kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

পরীক্ষিত আর তরুণদের ঝলকে ম্লান তারার আলো

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরীক্ষিত আর তরুণদের ঝলকে ম্লান তারার আলো

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জাতীয় দলের হয়ে নিজের সব শেষ ম্যাচ তিনি খেলেছেন সেই ২০১১ সালের অক্টোবরে। ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলে ছিটকে পড়া রকিবুল হাসানের সঙ্গে এরপর ক্রমেই বাংলাদেশ দলের দূরত্ব বেড়েছে। তা বাড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটিং দ্যুতি ছড়িয়ে নিয়মিতই খবরের শিরোনাম হয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। যেমন হয়েছিলেন ২০১৭-র মে মাসেও। বিকেএসপিতে চির প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ম্যাচে ১৩৮ বলে খেলেছিলেন ১৯০ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস। সেটি শেষ পর্যন্ত ৩৬৬ রান তাড়া করে মোহামেডানকে জেতাতে না পারলেও রেকর্ডের পাতায় অমলিন করে রেখেছে রকিবুলকে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশির খেলা সর্বোচ্চ ইনিংস যে সেটিই।

ব্যাকরণ মানা ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত রকিবুল মাঝেমধ্যেই জানান দেন যে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে চাহিদানুযায়ী আক্রমণাত্মক হতে জানেন তিনিও। চলতি ডিপিএলেও তেমন কিছু ঝলক দেখা গেছে। আসরের প্রথম পর্ব শেষে ব্যাটিংয়ের উজ্জ্বলতম নামটিও এই ব্যাটসম্যানেরই। জাতীয় তারকায় ভরপুর লিগেও বাংলাদেশ দলের ত্রিসীমানায় না থাকা রকিবুলই এখন পর্যন্ত এই ডিপিএলের সেরা ব্যাটসম্যান। মোহামেডানের হয়েই ১১ ম্যাচে এক সেঞ্চুরি ও পাঁচটি ফিফটিসহ ৬০.৫৫ গড়ে করেছেন ৫৪৫ রান। নিজের ব্যাটে একের পর এক ম্যাচ আবাহনীকে পার করে নেওয়া জহুরুল ইসলাম ১০ ম্যাচে দুটি করে সেঞ্চুরি আর ফিফটিতে ৬৬.৩৭ গড়ে ৫৩১ রান করে আছেন রকিবুলের ঠিক পরেই। যিনি নিজেই বিশ্বকাপ দলে নিজের কোনো জায়গা দেখেননি। প্রত্যাশা পূরণের ব্যর্থতায় জায়গা হারানো জহুরুল ২০১৩-র মে মাসের পর আর বাংলাদেশ দলে সুযোগ পাননি। গত কয়েক বছরে চোট-আঘাতের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে এবার আবার সামর্থ্যের স্ফুরণ তাঁর ব্যাটে। তারকাবহুল আবাহনীর ব্যাটিং লাইনে সফলতম নামটিও তাঁরই।

অথচ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্যাটে-বলের পারফরম্যান্সে যাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার কথা, তাঁদের বেশির ভাগই রীতিমতো নিষ্প্রভ এবারের ডিপিএলে। ব্যাটিংয়ের সেরা পাঁচে নেই এঁদের কেউই। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে পারেন বলে আলোচনায় থাকা মোসাদ্দেক হোসেনই শুধু আছেন ৯ নম্বরে। ১১ ম্যাচে এক সেঞ্চুরি ও চার ফিফটিতে ৫৩.৫০ গড়ে আবাহনী অধিনায়ক করেছেন ৪২৮ রান। বিশ্বকাপ দলের আরেক সম্ভাব্য ইয়াসির আলী চৌধুরী ১১ ম্যাচে ১০৫.৭৫ গড়ে ৪২৩ রান করে আছেন ১০ নম্বরে। পরের দিকে খেই হারালেও শুরুতেই টানা তিন সেঞ্চুরি করা এনামুল হক বিজয়ও ১১ ম্যাচে ৫১.১০ গড়ে ৫১১ রান করে আছেন তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে থাকা তরুণ সাইফ হাসানও পেরিয়েছেন পাঁচ শ। প্রথম ছয় ম্যাচেই দুটি করে সেঞ্চুরি আর ফিফটি করা এই তরুণ প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ১১ ম্যাচে ৫০৬ রান করেছেন ৫৬.২২ গড়ে। এনামুলের দল প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ৭ ম্যাচ খেলে ৪৯৬ রান করে যাওয়া ভারতীয় ক্রিকেটার অভিমন্যু ঈশ্বরণ আছেন পাঁচে, সেরা দলের একমাত্র বিদেশিও। গত মৌসুমের ধারাবাহিকতা তরুণ মোহাম্মদ নাঈমের ব্যাটেও। ছয় নম্বরে আছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ১১ ম্যাচে ৪২.১৮ গড়ে ৪৬৪ রান করে।

ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়েও আছে পুরনো পোড় খাওয়া ক্রিকেটার আর তারুণ্যের মিশেল। দোলেশ্বরের হয়ে ১১ ম্যাচে ২৭ উইকেট নেওয়া ফরহাদ রেজাই যেমন বোলারদের শীর্ষে। ২০১৪-র মার্চে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই অলরাউন্ডার গত বেশ কয়েক মৌসুম ধরেই ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ধারাবাহিক। ডিপিএলের গত আসরেও ১৬ ম্যাচে নিয়েছিলেন ২৯ উইকেট। তালিকার পরের দুটি নাম দুই তরুণের। ১১ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির ডানহাতি পেসার রবিউল হক। ১১ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে তিন নম্বরে থাকা বিকেএসপির বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদকে এবারের সবচেয়ে বড় চমকই ধরতে হয়। চার ও পাঁচ নম্বরে থাকা দুই পেসার দেলোয়ার হোসেন ও কামরুল ইসলামরা তো ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত পারফরমারই।

পোড় খাওয়া পরীক্ষিত ক্রিকেটার আর তারুণ্যের ঝলকে ডিপিএলের প্রথম পর্ব শেষে সত্যি সত্যিই ম্লান তারার আলো। যে তারাদের কিনা বিশ্বকাপের আগে আরো বেশি করেই জ্বলার কথা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা