kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

মামুনুলের অলৌকিক গোলে ‘ফাইনাল’ জয়

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মামুনুলের অলৌকিক গোলে ‘ফাইনাল’ জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অবিশ্বাস্য এক ‘ফাইনাল’ জিতেছে আবাহনী। অনেক সমস্যা-সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকে জেগে উঠে তারা দুর্দান্ত এক ম্যাচ খেলেছে চেন্নাইয়ান এফসির বিপক্ষে। গোলের নাটকে জমে ওঠা ম্যাচটি মামুনুলের অলৌকিক এক গোলে আবাহনী ৩-২ গোলে জেতে। ৭ পয়েন্ট করে নিয়ে এএফসি কাপের গ্রুপে এখন আবাহনী ও চেন্নাইয়ান এফসি শীর্ষে আছে।

যেদিন হওয়ার সেদিন হবেই। শত পিছিয়ে থাকলেও শেষ বাঁশির আগে এগিয়ে যাবে কোনো না কোনোভাবে। ইনজুরির কারণে মারিও লেমোসের একাদশ সাজানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। দুই নিয়মিত ডিফেন্ডার তপু ও বাদশা মাঠের বাইরে, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফাহাদেরও ইনজুরিতে মৌসুম শেষ। এমন দুর্দশার মধ্যে ম্যাচ খেলতে নেমে তারা শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে। এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময় আধিপত্য করে খেলেও পায়নি গোলের দেখা। কিন্তু বিরতির পর এই ম্যাচ জমজমাট হয়ে ওঠে গোলের নাটকে। বেলফোর্ট গোল ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে ফেরায় স্বাগতিকরা একটু একটু বড় করে নিঃশ্বাস নেয়। সেই বুঝি আত্মবিশ্বাস ফেরা। কয়েক মিনিট বাদে আবার মাসি সাইগানির গোলে রাঙিয়ে যায় আবাহনী। কিন্তু মিনিট পাঁচেক বাদে সব রং লুটে নেন চেন্নাইয়ের আইজ্যাক। রক্ষণের ভুলে সেই গোল আর রাগে-ক্ষোভে বিষাদের ছায়া সর্বত্রই। এভাবেই যে সব সময় বাংলাদেশ ফুটবলের আশাভঙ্গের কাহিনি রচিত হয়েছে। হাত ফসকে যায় জয়। আবাহনীও বুঝি সেই দুর্ভাগ্যের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে। না! এবার সেটা হয়নি। ভাগ্য ঘুরিয়ে দিয়েছেন মামুনুল ইসলাম। মধ্য গগনের সূর্যের তেজ হারালেও এখনো ফুরিয়ে যাননি। ক্যারিয়ারে পড়ন্ত বিকেলে এই মিডফিল্ডারের ডান পায়ের ‘অলৌকিক’ এক গোলে আবাহনীর ভাগ্য লেখা হয়ে যায়!

গ্রুপের খেলা হলেও এটা ছিল তাদের ‘ফাইনাল’ ম্যাচ। হারলেই এএফসি কাপের ‘ই’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়। নিয়মিত চার খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে নামা স্বাগতিকরা ৬ মিনিটের মাথায় গোল হজম করে বসে। কর্নার কিকে ভিনীতের ভলি জাল খুঁজে নিলে শুরুতেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এভাবে পিছিয়ে পড়ে তাদের ম্যাচ জেতার রেকর্ড খুব নেই। তাই হতাশা দিয়েই শুরু হয় আবাহনীর ম্যাচ। কিন্তু গোলের পর খেলেছে আবাহনী চমৎকার, বারবার ফিরেছে শূন্য হাতে। ২০ মিনিটে হাইতির ফরোয়ার্ড বেলফোর্টের শট চেন্নাইয়ান গোলরক্ষক করণজিৎ সিং সেভ করেন। মিনিট চারেক পর ওয়ালির বাঁক খাওয়ানো কর্নার এই গোলরক্ষক ফিস্টে রক্ষা করেন। এই চাপ ধরে রেখে ২৭ মিনিটে আরেক কর্নারেও সুযোগ তৈরি হয়, তবে বল গ্রিপে নিয়ে নেন চেন্নাইয়ের গোলরক্ষক। ৩৬ মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন জুয়েল রানা।

কিন্তু বিরতির পর পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়। আক্রমণের ধারা বজায় রেখে ৬০ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেও নাবিব নেওয়াজের সিদ্ধান্তহীনতায় নষ্ট হয় সেটা। ফাঁকা রক্ষণে একটু আগে বলটি ছাড়লেই হয়তো নাইজেরিয়ান সানডের গোলের উপলক্ষ তৈরি হতে পারত। সানডের চেয়ে এদিন মাঠে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ছিলেন বেলফোর্ট। ৬৪ মিনিটে এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড আফগান ডিফেন্ডার মাসি সাইগানির পাঠানো লং বলটি বুকে নামিয়ে ডান পায়ে ফিনিশ করেন দূরের পোস্টে। ম্যাচে ফেরা আবাহনী মিনিট পাঁচেক বাদেই এগিয়ে যায় সেই আফগান ডিফেন্ডারের দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে। বাঁ পায়ের অবিশ্বাস্য এক শট চেন্নাইয়ের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে পৌঁছে যায় জালে। সেই লিডের কয়েক মিনিট বাদেই, অর্থাৎ ৭৪ মিনিটে আবাহনীর রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে আইজ্যাক ম্যাচে ফেরান চেন্নাইয়ানকে।

ওখানেই সব শেষ ধরে নিয়েছিল সবাই। ৮৮ মিনিটে রায়হানের লম্বা এক থ্রো-ইন প্রতিপক্ষের রক্ষণ ক্লিয়ার করলেও সেটি পড়ে মামুনুলের পায়ে। তা-ও ডান পায়ে! এই পায়ে তাঁর গোলের সুখ্যাতি না থাকলেও কাল দুর্দান্ত এক শটে আবাহনীর ফাইনাল জেতা হয়ে যায়। প্রতিপক্ষ কোচ জন গ্রেগরিও বিস্মিত, ‘আমার বিশ্বাস, সে এ রকম শট দ্বিতীয়বার নিতে পারবে না।’ দ্বিতীয়বার আর লাগবে না হয়তো। মোক্ষম সময়ে তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ ডান পায়ের দুর্দান্ত এক গোলের সন্তুষ্টি নিয়ে মহা আনন্দে আছেন আবাহনী কোচ মারিও লেমোস, ‘এটা অবিশ্বাস্য এক গোল। মামুনুল দুর্দান্ত খেলেছে রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে ফিরে। আমি চাই খেলোয়াড়রা আমাকে ভুল প্রমাণ করুক। তারা সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রমাণ করুক।’ মামুনুল ম্যাচসেরা হলেও বেলফোর্ট-মাসিরাও দুর্দান্ত খেলেছে। তাঁরাও এই ফাইনালে নিজেদের প্রমাণ করে আবাহনীর এএফসি কাপে দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন ধরে রেখেছেন।

মন্তব্য