kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

আরেকটু এগোল রূপগঞ্জ

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরেকটু এগোল রূপগঞ্জ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটি জিতলেই চ্যাম্পিয়ন—এমন সমীকরণ নিয়েই ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের সুপার লিগ শুরু লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের। তা সে পথে কাল প্রথম পদক্ষেপ ফেলে ঠিকঠাক। নাঈম ইসলামের দল শিরোপার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল মোহামেডানকে ৪৬ রানে হারিয়ে। আর সেটি অধিনায়কের অধিনায়কোচিত সেঞ্চুরির সুবাদেই।

আবাহনী লিমিটেড ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব প্রথম পর্ব শেষ করে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চেয়ে ৪ পয়েন্টে পিছিয়ে। সুপার লিগে তাই শুধু নিজেদের ম্যাচগুলো জিতলে চলবে না দল দুটির; প্রার্থনা করতে হবে রূপগঞ্জের হোঁচটের। কাল আবাহনী নিজেদের ম্যাচে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবকে ১৬৫ রানে হারিয়ে পয়েন্টের ব্যবধান ৪-ই রেখেছে; শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা তাই টিকে আছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। তবে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের সম্ভাবনা কাল শেষই হয়ে গেল একরকম। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের কাছে ছয় উইকেটে হারায় ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে গেল তারা। সুপার লিগের শেষ চার রাউন্ডে এ ব্যবধান ঘুচিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কাগজ-কলমে হয়তো সম্ভব; তবে বাস্তবে অসম্ভব বৈকি!

বিকেএসপির ম্যাচে টসজয়ী মোহামেডান ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে। তিন অভিজ্ঞ অধিনায়ক নাঈম ইসলামের ১০৮ বলে ১০৮, মমিনুল হকের ৮৮ বলে ৭৮ এবং শাহরিয়ার নাফীসের ৬১ বলে ৬৮ রানে বড় সংগ্রহ দলটির। চার উইকেটে ৩১৩ রান করে থামে তারা। জবাবে মোহামেডান ৩০ ওভারে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে দেড় শ পেরিয়ে জয়ের আশা জাগায় খানিকটা। কিন্তু দুই সেট ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর (৭৩) ও রকিবুল হাসান (৫৮) আউট হওয়ার পর আর কেউ টেনে নিতে পারেনি ঐতিহ্যবাহী দলটিকে। ২৬৭ রানে অল আউট হয়ে ৪৬ রানে হেরে যায় তারা। আর এমন জয়ে শিরোপার সৌরভ আরো প্রবলভাবে ছড়াচ্ছে এখন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ক্যাম্পে। নিজেদের কাজটুকুন কাল ভালোভাবেই করেছে আবাহনী। আর সেটি কী দাপটের সঙ্গে! মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বোলিং আগুনে প্রাইম দোলেশ্বরকে পুড়িয়ে ১৬৫ রানের বিস্ফোরক জয় পায় তারা।

মিরপুরের ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষে এত বড় ব্যবধানের কথা ভাবা যায়নি। ওয়াসিম জাফর (৭১), নাজমুল হোসেনের (৭০) ব্যাটে অলআউট হওয়ার আগে ২৫১ রান তোলে আবাহনী। সেই তারা যে প্রতিপক্ষকে ৩০ ওভারের মধ্যে মাত্র ৮৬ রানে অলআউট করে দেবে, কে ভেবেছিলেন! বল হাতে সবচেয়ে বিধ্বংসী মিডিয়াম পেসার সাইফউদ্দিন। ছয় ওভার বোলিং করে মাত্র ৯ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন তিনি।

ফতুল্লার ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের জয়ে অপরাজিত সেঞ্চুরি নাসির হোসেনের। তাঁর ১১০ বলে অপরাজিত ১১২ রানে প্রতিপক্ষের ২৩৬ রান ছয় উইকেট হাতে রেখে টপকে যায় দল। তবু ম্যাচসেরা নাসির নন। বোলিংয়ে তিন উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ওপেনার হিসেবে নেমে ৬৭ রান করায় সে পুরস্কার ইলিয়াস সানির।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ-মোহামেডান

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ : ৫০ ওভারে ৩১৩/৪ (নাঈম ১০৮*, মমিনুল ৭৮, নাফীস ৬৮; আশরাফুল ২/৪৪)। মোহামেডান : ৪৬.২ ওভারে ২৬৭ (ইরফান ৭৩, রকিবুল ৫৮; শুভাশীষ ৩/৫৬)। ফল : লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৪৬ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : নাঈম ইসলাম।

আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বর

আবাহনী : ৪৯ ওভারে ২৫১ (জাফর ৭১, নাজমুল ৭০; জায়েদ ৩/৪৭, সাইফ ২/৩৭)। প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব : ২৯.৪ ওভারে ৮৬ (মাহমুদুল ২৭; সাইফউদ্দিন ৫/৯, সানজামুল ২/২৩)। ফল : আবাহনী ১৬৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

প্রাইম ব্যাংক -শেখ জামাল

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: ৪৮.৩ ওভারে ২৩৬ (আরিফুল ৭৪, রুবেল ৬৬; ইলিয়াস ৩/৩৫, তানভীর ৩/৪৩)। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব : ৪৮.৪ ওভারে ২৩৯/৪ (নাসির ১১২*, ইলিয়াস ৬৭; নাহিদুল ২/৩০)। ফল : শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ছয় উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ইলিয়াস সানি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা