kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

অনিশ্চয়তায় রাখাটা পছন্দ না ফারুকের

ম্যানেজমেন্ট দলটি নিয়ে একটু অনিশ্চয়তায় আছে। এটি আমার ভালো লাগেনি। আমি দেখেছি যে ২৩ মে পর্যন্ত সময় আছে, তারা এটি নিয়ে এখনো চিন্তা করছেন। এমন চিন্তা আসলে পুরো দলকে আত্মবিশ্বাস দেবে না।

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনিশ্চয়তায় রাখাটা পছন্দ না ফারুকের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সুযোগ কারো একার জন্য নয়, সেটি সবার জন্যই উন্মুক্ত রেখেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ২৩ মে পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন আনতে পারবে যেকোনো দেশই। সেই সুযোগ অনেকে নিচ্ছেও। আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের পারফরম্যান্স তাই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জন্য। আইরিশদের বিপক্ষে একটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দেখে তবেই বিশ্বকাপ দল চূড়ান্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ইংল্যান্ডও। কাজেই বিষয়টি এমন নয় যে শুধু বাংলাদেশই সেই ফর্মুলা অনুসরণ করছে। যদিও অন্যরা যে যা-ই করুক, বাংলাদেশের এই ভাবনায় সায় নেই ফারুক আহমেদের। সফল দুটি বিশ্বকাপে প্রধান নির্বাচক হিসেবে কাজ করা বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক মনে করেন, এতে করে এখন ১৫ জনের দলে জায়গা পাওয়া ক্রিকেটারদের অনেকে আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে পারেন। যার ফল ভালো নাও হতে পারে।

২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে হওয়া বিশ্বকাপের সময় প্রধান নির্বাচক ছিলেন ফারুক। সেবার ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাক্রমশালী দলকে হারানো বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ গেছে ২০১৫-তে। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সাফল্যেও প্রধান নির্বাচক হিসেবে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। এবার বাইরে থেকে দল বিশ্লেষণ করতে বসে তেমন কোনো খুঁতও পাননি। তবে নীতিনির্ধারকরা যে আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর দলে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন, তাও ভালো চোখে দেখতে পারছেন না ফারুক, ‘‘ম্যানেজমেন্ট দলটি নিয়ে একটু অনিশ্চয়তায় আছে। এটি আমার ভালো লাগেনি। আমি দেখেছি যে ২৩ মে পর্যন্ত সময় আছে, তারা এটি নিয়ে এখনো চিন্তা করছেন। এমন চিন্তা আসলে পুরো দলকে আত্মবিশ্বাস দেবে না। কারণ খেলোয়াড়রা এত বড় একটি টুর্নামেন্টে খেলতে যাবে। আমরা সবাই জানি যে জুন-জুলাইয়ে বিশ্বকাপ হবে। এটির পরিকল্পনা হওয়া উচিত ছিল আরো ছয়-সাত মাস আগে থেকেই। সেটিও হয়েছে কিন্তু সঙ্গে এটিও বলে দেওয়া হয়েছে যে আয়ারল্যান্ড সিরিজের পারফরম্যান্সের পর পরিবর্তন আসতে পারে দলে। এটিকে আমি খুব ভালোভাবে দেখছি না। এতে করে খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগবে। ‘ভালো না খেললে বাদ পড়ে যেতে পারি’—এই চিন্তা আসতে পারে ওদের মনে। এসব না বলে যদি বলা হতো এটিই আমাদের সেরা দল এবং যারা ফর্মে নেই, তাদের ফর্মে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসটা ভালো জায়গায় থাকত। এই দিক থেকে আমার মনে হয়েছে, একটু দূরদর্শিতার অভাব ছিল ম্যানেজমেন্টের।’’

এই একটি জায়গায় আপত্তি থাকলেও দল নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই ফারুকের। একজন লেগস্পিনার রাখা গেলে ভালো হতো জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই দলটি বর্তমান সময়ের সেরা দল হয়েছে। একজন লেগস্পিনার রাখা গেলে খুব ভালো হতো। যা দলে বৈচিত্র্য দিতে পারত। যেহেতু আমাদের লেগস্পিনার নেই, তাই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে অফস্পিনার রাখা হয়েছে। ব্যাটসম্যানও আছে পাঁচ-সাতজন। কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার আছে, যাদের তিনটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আমি আশা করব, এই দলটি বিশ্বকাপে ভালোই করবে।’

মন্তব্য