kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

শেষ ওভারের ঝুঁকিতে যাননি মোসাদ্দেক

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেষ ওভারের ঝুঁকিতে যাননি মোসাদ্দেক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কতগুলো ম্যাচে শেষ সময়ে হৃদয় ভেঙেছে বাংলাদেশের? মুলতান, বেঙ্গালুরু, কলম্বো কিংবা মিরপুর...তালিকাটা বড্ড লম্বা। গত বছর এশিয়া কাপের স্কোয়াডে ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন, তবে জায়গা হয়নি ফাইনালের একাদশে। ড্রেসিংরুম থেকেই দেখেছেন, কিভাবে শেষ ওভারে হেরে গেল দল। ডাবলিনে মোসাদ্দেক তাই শেষ ওভারের ঝুঁকিতে যেতেই চাননি। বাঁহাতি স্পিনার ফ্যাবিয়েন অ্যালেনের করা ২২তম ওভারে ২৫ রান নিয়েই ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নিয়ে আসেন মোসাদ্দেক। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচের ভাগ্য ঠিক হয়ে যায় ওই একটা ওভারেই। ম্যাচ শেষে  মোসাদ্দেক জানালেন, শেষ ওভারের ঝুঁকিতে না পড়ার জন্যই বাঁহাতি স্পিনারের বলে ওভাবে চালিয়ে খেলেছিলেন।

প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের সব শেষ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন দল আবাহনীর অধিনায়ক ছিলেন মোসাদ্দেক। মাশরাফি বিন মর্তুজা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন মোসাদ্দেকের নেতৃত্বেই। তবে জাতীয় দলে মাশরাফিই অবিসংবাদিত নেতা, মোসাদ্দেক জানালেন ব্যাটিংয়ে নামার আগে তাঁকে উসকে দিয়েছিলেন দলনেতাই, ‘‘উইকেটে যাওয়ার আগে মাশরাফি ভাই বলেছিলেন, ‘সৈকত (মোসাদ্দেকের ডাকনাম) তুই পারবি। যা ইচ্ছা খেল, শেষ করে আয়।’ অধিনায়ক ভরসা করলে আত্মবিশ্বাস ভালো থাকে।’’ দেশে ঘরোয়া ক্রিকেটে বাঁহাতি স্পিনারের ছড়াছড়ি। তাই ম্যাচের বাঁকবদলের ক্ষণে বেশি রান তোলার জন্য বেছে নিয়েছিলেন অ্যালেনের ওভারটাই, ‘ওই ওভারটায় শুরুতে যখন একটা ছক্কা হয়ে গেল, তখন ভেবেছি যত বেশি সম্ভব রান করতে। ৩ ওভারে ২৭ রান লাগত। শেষের জন্য রাখতে চাইনি। ওই ওভারটাকেই টার্গেট করেছিলাম।’ অ্যালেনের ওভারটাকে টার্গেট করতে গিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড করে ফেলেছেন মোসাদ্দেক। অথচ এই ম্যাচের আগে তাঁর ক্যারিয়ারে হাফসেঞ্চুরি ছিল মাত্র একটি, সেটাও করেছিলেন বছর তিনেক আগে। লিটন কুমার দাশ, তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান কিংবা সৌম্য সরকারদের ছাপিয়ে দেশের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ডটা নিজের হবে, এমনটা বোধ হয় ভাবেননি মোসাদ্দেক নিজেও! আর ফাইনালের ফাঁড়াটাও কাটিয়ে ওঠা গেছে মোসাদ্দেকের ব্যাটে, সব মিলিয়ে প্রথম ত্রিদেশীয় শিরোপা জয়ের উৎসবে মধ্যমণি তো ময়মনসিংহের ছেলেটাই। তাঁর নিজের মনেও খুশির ফোয়ারা, ‘এটা অনেক ভালো লাগার একটা ব্যাপার। আমরা প্রথম কাপ জিতলাম, সেটাও দেশের বাইরে। আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। সবচেয়ে বড় কথা হলো বিশ্বকাপের আগে অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি আমরা।’

মোহাম্মদ মিঠুন আউট হয়ে যাওয়ার পর ফিরে ফিরে আসছিল অতীতের সব তীরে এসে তরি ডোবার স্মৃতি। এমন সময় ব্যাটিংয়ে নেমে বলের চেয়ে বেশি রান তোলার চাপটা কম ছিল না মোসাদ্দেকের ওপর। তবে ঢাকা লিগে নিয়মিতই বিপর্যয়ের মুখে ভালো খেলার আত্মবিশ্বাসেই চাপটা সামলেছেন মোসাদ্দেক, ‘যখন ব্যাটিংয়ে যাই তখন একটা ব্যাপারই নিজের ভেতরে কাজ করেছে যে, আমি ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব। পরিস্থিতিটা খুব সহজ ছিল না। আমি চেষ্টা করেছি বল বুঝে বুঝে খেলতে।’

ড্রেসিংরুমে সতীর্থরা ছিলেন রান তাড়া করে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। শুরুর ছন্দে সেটা সম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ফাইনাল ভাগ্য আর তীরে এসে তরি ডোবানোর ইতিহাস যখন পেছন থেকে টেনে ধরছিল, তখনই মোসাদ্দেকের ব্যাটে শৃঙ্খলমুক্তি। প্রথম কোনো ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে ভালো খেলার পেছনে যে শিরোপা জয়টা হতে পারে অনুপ্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস।

মন্তব্য