাশিত ভিতের চেয়ে একটু বেশিই পেয়ে যায় টাইগাররা। যেখানে ১৭০-১৮০ রান হলেই দল সন্তুষ্ট থাকত দল, সেখানে সাকিব-মুশফিকরা তৃতীয় উইকেটে দলকে ৩০ ওভারে নিয়ে যান ১৯০ রানে। ওভারপ্রতি ৬.৩৩ হারে রান করে। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই পরের ২০ ওভারে আরো ১৪০ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে বাংলাদেশ। ৩৩০ রানের অজানা-অচেনা জগৎও তাই প্রথমবারের মতো চেনা হয়ে যায় তাদের।

বিশ্বকাপ তো বটেই, নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোরও। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে যে রান তাড়ায় নামা প্রোটিয়াদের ২১ রানে হারিয়ে কী দারুণভাবেই না বিশ্বকাপ শুরু মাশরাফিদের। যা পরের ম্যাচগুলোর জন্য বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনাকেও সুস্থির করবে আরো। কিভাবে ম্যাচ জেতার মতো এ রকম পুঁজি জমা করা যায়, এখন তো সেটি জানা হয়েই গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগে যা করতে পারার বিশ্বাসেও ছিল দোটানা। এখন অনিশ্চয়তার সেই কালো মেঘ মুছে গিয়ে ব্যাটিংয়ের রোদ ঝলমলে ফর্মুলা তো ওভালেই আবিষ্কারের আনন্দে ভেসেছেন সাকিব-মুশফিক-মাহমুদ উল্লাহরা। তাও আবার বিশ্বকাপ শুরু হয়ে যেতেই। বড় আসরের আগে বারবার ফাইনালে উঠেও কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে না পারার অতৃপ্তি নিয়েই আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। যাওয়ার আগে অধিনায়ক মাশরাফি বলে গিয়েছিলেন, একবার জিতলেই পরবর্তীতে বাংলাদেশের জন্য ফাইনালের ধাঁধা মেলানো সহজ হবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেই বিশ্বকাপে যাওয়া টাইগারদের জন্য এখন ৩৩০-ও আর অমীমাংসিত কোনো রহস্য নয়। একবার তুলে ফেলেছেন বলেই না আরো বহুবার তোলার বিশ্বাস দলের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ার কোনো কারণ নেই!

মন্তব্য