kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

সব সময় মনের কথা শুনেছি

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সব সময় মনের কথা শুনেছি

আইপিএলটা ভালো কাটেনি বিরাট কোহলির। তাঁর দল বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স মৌসুম শেষ করেছে আট দলের ভেতর সবার শেষে। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই ইংল্যান্ডের ফ্লাইট ধরবেন কোহলি। টাইমসঅব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে তাঁর দল। এত প্রস্তুতির পর ফিরতে চান না খালি হাতে।

 

প্রশ্ন : ২০১৮-১৯ মৌসুমটা খুবই ব্যস্ত কাটছে, আইপিএলও অনেকটাই নিংড়ে নিয়েছে শরীর থেকে। এর পরও সবচেয়ে বড় শিরোপা যখন হাতছানি দিয়ে ডাকছে, তখন কী চলছে বিরাট কোহলির মনে?

বিরাট কোহলি : মৌসুমটা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। যে সময়টা বাকি আছে, সে সময়টার জন্য খুব ভালোভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করেছি আমরা। একটা তরুণ, লড়াকু এবং জেতার জন্য মরিয়া দলকে নেতৃত্ব দেওয়াটা খুবই গর্বের ব্যাপার। ২০১৮ সালের শুরু থেকেই, প্রতিটি বড় সিরিজের আগে আমরা একইভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা; সবগুলো সফরের আগেই আমরা কয়েকটি ব্যাপার স্পষ্ট করে নিয়েছিলাম। আমরা কী চাই এবং কী করতে যাচ্ছি।

প্রশ্ন : ব্যক্তিগতভাবে আপনার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিটা কী ছিল?

কোহলি : সব সময়ই দলের জন্য কিছু করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার কাছে তরুণ লড়াকু একটা দলকে নেতৃত্ব দিতে পারাটাই সবচেয়ে গৌরবের। শুধু খেলাটাই সব কিছু নয়, এটা একটা দীর্ঘ পথপরিক্রমা। অধিনায়ক হিসেবে সব কিছু সমান মনোযোগ দিয়ে দেখা, কারণ নেতা হিসেবে আমাকেই সব কিছুর উত্তর দিতে হতো।

প্রশ্ন : আপনার ব্যক্তিত্বের ধরনটাই হচ্ছে, জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতেই ফ্রন্টফুটে খেলা। আপনি অনেক মানুষের প্রেরণার উৎস, সর্বস্তরের মানুষের। এই ব্যাপারটা কিভাবে দেখেন?

কোহলি : আসলে কখনোই ভাবিনি যে এত মানুষ আমার জীবন থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজবে! আমার অগ্রাধিকার ছিল ভারতের হয়ে খেলা, যত দিন সম্ভব খেলে যাওয়া। সেটা এখনো আমার কাছে সব কিছুর ঊর্ধ্বে এবং সেটা সবার ওপরেই থাকবে। আমার জীবন, ক্যারিয়ার, খেলা—সব কিছু নিয়ে একটা ব্যাপার আমি বলতে পারি; সব জায়গায় মনে হয়েছে আমার মনটা ঠিক জায়গায় আছে। আমি কখনোই খুব হিসেবি মানুষ ছিলাম না, হতে পারবও না। আমি সব সময় মনের কথা, অনুভূতির কথা শুনেছি। অন্যরা কী ভাবছে সেটা নিয়ে সময় নষ্ট করার মতো সময়ও আমার নেই। কাউকে আঘাত দিয়ে বলতে চাচ্ছি না, অনেকেই আছে সব সময় ভাবে কী করছি, লোকে কী বলছে এ রকম। আমার কথা হচ্ছে, কারো পক্ষে সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন : ভারতের বিশ্বকাপ দল নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দীনেশ কার্তিককে দলে নেওয়া প্রসঙ্গে। আপনি অধিনায়ক হিসেবে কী মত রেখেছেন?

কোহলি : চাপের মুখে কার্তিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। এটা বোর্ডের সবাই একমত হয়েছে। কার্তিকের অভিজ্ঞতা আছে। বিশ্বকাপে ঈশ্বর না করুক, ধোনির যদি কিছু হয় তাহলে উইকেটের পেছনে সে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। আর ফিনিশার হিসেবেও সে ভালো করেছে।

প্রশ্ন : ধোনির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ খেলেছেন, জিতেছেন। সেই ধোনি এবার আপনার নেতৃত্বে বিশ্বকাপে খেলবেন। কেমন লাগছে ব্যাপারটা?

কোহলি : কী আর বলব তাঁকে নিয়ে! আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল উনার অধীনে। আমার মতো খুব কম মানুষই উনাকে কাছ থেকে দেখেছে। এমএসের একটা ব্যাপার তাঁকে সবার থেকে এগিয়ে রাখে, সেটা হচ্ছে সব কিছুর আগে দল। সব সময় দল আগে, যাই হোক না কেন। তার ওপর তাঁর কিপিং। এমন কোনো একটা ডিসমিসাল করে দেবে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেবে। এমএস এই খেলাটার চৌকসতম খেলোয়াড়দের একজন। তাঁকে উইকেটের পেছনে পাওয়াটা দলের জন্য একটা সম্পদ।

মন্তব্য