kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

১৬ কোটির ১৫

বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নের ধারক এই ১৫ জন। তাঁদের নিয়ে কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের বিশেষ ধারাবাহিক এই আয়োজনে আজ জেনে নিন মো. সাব্বির রহমানের বিস্তারিত। লিখেছেন মাসুদ পারভেজ

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



১৬ কোটির ১৫

এক জীবন পেরিয়ে দ্বিতীয় জীবনে

বয়স কতই বা হলো আর তাঁর? ত্রিশও ছোঁয়নি এখনো। অথচ এরই মধ্যে স্বেচ্ছায় এক জীবনকে বিসর্জনে পাঠিয়ে দ্বিতীয় জীবন শুরু করতে চলেছেন সাব্বির রহমান। সেটি ইংল্যান্ডে নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ দিয়েই। যে জীবনের শুরুটা অবশ্যই রাঙাতে চান ঝলমলে পারফরম্যান্সে।

নতুন জীবনে সে আকুতি আরো বেশি, কারণ নিজের পারফরম্যান্সে প্রত্যাশিত উজ্জ্বলতা দেখেননি ফেলে আসা পাঁচ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে। তাই ঠিকঠাক হিসাব মেলাতে পারেন না। ভবিষ্যৎ যাতে তা মিলিয়ে দিতে পারে, সে জন্য বিশ্বকাপকেই দ্বিতীয় জীবন শুরুর ফলক ধরছেন।

আক্ষরিক অর্থেও নতুন এক জীবন এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে সাব্বিরের। উড়ুক্কু মন বারবারই তাঁকে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম বানিয়েছে এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও গুনিয়েছে। মাঠের বাইরের ঘটনায় পেয়েছেন নিষেধাজ্ঞাও। কোনো বাঁধ মানতে না চাওয়া মনকে স্থির করতে সম্প্রতি পরিবার তাঁকে বিয়েটাও করিয়ে দিয়েছে। ঠিক এই সময়েই কিনা মনে হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এমন বিশেষ কিছুই এখনো করা হয়ে ওঠেনি, যা তিনি করতে চেয়েছেন।

কাজেই এখন পর্যন্ত নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে এক জীবনের মলাটেই বন্দি করে ফেলেছেন সাব্বির। শুরু করতে চলেছেন আরেক জীবন, ‘অবশ্যই এটা আমার দ্বিতীয় জীবন। আমার দ্বিতীয় ক্যারিয়ার এই বিশ্বকাপ দিয়েই শুরু করতে চাই।’ চাওয়া-পাওয়ার হিসাবও এবার মিলিয়ে নিতে চান পুরোপুরিই। তাই বলে নিজেকে কোনো লক্ষ্য বেঁধে দিয়ে বাড়তি চাপও নিতে চান না, ‘আজ থেকে চার-পাঁচ বছর আগে জাতীয় লিগের আগে লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম যে এবার ৫০০ রান করতেই হবে। কিন্তু ২০০-৩০০ রানও করতে পারিনি। তখনই মনে হয়েছে আমার দ্বারা এসব আগেভাগে ঠিক করে কিছু হবে না। তার চেয়ে ভালো পরিশ্রম করি। সেটির ফল নিশ্চয়ই মাঠে পাব।’

মাঠের ক্রিকেটে সফল হতে আগের মতোই কঠোর অনুশীলনে মজে আছেন দ্বিতীয় জীবনের চৌকাঠে দাঁড়ানো সাব্বির, ‘নিজের কাছে যা প্রত্যাশা ছিল, সেটি এখনো শতভাগ করতে পারিনি। দলকেও সব সময় শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। অনেক সময় সফল হই, অনেক সময় ব্যর্থ। যদিও আমি সুযোগ পেয়েছি অনেক। তিন নম্বরে ব্যাটিং করেছি অনেকটা সময়। বড় রান করার সুযোগও পেয়েছি। খুব কাজে লাগাতে পারিনি। আবার প্রতিদিন সাফল্য পাওয়ার নিশ্চয়তাও নেই। সে জন্য প্রচুর অনুশীলন করতে হবে। গত ৫০টি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ৫০টি ম্যাচ খেলতে চাই। বড় ইনিংস বাড়াতে চাই। সেঞ্চুরি বাড়াতে চাই, ফিফটি বাড়াতে চাই। অপরাজিত থাকা কিভাবে বাড়ানো যায়, ফিনিশিং কিভাবে আরো ভালো করা যায়, অনুশীলনে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’

সেই চেষ্টার সঙ্গে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়াতে যোগ হয়েছে সাব্বিরের ফেলে আসা এক জীবনের ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষাও। যা দ্বিতীয় জীবন রাঙানোর শক্তিও।

 

ম্যাচ ফিনিশ করে আসাই লক্ষ্য

প্রশ্ন : বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন প্রথম দেখেন কখন?

