kalerkantho

সেই বার্সেলোনা সেই মেসি

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই বার্সেলোনা সেই মেসি

বার্সেলোনার মাঠ ন্যু ক্যাম্পেই ঘটেছিল সেই অলৌকিক ঘটনা! ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে, অষ্টম মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে থাকা দলটাই ইনজুরি সময়ের শেষ তিন মিনিটে দুটি গোল দিয়ে জিতেছিল ইউরোপসেরার মুকুট। ৯৩ মিনিটে গোল করে শিরোপা জয়ের নায়ক ছিলেন ওলে গানার শোলসকায়ের, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান কোচ। অথচ ম্যানইউর চ্যাম্পিয়নস লিগের নেমেসিস এই বার্সেলোনাই! তিন মৌসুমের ভেতর দুইবার ফাইনালে উঠে দুইবারই বার্সেলোনার কাছে হারতে হয়েছে রেড ডেভিলদের, দুইবার ব্যবধান গড়ে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এবার দৃশ্যপট কোয়ার্টার ফাইনাল, শোলসকায়ের ফিরেছিলেন তাঁর পয়া মাঠে। কিন্তু ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরে এলেন ৩-০ গোলে হারের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে। এবারও মেসির ঝলকে ফিকে হয়েছে ম্যানইউ, তবে নিজেদের ভুলও কম নয়। বিশেষ করে গোলরক্ষক দাভিদ দে গিয়া যেভাবে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটা হতে দিলেন, তাতেই ঠিক হয়ে যায় নিয়তি।

বছর দুই আগে, স্টকহোমে আয়াক্সকে হারিয়ে ইউরোপা লিগের শিরোপা জিতেছিল ম্যানইউ। সেই দলে ম্যাথিয়াস ডি লিট, হাকিম জিয়েচ, ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ংরাই ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তাঁরা যখন জুভেন্টাসকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার উল্লাস করছেন, তখন পগবা-লিনগার্ড-রাশফোর্ডরা ধরছেন বাড়ির পথ। ম্যাচের ৪০ সেকেন্ডেই গোলবারে বল লাগিয়েছিলেন রাশফোর্ড, গোলটা হলেই হয়তো পাল্টে যেত ম্যাচের রং। তেমনটা হলো না, বার্সার পক্ষে একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্তও খারিজ হয়ে গেল ভিএআরে। এরপর ম্যাচের ১৬ মিনিটে মেসি করলেন মেসিসুলভ গোল! ছোট জায়গায়, জনাদুয়েককে কাটিয়ে, বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে। মিনিট দুই পর আবারও কাছাকাছি দূরত্ব থেকেই শট নিলেন মেসি, এবারেরটা বেশ কমজোরি। দে গিয়া যেভাবে বলটাকে শরীরের নিচ দিয়ে গোলে ঢুকতে দিলেন, তাতে নির্বাক গ্যালারির লাল অংশটা। এখানেই আসলে ম্যাচের ইতি। ফিলিপে কৌতিনিয়ো গোল করে কফিনে ঠুকেছেন শেষ পেরেকটা। এই ম্যাচের আগে ম্যানইউর বিপক্ষে দুটো ফাইনালে গোল করেছিলেন মেসি। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে সেই ম্যানইউকে পেয়ে গোল করে ঘুচিয়েছেন শেষ আটের গোলখরা। ২০১৩ সালের এপ্রিলে, পিএসজির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করেছিলেন মেসি। এরপর ১২ ম্যাচ ও গোলমুখে নেওয়া ৫০টি শট ছিল নিষ্ফলা, সেই ম্যানইউকে সামনে পেয়েই মেসি স্বরূপে আবির্ভূত। ইংল্যান্ডের দলের বিপক্ষে মেসির গোল হলো ২৪টি, স্বভাবতই সবচেয়ে বেশি! বার্সেলোনার হয়ে মৌসুমে গোলসংখ্যা হয়েছে ৪৫, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অন্য শীর্ষ গোলদাতারা কমপক্ষে ১০ গোল পেছনে। অন্যদিকে ম্যানইউর জন্য শুধুই লজ্জার পরিসংখ্যান। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলে হার তাদের ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বড় হার। সপ্তমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় আর মৌসুমে পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে হার, সবই যে লজ্জার রেকর্ড। এমন হারের পর কোচের কী-ই বা বলার থাকে! শোলসকায়ের অকপটেই মেনেছেন বার্সেলোনার শ্রেষ্ঠত্ব, ‘মেসি আসলে সর্বোচ্চ মানের খেলোয়াড় এবং সে-ই আসলে ব্যবধান। বার্সেলোনা আসলে আমাদের চেয়ে কয়েক ধাপ ওপরে। সেখানে যেতে হলে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হবে।’ বিবিসি

মন্তব্য