kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

পাগুলে রাতে টটেনহামের শেষ হাসি

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাগুলে রাতে টটেনহামের শেষ হাসি

এমন ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসেই গুটিকয়েক হয়। ৭ গোলেও যা শেষ হতে চায় না! মুহূর্তের বিষাদ রূপ নেয় পাগল করা আনন্দে, তীব্র আনন্দের ঢেউ থেকে ফের হারিয়ে যেতে হয় অতলে। ম্যানসিটি-টটেনহাম, হরহামেশাই তো দেখা হয় তাদের লিগে। কবে তা কাঁপন ধরিয়ে দিতে পেরেছে এমন ফুটবলবিশ্বে, পরশু রাতে যেমন হলো।

টটেনহামের মাঠে ১-০ তে হেরে এসে গোল ছাড়া আর কিছুই বুঝতে চাইছিলেন না পেপ গার্দিওলা। ম্যাচ শুরুর ৪ মিনিটেই রহিম স্টার্লিং অসাধারণ এক বাঁকানো শটে সেই নিশানাভেদে যেন বলতে চেয়েছিলেন আজকের দিনটা তাদেরই। অদৃশ্যে তখন কেউ মুচকি হেসেছে নিশ্চিত। সপ্তম মিনিটেই সন হিউং মিন, আগের লেগের জয়ের নায়ক, ইত্তিহাদেও গোল পেলে অন্য রকম একটা কিছুর আভাস পাওয়া যায় ঠিক। তাই বলে এতটা! ম্যাচটা দেখতে বসতে মিনিট বিশেক দেরি করে থাকলে কেউ চোখ কপালে উঠে যাওয়ার কথা তাঁর স্কোরলাইন দেখে। সেখানে ৩-২। স্টার্লিংয়ের সেই গোল, সনের তা ফিরিয়ে দেওয়ার পরও পাগুলে ফুটবল চলেছে টানা। সিটি ডিফেন্ডার আইমেরি লাপোর্তের ভুল পাসে বল পেয়ে বক্সের ওপর থেকে ঠাণ্ডা মাথায় প্রথম গোলটা করেছিলেন সন, পরেরটা আরেকটু বাঁ থেকে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসনের পাসে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠিয়েছেন। ম্যাচের তখন মাত্র ১০ মিনিট। হোমে ১-০তে এগিয়ে থাকা টটেনহাম অ্যাওয়েতেও দুই গোল করে ফেলে সিটিকে সত্যিকার অগ্নিপরীক্ষায় ফেলে দেয়। কিন্তু পাগুলে ম্যাচে এসব ভাবার সময় থাকলে তো, মিনিটের ব্যবধানেই বের্নান্দো সিলভা তাই করে ফেলেন ২-২। সের্হিয়ো আগুয়েরোর বাড়ানো বলে তাঁর বাঁ পায়ের শট ড্যানি রোজের গায়ে লেগে বিভ্রান্ত করে উগো লরিকেও। এরপর আবার স্টার্লিং, এবার ডি ব্রুইনের ক্রসে ট্যাপ ইন ইংলিশ ফরোয়ার্ডের।

প্রথমার্ধ পর্যন্ত এই স্কোরলাইন টিকে যায়, তাতেও সিটি আসলে পিছিয়েই থাকে দুই লেগ মিলে অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে। সেখান থেকে কোনাকুনি এক শটে দুর্দান্ত এক গোল করে তাদের উদ্ধার করেন সের্হিয়ো আগুয়েরো। পরের নাটক, রোমাঞ্চ পুরোটাই উপহার আসলে ভিএআরের। কর্নার থেকে ফের্নান্দো লরেন্তের গোল হাত না কোমরে লেগে, তা নিয়ে দ্বিধার মধ্যে ভিএআর রায় দেয় লরেন্তের পক্ষেই। সেই ভিএআর শেষ সময়ে স্টার্লিংয়ের ‘জয়সূচক’, ‘হ্যাটট্রিক পূরণ করা গোল’ বাতিল করে টটেনহামকেই পৌঁছে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে। স্টার্লিংকে বল দেওয়া অ্যাগুয়েরো মূলত ছিলেন অফসাইডে, ভিডিওর সহায়তা ছাড়া রেফারির পক্ষে তা ধরা প্রায় অসম্ভব ছিল। স্টার্লিং বল জালে পাঠানোর পর ইত্তিহাদজুড়ে বুনো উদ্‌যাপনও তাই হয়ে যায় এক দফা, ভিএআর সেটাই পাল্টে প্রাণ ফিরিয়ে দেয় টটেনহামকে। নাটকীয় এই জয়েই ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপীয় এই আসরের সেমিফাইনালে উঠেছে তারা। সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে এই আসরের রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাসকে বিদায় করে নতুন রূপকথা আয়াক্সকে। বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ লিভারপুল, যারা পোর্তোকে ঘরের মাঠে ২-০তে হারিয়ে ফের তাদের মাঠে গিয়ে জিতেছে ৩-১ গোলে। বিবিসি

মন্তব্য