সাব্বির : অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসার পর মনে হয়েছিল যে এবার তো আমি বড়দের বিশ্বকাপেও খেলতে পারি। ২০১১-তে হয়নি তবে ২০১৫-তে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। খুবই ইমোশনাল ব্যাপার ছিল সেটি। এখন অবশ্য অনেক পরিণত হয়েই আরেকটি বিশ্বকাপে যাচ্ছি।

প্রশ্ন : ব্যাটিংয়ে সাত নম্বরে দলের আস্থা আপনি। বিশ্বকাপে এর প্রতিদান কিভাবে দিতে চান?

সাব্বির : বাংলাদেশ দলে আমি অনেক পজিশনেই ব্যাটিং করেছি—তিন, পাঁচ ও সাত নম্বরে। যেখানে দল আমাকে ভালো মনে করবে, সেই জায়গায় চেষ্টা করব ম্যাচ ফিনিশ করে আসতে। তা কিভাবে করা যায়, গত আড়াই মাস ধরে অনুশীলনে সেই চেষ্টাই করে আসছি। যখনই যেখানে নামব, ইনিংস বড় করার চেষ্টা করব। শেষ পর্যন্ত খেলার চেষ্টা করব।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন?

সাব্বির : এ পর্যন্ত যত লক্ষ্য আমি নির্ধারণ করেছি, কোনোটিই অর্জন করতে পারিনি। তাই লক্ষ্য নির্ধারণ করাও ছেড়ে দিয়েছি।

প্রশ্ন : দল ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ না হলে আপনাকে যে সময় নামতে হবে, তখন বিগ শট খেলে রান বাড়ানোর দাবি মেটাতে প্রস্তুত কতটা?

সাব্বির : দেখুন, আমি তো আন্দ্রে রাসেল নই। আমি সাব্বির। চিন্তা করব কিভাবে ম্যাচ শেষ করে আসা যায়। এই ভূমিকাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়। সেটি করে আসতে পারলেই আমি খুশি। তা ছাড়া মানসিক সমর্থনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দল যে বিশ্বাস করে সাব্বির ম্যাচ জেতাতে পারে, এটাই আমার জন্য অনেক বড় মানসিক সমর্থন। খুব গর্ববোধ করি এই ভেবে যে মানুষ মনে করে আমি ম্যাচ শেষ করে আসতে পারব।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে এবার দলকে কোথায় দেখার ইচ্ছা?

সাব্বির : গতবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিলাম। এবার নিজেদের অন্তত সেমিফাইনালে দেখতে চাই।

 

টার্নিং পয়েন্ট

জীবনের প্রথম টার্নিং পয়েন্টের কথাই বলি। অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায়ের ম্যাচ খেলতে ঢাকায় এসে খেলেছিলাম ১৫২ রানের ইনিংস। যে ইনিংস খেলার পর মনে হয়েছিল আমাকে দিয়েও সম্ভব।

সিক্রেট

মজার ব্যাপার হলো, ৯৯ শতাংশ মানুষই জানেন আমার কোনো ভাই-বোন নেই। আসলে আমার বড় একজন ভাই আছেন। রাজশাহীতেই থাকেন। পেশায় পুলিশ ইন্সপেক্টর।

 

সেরা ম্যাচ

নিজে তেমন কিছু করতে পারিনি। তবে আমার খেলা এবং দেখা সেরা ম্যাচ অবশ্যই ২০১৫ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড ম্যাচ। অ্যাডিলেড ওভালে যে ম্যাচে ওদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো আমরা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যাই। একই সঙ্গে আসর থেকে বিদায় হয়ে যায় ইংলিশদেরও।

 

নিজের শক্তি

মানসিকভাবে আমি অনেক দৃঢ়। এটা আমার শক্তি। ব্যাটিংয়ে বিগ শট খেলতে পারি। আর পারি মন-প্রাণ উজাড় করে দিয়ে ফিল্ডিং করতে।

 

দুর্বলতা

এত দিন ধরে খেলছি অথচ নিজের কাছে নিজের প্রত্যাশা মেটানোর মতো ইনিংস এখনো খেলা হয়নি। এই না পারাই আমার দুর্বলতা।

মন্তব্য