kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

হকির নির্বাচন নিয়ে

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হকির নির্বাচন নিয়ে

আমাদের হকি নির্বাচনও আমরা চাই স্বচ্ছ, সুন্দর আর দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত করুক। নির্বাচন হলেই যে রাজনৈতিক সমর্থনের আদলে একটা স্বেচ্ছাচারিতার সৃষ্টি হয় সেটা যেন কলুষিত না করে ক্রীড়া পরিবেশকে, এটাই দাবি থাকবে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কাছে।

শুরুটা এভাবে করতে চাচ্ছি। প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নুসরাত জাহান রাফিকে যারা হত্যা করেছে আগুনে পুড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশকে একটি শৃঙ্খলা আর আদর্শে গড়তে চাইছেন। তবে সমস্যাটা দাঁড়াচ্ছে বহু দূরের বা নিচের সারির কিছু ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর দল আওয়ামী লীগ বা তার যেকোনো অঙ্গসংগঠনের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে নোংরামির চূড়ান্ত করে ফেলে, নুসরাত জীবন দিয়ে এটা প্রমাণ করে গিয়েছে।

আমাদের হকি নির্বাচনও আমরা চাই স্বচ্ছ, সুন্দর আর দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত করুক। নির্বাচন হলেই যে রাজনৈতিক সমর্থনের আদলে একটা স্বেচ্ছাচারিতার সৃষ্টি হয় সেটা যেন কলুষিত না করে ক্রীড়া পরিবেশকে, এটাই দাবি থাকবে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কাছে।

হকি নির্বাচন ছিল ৮ এপ্রিল। শিশু-কিশোর সংঘের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে হঠাৎ কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সেকান্দার হায়াত। এই কোর্ট ঝামেলার নিষ্পত্তি নিয়ে টানাপড়েনে নির্বাচন বেশ কদিন স্থগিত করা হয়েছিল। এ কে এম মমিনুল হক সাইদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাধারণ সম্পাদক পদে। তিনি আব্দুস সাদেকের বিরুদ্ধে লড়বেন। হকি এ মুহূর্তে বেশ সচল অবস্থাতেই আছে। খেলা চলছে মাঠে। এ অবস্থাটা বজায় রাখতেই হবে। হকি খেলাকে সুসজ্জিত করতে শুধু খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরতাই যথেষ্ট নয়। তৈরি করতে হবে আন্তর্জাতিক মানের আম্পায়ার। দরকার পড়বে প্রচুর কোচের। আমাদের হারুন, জামাল, কাওসার আলী, শুভ, নান্নু, নূরুল ইসলাম শুধু যোগ্যই নয় তারা ফলাফলও দিয়েছে। অভাব আছে ভিডিও অ্যানালিস্ট এবং ফিজিওর। স্বাধীন হয়েছি বহুদিন হলো, এখনো সারাক্ষণ সর্বক্ষেত্রে বিদেশের মুখাপেক্ষী না হয়ে দেশের যুবকদের উপযুক্ত করতে পদক্ষেপ নিতেই হবে। আজ পর্যন্ত বিদেশি কোচরা হকির কোনো ভালো ফলাফল দিতে পারে নাই অথচ ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ এমন একটি অর্থকষ্টে ভোগা ফেডারেশন থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে।

আমাদের জেলা পর্যায়ে ট্রেনিং ক্যাম্প করতে হবেই, বিভিন্ন জেলায় কোচ পাঠিয়ে হকি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করে এরপর ঢাকাতে কেন্দ্রীয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ শিবির করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। সেনাবাহিনীর নবীন হকি খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবির তৈরি করা দরকার। এখানে জামাল হায়দার, ওস্তাদ ফজলু এদের প্রশিক্ষণে গড়ে তোলা যায় একটি শক্ত হকি দল।

আবার নির্বাচনে ফিরে আসা যাক। ৮৩ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন পদের কর্মকর্তাকে। এদের বেশ বড় একটি অংশ ঢাকার বাইরের। উত্তেজনা বা ভয়ভীতিতে এনারা শঙ্কিত। নির্বাচনে এবার টাকার লেনদেন বা ভয়ভীতির আশঙ্কা আলোচনায় আসছে। এ অবস্থায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে নির্বাচন না করে ফ্যালকন হল বা আর্মি স্টেডিয়ামে ২৯ তারিখে ভোটের ব্যবস্থা করলে এরা অন্তত ‘গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা/কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’, এই ভরসাবিহীন অবস্থাতে পড়বে না। বর্তমান বিমানবাহিনী প্রধান হকির উন্নয়নে বেশ চিন্তাভাবনা করছেন, যা ভবিষ্যতের হকিকে আরো শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে। বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে আশা করব তিনি যাতে ফেডারেশনের সভাপতির দাবি-দাওয়াগুলো পরিপূর্ণ করতে যথাসাধ্য প্রচেষ্টা নেন। হকির এ মুহূর্তে দরকার অন্তত দুটি কৃত্রিম ঘাসের মাঠ। এ জন্য অন্তত ১০-১২ কোটি টাকার প্রয়োজন, আর এ অর্থ বরাদ্দ হলে হকি পাবে নতুন অক্সিজেন। শেষ করার আগে দুজন সাধারণ সম্পাদক প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছেই অনুরোধ থাকবে, যে ফলাফলই হোক, যেন এ কথা মনে রাখি :

‘I’d like to thank everyone who voted for me.

 And the one guy who didn’t vote for me, thank you too.’

 

মেজর চাকলাদার (অব.)

(লেখক সাবেক জাতীয় হকি দল অধিনায়ক এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা