kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

ছন্দহীন বোলিং সাদামাটা ফিল্ডিং

জায়েদের ৫ উইকেট

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ছন্দহীন বোলিং সাদামাটা ফিল্ডিং

আয়ারল্যান্ড ইইউর সদস্য দেশ। তবে ওদের ক্রিকেট অর্থনীতি তৃতীয় বিশ্বের! তাই এক দিনের ট্যুর ফি কম দেওয়ায় ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রতি উষ্মার চেয়ে সমবেদনাই বেশি বাংলাদেশ দলের। অথচ গতকাল ক্লনটার্ফের ম্যাচে আইরিশ ব্যাটসম্যানরাই কিনা তিন-তিনটি বল অপচয় করলেন! একেকটি কুকাবুরা বলের দাম ন্যূনতম ৮০ ডলার করে ধরলেও ২৪০ ডলার, আইরিশ ক্রিকেটের শূন্য ভাণ্ডার বিবেচনায় ক্ষয়ক্ষতিটা সামান্য নয়!

পল স্টার্লিং আর উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডদের হোটেলে রাখা হয়নি, যাঁর যাঁর বাসা থেকে এসে ম্যাচ খেলছেন তাঁরা।  কেন স্বাগতিক দলকে হোটেলে রাখা হয়নি, তা নিয়ে সামান্য উচ্চবাচ্য নেই কোথাও। যদিও সবাই-ই জানে কারণটা, প্রধান নির্বাহীর নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া ঋণ দিয়ে যে ক্রিকেট বোর্ড চলে, অনন্যোপায় হয়ে বাংলাদেশি একটি কম্পানির কাছে বিপণনের ধরনা দেওয়া ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড অকারণে কেন হোটেল ভাড়া গুনবে?

তো, কুড়িয়ে-বাড়িয়ে চালিয়ে নেওয়া আইরিশ ক্রিকেট সংসারে অবশ্য ওই ২৪০ ডলার নিয়ে কোনো দুঃখবোধ নেই। ছক্কার বল হারিয়েছে বলেই তো স্কোরবোর্ডে ৮ উইকেটে ২৯২ রান উঠেছে। স্টার্লিং সেঞ্চুরি করেছেন, মাত্র ৬ রানের জন্য যে ল্যান্ডমার্ক ছোঁয়া হয়নি পোর্টারফিল্ডের। আবু জায়েদ রাহি শেষ স্পেলে এসে টপাটপ শিকার তুলে প্রথমবার ৫ উইকেট না নিলে হয়তো পোর্টারফিল্ডের সেঞ্চুরি এবং আয়ারল্যান্ডের তিন শও হয়ে যেত।

আর এই তিন শ তো খুঁজছিল বাংলাদেশও। বিশ্বকাপে অন্তত গোটা চারেক ম্যাচে তিনশোর্ধ্ব ইনিংসের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে—এমনটা ডাবলিনে বসেই ধরে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই রান স্বর্গে যাওয়ার আগে নিজেদের অনভ্যস্ত তিন শর পাঠ নিতে উদগ্রীব মাশরাফি বিন মর্তুজারা। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই তিন শ ছাড়িয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের বিপক্ষে আড়াই শর আশপাশেই থেকে গেছে। তাতে বিশ্বকাপ পূর্বাভাসে দেখতে পাওয়া তিন শর প্র্যাকটিস আর হয়নি বাংলাদেশের। একাদশে তিনটি পরিবর্তন, বোলিং পরিবর্তন আর কখনো কখনো শরীরী ভাষা দেখেও বিভ্রম হয়েছে গতকাল যে, তবে কি আইরিশদের ইনিংসটাকে বাড়তে নীরবে সাহায্যই করছে বাংলাদেশ!

