kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

বিশ্বকাপ মহাতারকা হওয়ার মঞ্চও

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বকাপ মহাতারকা হওয়ার মঞ্চও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে বিশ্ব আসরে খেলা প্রথম ম্যাচটির কথা মনে না পড়ে পারেই না তামিম ইকবালের। প্রচারের সব আলো কেড়ে নেওয়া ভারতের বিপক্ষে ফিফটিতে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক রঙিন করা এই বাঁহাতি ওপেনার এমন আগ্রাসী ব্যাটিং করেছিলেন যে রাতারাতি বনে গিয়েছিলেন তারকাও। এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের সাত ক্রিকেটারের সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনতে তামিম দেখাচ্ছেন সেই তারকা হওয়ার লোভই।

একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পণ্যদূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হতে গিয়ে গতকাল স্থানীয় এক হোটেলে বলছিলেন, ‘অবশ্যই বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে তারকারা জন্ম নেয়। বিশ্বকাপে ভালো করলে আপনি এক রাতেই হয়তো সুপারস্টার বনে যাবেন। এটি সব তরুণ ক্রিকেটারের জন্যই ভালো সুযোগ। ওরা কতটা ভালো, তা দেখানোর জন্য।’ সময়ে অভিজ্ঞ হওয়া ফাস্ট বোলার রুবেল হোসেনও যেমন সত্যিকারের তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন ২০১৫-র বিশ্বকাপে। অ্যাডিলেড ওভালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার ম্যাচে ৫৩ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। জয়ের জন্য রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার অবসানও ঘটেছিল তাঁর বোলিংয়েই। তিন বলের মধ্যে শেষ দুই ব্যাটসম্যান স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসনকে বোল্ড করে উৎসবের মধ্যমণিও হয়ে গিয়েছিলেন রুবেল।

নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপের আগে তাই আরো বড় কিছুর লক্ষ্য স্থির করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে সেরা পাঁচ বোলারের একজন হওয়ার ইচ্ছা এই ফাস্ট বোলারের, ‘আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেক দিন থেকে খেলছি। অবশ্যই আমার স্বপ্ন বিশ্বকাপে পাঁচজনের মধ্যে থাকার। আমাদের খেলাও আছে ৯টি। সুতরাং সেই সুযোগটিও বেশি।’ একই সঙ্গে দলের অবস্থানও অনেক উঁচুতেই দেখতে চান রুবেল, ‘বড় সব দলের সঙ্গেই খেলা আছে আমাদের। আমরা যদি তাদের বিপক্ষে জিততে পারি অথবা সেভাবে খেলতে পারি, তাহলে ভালো কিছুই হবে।’

সেই ভালো কিছু কত দূর বিস্তৃত হওয়া সম্ভব? প্রশ্নটি রাখা হয়েছিল তামিমের কাছেও। জবাব দিয়েছেন অবশ্য অন্যভাবেই, ‘কত দূর যাওয়া সম্ভব, এভাবে বলাটা আমার পছন্দের নয়। কারণ ১০টি দল খেলছে বিশ্বকাপে। কোনো দলই শুধু অংশ নেওয়ার জন্য যাচ্ছে না। সবাই যাচ্ছে জেতার জন্যই। আমরাও জেতার জন্যই যাচ্ছি। এটিই মাথায় রেখে যে আমরা জিততে চাই। যদি বলি শুধু অংশ নেওয়ার জন্য যাচ্ছি, তাহলে যাওয়ার কোনো মানেই হয় না। আমার কথা হলো, আমরা পারি বা না পারি, আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা জিততে পারি। এই বিশ্বাসটা নিয়েই আমাদের যেতে হবে।’

দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান নিজের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, ‘কোনো লক্ষ্য স্থির করাটা আমার পছন্দের নয়। দল আমার কাছে যে জিনিসটা দাবি করবে, আমি যেন তা দিতে পারি। এটিই আমার এক নম্বর লক্ষ্য।’ বিশ্বকাপের আগে নিজের ভুল-ত্রুটিও শুধরে নিতে চান, ‘সবার শক্তি ও দুর্বলতার জায়গা থাকে। আমি চেষ্টা করব আমার দুর্বলতার জায়গায় ৫-১০ শতাংশ উন্নতি করতে। বিশ্বকাপের আগে এতটুকু করতে পারলেও তা আমার কাছে অনেক।’

দল ঘোষণার পর এখন ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য তাঁদের পাশে থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তামিম। দলে কে থাকলে ভালো হতো বা কে নেই, তা নিয়ে আলোচনা থামানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দল গড়া খুব সহজ কাজ নয়। অবশ্যই কিছু খেলোয়াড় আছে যারা খুব ভালো করেও এখানে জায়গা পায়নি। আমার মনে হয়, এখন কে থাকা উচিত ছিল বা কে থাকলে ভালো হতো, এই আলোচনা না করে দলে থাকা ১৫ ক্রিকেটারের পাশে থাকা জরুরি। দিনের শেষে বাংলাদেশ দল ঘোষণা হয়ে গেছে। অমুকের জায়গায় তমুক থাকলে ভালো হতো, এমন আলোচনা করলে যারা সুযোগ পেয়েছে, তারা মন ছোট করবে। আমরা চার বছর অপেক্ষা করেছি বিশ্বকাপের জন্য। এখন মন ছোট না করে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করা উচিত।’ একই সঙ্গে বিশ্বকাপের জন্য ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়াকেও ভীষণ জরুরি বলে মনে করছেন তামিম, ‘মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় হবে কী, আপনি ৫০ দিন অনুশীলন করেছেন কিন্তু মানসিকভাবে প্রস্তুত নন, তাহলে ওই ৫০ দিন আপনাকে খুব বেশি সাহায্য করবে না।’

মন্তব্য