kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

কিংস-আবাহনীর ‘শিরোপা’র লড়াই

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কিংস-আবাহনীর ‘শিরোপা’র লড়াই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মৌসুমের শুরু থেকে শিরোপার লড়াইটা আটকে গেছে দুইয়ের বৃত্তে। তারা ভাগাভাগি করেছে প্রথম দুটি টুর্নামেন্ট শিরোপা। আবাহনী ফেডারেশন কাপ জেতার পর বসুন্ধরা কিংস জেতে স্বাধীনতা কাপ। এখন প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার দৌড়েও তারা প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। দুই চ্যাম্পিয়নের আজকের ম্যাচে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে আরো জোরালো এবং দ্বিমুখী নইলে একদম একমুখী। জিতলেই বসুন্ধরা কিংসের হাতের মুঠোয় চলে যাবে লিগ শিরোপা।

আবাহনীর জন্য ম্যাচটি একই সঙ্গে সুযোগ এবং শঙ্কার। তাদের কোচ মারিও লেমোস আশা করেন চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার স্পিরিট ধরে খেলোয়াড়রা লিগ শিরোপার সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখবেন, ‘এই ম্যাচটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। জয় ছাড়া কোনো বিকল্প সামনে নেই, জিতলে কিংসের সঙ্গে ব্যবধান একে নেমে আসবে। নইলে আরো পিছিয়ে পড়বে আবাহনী এবং শিরোপা-স্বপ্ন কঠিন হয়ে যাবে।’ বসুন্ধরা কিংস ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার দৌড়ে এখন শীর্ষে। তাদের চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে আবাহনী আছে দ্বিতীয় স্থানে। এই ম্যাচ হারলে ব্যবধান দাঁড়াবে ৭ পয়েন্টের, অর্থাৎ নবাগত বসুন্ধরা কিংসের শিরোপা তখন শুধু সময়ের ব্যাপার হয়ে যাবে।

স্বাধীনতা কাপ জয়ীরা অবশ্য অত সহজ ভাবছে সব কিছু। তারা চাইছে লিগের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ভালো পারফরম্যান্সের ধারা অব্যাহত রাখতে। বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজোন যেমন আবাহনীকে খুব সমীহের চোখে দেখে বলছেন, ‘প্রথম লেগে আমরা ৩-০ গোলে আবাহনীকে হারিয়েছি মানে এই ম্যাচটাও সহজ হবে, তা নয়। তারা ম্যাচটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নেবে। তবে আমার দলের অবস্থা ভালো, কোনো ইনজুরি নেই। তুলনা করলে সব দিক থেকে আমরা এগিয়ে এবং সেটা মাঠে আরেকবার প্রমাণ করতে হবে খেলোয়াড়দের।’ ১৩ ম্যাচে বিজেএমসির সঙ্গে এক ড্র ছাড়া তারা আর কোনো পয়েন্ট হারায়নি। প্রথম লেগের মতোই অপ্রতিরোধ্য গতি কিংসের, শেষ ম্যাচে ৩-১ গোলে হারিয়েছে শেখ জামালকে। গোলটি হজম করেছিল সুশান্ত ত্রিপুরার ভুলে, তাই এই রাইট ব্যাককে বাদ দিয়ে মাঝমাঠ শক্তিশালী করবে আরেক মিডফিল্ডার যোগ করে। তিনি হলেন হেমন্ত ভিনসেন্ট। অর্থাৎ কিংস খেলবে ৩-৫-২ ফরমেশনে আক্রমণাত্মক ফুটবল। এই ম্যাচ জিতে তারা শিরোপার পথ সহজ করে ফেলতে চায়। তাদের সুবিধা হলো ৮ গোল করা ব্রাজিলিয়ান মার্কোস ভিনিসিয়াসের পাশাপাশি দেশিরাও গোল পাচ্ছেন। ৭ গোল করেছেন মতিন মিয়া।

আবাহনীরও গোলে সমস্যা নেই। ৯ গোল করে নিয়ে নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবা ও দেশি নাবিব নেওয়াজ এখন গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে। তবে সর্বশেষ ম্যাচে চেন্নাইয়ান এফসির বিপক্ষে দুজনের কোনো গোল নেই। এর পরও বেলফোর্ট, মাসি সাইগানি ও মামুনুলের গোলে তারা ওই ম্যাচ জিতেছে ৩-২ গোলে। জিতেছে নিয়মিত তিন-চারজন খেলোয়াড় একাদশে না থাকার পরও! এটাই আবাহনীর পর্তুগিজ কোচের জন্য বড় অনুপ্রেরণা, ‘আমাদের অনেক খেলোয়াড় ইনজ্যুরড, তাদের ছাড়াই আমরা এএফসি কাপের ম্যাচ জিতেছি। আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য এটা প্রেরণা, তারাও জানে এই ম্যাচ হারলে সব শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং শিরোপা লড়াইয়ে ভালোভাবে ফেরার জন্য তারা মরিয়া হয়েই খেলবে আশা করি।’ ইনজুরিতে তপু-ফাহাদের মৌসুম শেষ, ডিফেন্ডার বাদশা ও মিডফিল্ডার ব্রাজিলিয়ান ওয়েলিংটনকে নিয়েও ইতিবাচক কিছু বলতে পারেননি মারিও লেমোস। চেন্নাইয়ানের ম্যাচের একাদশ খেলানোরই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আবাহনীর এই একাদশের তুলনায় কাগজ-কলমে এগিয়ে বসুন্ধরা কিংস। আবাহনী কোচও মানেন এটা, ‘কিংস প্রথম লেগের সেরা দল, কোনো ম্যাচ তারা হারেনি। তারা সব বিভাগে এগিয়ে। কিন্তু মাঠের খেলা সব সময় শক্তির পার্থক্য মেনে শেষ হয় না, এটাই আমার খেলোয়াড়দের দেখাতে হবে মাঠে।’ তবে কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন বলছেন, ‘চেন্নাইয়ান এফসির চেয়ে আমরা ভালো চিনি আবাহনী।’ পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন চেন্নাইয়ান এফসি আর বসুন্ধরা কিংস এক নয়। সুতরাং দুই চ্যাম্পিয়নের এই লড়াই নতুন দিশা দেবে প্রিমিয়ার লিগে।

মন্তব্য