তেমনটি হওয়ার অবশ্য কারণ নেই। যেকোনো ম্যাচ জয়েরই গুরুত্ব আছে, অন্তত পরিসংখ্যানগত কারণে তো বটেই। তা ছাড়া গতকালই প্রথম সুযোগ পেয়েছেন লিটন কুমার দাশ ও মোসাদ্দেক হোসেন। চোটসংক্রান্ত ফিসফাস বন্ধ করায় বদ্ধপরিকর থাকার কথা রুবেল হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। সাকিব আল হাসানের সামনে তো দারুণ এক ল্যান্ডমার্ক দুবাহু মেলে দাঁড়িয়ে। আর একটি উইকেট পেলেই সবচেয়ে কম ম্যাচে আড়াই শ উইকেট ও পাঁচ হাজার রানের ‘ডাবল’। কিন্তু তাঁর এক ওভারেই উঠেছে ২৩ রান। দুঁদে ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদও মনে করতে পারলেন না ওয়ানডেতে এর আগে এক ওভারে এতগুলো রান দিয়েছিলেন কি না সাকিব।

দলের সেরা বোলারকে নমুনা ধরলেই বোধগম্য আইরিশদের অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত মেলে। আগের দুই ম্যাচে শ্রেয়তর প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন ইকোনমিতে বল করা সাকিব গতকাল ৯ ওভারে গুনেছেন ৬৫ রান! সেই দুইবারের ‘ফাউন্ডার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার জয়ী মাশরাফি বিন মর্তুজা ৮ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে উইকেটহীন। তাঁর এক ওভারেই বল হারিয়েছে দুইবার! দলের শীর্ষ বোলারদের যখন ‘অফ ডে’ যায়, তখন বোলিং পরিকল্পনায় গোলমাল হতে বাধ্য।

অবশ্য অতটা না হলেও বাংলাদেশের বোলিং যে ম্যাচে কঠিন পরীক্ষায় বসবে, তা অনুমিতই ছিল। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে জসপ্রিত বুমরাহ কিংবা রশিদ খান নেই। অনেকটা অর্কেস্ট্রার মতো। একজনের সুর-তাল কেটে গেলেই সর্বনাশ। বিশ্বকাপের আগে বাকিদের দেখে নিতে এ ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজকে খেলায়নি বাংলাদেশ। অথচ মিরাজই আগের দুই ম্যাচে প্রথম লাগাম ধরেছিলেন ক্যারিবীয় ইনিংসের। সাকিব সেই লাগামে টান দেওয়ার পর মাশরাফি-মুস্তাফিজ সেটি মুঠোয় পুরে কর্তৃত্বের চাবুক মেরেছেন ক্যারিবীয় ইনিংসে। মোসাদ্দেকের অফস্পিনে মিরাজের নিয়ন্ত্রণ নেই। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই ৫ উইকেট নেওয়া আবু জায়েদ মুস্তাফিজের প্রতিচ্ছবি নন। আবার আবু জায়েদ যে ধাঁচের বোলার তাতে তাঁকে নতুন বল দিতেই হবে। অন্যদিকে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবার মাঠে নামা রুবেল হোসেনকেও নতুন বল না দিলে অবিচার হবে। তাই নতুন বলে ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে অভ্যস্ত মাশরাফি গতকাল আক্রমণেই এসেছেন ২৯তম ওভারে।

এটা বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড অব ক্রিকেটে বিলাসিতার নামান্তর। সে সুযোগও অবশ্য মিলেছে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায়। তাতে মনে হতেই পারে মুখে যতই জয়ের জন্য মরিয়া ভাব প্রকাশ করা হোক না কেন দলের পক্ষ থেকে, আদতে গতকালের আয়ারল্যান্ড ম্যাচকে ‘গবেষণাগার’ই মনে করেছে বাংলাদেশ। সে সূত্রেই কি ক্যাচ পড়েছে গোটা তিনেক? ফিল্ডারের শরীরের নিচে দিয়েও বল গেছে মাঝেমধ্যে। ক্যাচ ফেলা এবং এমন মিস ফিল্ডিংয়ের ‘আলামত’ রয়েছে স্টার্লিংয়ের ১২৭ বলের সেঞ্চুরিতেও। তা ছাড়া পোর্টারফিল্ডও সেঞ্চুরি বঞ্চনার মাঝে প্রতিপক্ষ ফিল্ডারের বদান্যতার জন্য মনে মনে কৃতজ্ঞবোধ করে থাকতে পারেন!

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা