kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

এমন মৌসুমই তো চেয়েছিল কিংস

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমন মৌসুমই তো চেয়েছিল কিংস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রত্যাশা-প্রাপ্তির হিসাব মেলে না হরহামেশাই। তবে বসুন্ধরা কিংস দেখিয়েছে প্রাপ্যটাকে কিভাবে আদায় করে নিতে হয়। খাতা-কলমে মৌসুমের সেরা দল ছিল তারা, সবচেয়ে হাই প্রফাইল কোচ তাদের, খেলোয়াড়দের পেছনে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে তারা। এরপর ম্যাচের পর ম্যাচ সেই খেলোয়াড়দের শাণিত করে তোলা, অস্কার ব্রুজোনের ট্যাকটিক্যাল মাস্টার ক্লাসে একের পর এক বাধা পেরোনো, ক্লাবটাকে ক্রমে বড় করে তোলা, হোম ভেন্যুটাকে দুর্গ বানিয়ে ফেলা আর অনুশীলনে জিপিএসের মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেই না কিংস আজ সত্যিই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দুয়ারে।

প্রিমিয়ারের প্রথম মৌসুমেই দলটি লক্ষ্য স্থির করেছিল ঘরোয়া সব শিরোপা জেতাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের মেলে ধরার পথ তৈরি করা। সেখানে মৌসুমের প্রথম দুটি টুর্নামেন্টেরই ফাইনাল খেলে একটির শিরোপা জেতা, আর পরশু আবাহনীকে টানা তৃতীয় হারের স্বাদ দিয়ে লিগ শিরোপা অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলার পর ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসানও বলেছেন, ‘প্রথম মৌসুমে এর চেয়ে বেশি কিছু আর কী আশা করতে পারি আমরা। এমন একটা মৌসুমই তো চেয়েছিলাম। মাঠের খেলায়ই আমরা দেখিয়েছি বসুন্ধরা কত বড় একটা দল।’ এতটাই বড় যে তারা প্রিমিয়ার-যাত্রা শুরুই করেছে ড্যানিয়েল কলিনড্রেসের মতো বিশ্বকাপে খেলা তারকাকে নিয়ে। তাঁদের ছেড়ে দেওয়া কেরভেন্স বেলফোর্ট, মাসিহ সাইঘানিকে নিয়েই তো আবাহনী মৌসুমজুড়ে শিরোপার জন্য লড়ছে। প্রথম ফাইনালটা তারা জিতে গেলেও স্বাধীনতা কাপে আর কোনো সুযোগ দেয়নি কিংস। আর লিগে প্রথম মুখোমুখিতেই হারিয়েছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে। পরশু দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হওয়ার আগেই আবাহনীর চেয়ে এগিয়ে তারা ৪ পয়েন্টে। সেই ম্যাচই জিতে এখন ৭ পয়েন্টের লিডে শিরোপার সুবাস নিচ্ছে তারা। ৩৪ জনের সুদীর্ঘ স্কোয়াড কিংসের। স্থানীয়দের মধ্যে সম্ভাব্য প্রায় সব তারকাকে তারা দলে ভিড়িয়েছে, চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর ঘরে হানা দিয়েছে পর্যন্ত। সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি দাম দিয়ে কিনেছে ইমন মাহমুদকে, নিয়েছে অন্যতম সেরা সেন্টার ব্যাক নাসিরউদ্দিন চৌধুরীকে। জাতীয় দলের মাশুক মিয়া, মাহবুবুর রহমান, মতিন মিয়াদের মতো তরুণদেরও বাদ দেয়নি। নুরুন নাঈম ফয়সাল, সাদ্দাম হোসেন, আলমগীর রানা, সানোয়ার হোসেনদের মতো সেরা বিকল্পও রেখেছে তারা হাতে। মৌসুমের শুরুতে ক্লাবটির খেলোয়াড় কেনা দেখে অনেকেই চোখ কপালে তুলেছিলেন। কিন্তু সেই প্রথম টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপ থেকে পরশু আবাহনী ম্যাচ পর্যন্ত প্রমাণ স্কোয়াডের গভীরতাই শেষ পর্যন্ত তাদের উতরে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে অস্কার ব্রুজোনও তাই বলেছেন, ‘মৌসুমের সেই শুরু থেকে চোট, নিষেধাজ্ঞা পিছু লেগেই ছিল আমাদের। কিন্তু কোনো সমস্যাকেই সমস্যা রাখিনি আমরা। দলের প্রয়োজনে খেলোয়াড়রা পজিশন বদলেছে, মাঠে সেভাবে ওদের তৈরিও করেছি আমরা। এটাই আমাদের সাফল্যের রহস্য। মাঠে প্রত্যেকে উজাড় করে দিয়েছে, কে স্থানীয় কে বিদেশি, কে গোল করল, কার ক্রসে, কার পজিশন কী—এ সব কিছু নিয়ে একেবারে মাথাই ঘামায়নি আমার খেলোয়াড়রা, ওরা শুধু দলকে সাহায্য করতে চেয়েছে।’

লিগে এখনো ১০ ম্যাচ বাকি থাকলেও তাই এই দলকে নিয়ে ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন না কেউই। প্রথম মৌসুমেই একটা দলের এর চেয়ে শক্তিশালী ইমেজ আর কী হতে পারে!

মন্তব্য