kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

মানসিক প্রস্তুতিতেই জোর মাশরাফির

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানসিক প্রস্তুতিতেই জোর মাশরাফির

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দলে আছেন বলেই লিটন কুমার দাসকে ঘিরে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। কারণ তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক নয়। নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ওয়ানডেতে করেছেন মাত্র ৩ রান! এরপর টেস্ট সিরিজেও সুবিধা করে উঠতে না পারা এই ব্যাটসম্যানের ওপর থেকে তবু আস্থা হাুরাচ্ছেন না মাশরাফি বিন মর্তুজা। গত সেপ্টেম্বরে দুবাইতে ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপ ফাইনালে ১১৭ বলে লিটনের ১২১ রানের ইনিংসই ভরসা হারাতে দিচ্ছে না বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে।

গতকাল মিরপুরে এক পণ্যের পণ্যদূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার অনুষ্ঠানে মাশরাফি সেই ইনিংসেই বুঁদ হয়ে থেকে লিটনকে ঘিরে আশার দিকও দেখাতে চাইলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় সে ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে। ওর ব্যাটিংয়ে সেই সম্ভাবনাটা আছে। ব্যাটিং কোচও ওকে নিয়ে কাজ করছেন। ধারাবাহিকতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি লিটন পারবে। ওর সহজাত ব্যাটিংটা করতে পারলে আমাদের দলের জন্য অনেক বড় সুবিধা হবে।’

দরজায় যখন কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ, তখন উদ্বেগের জায়গাও আছে আরো অনেক। সেগুলোর মধ্যে মাশরাফি সবার ওপরে রাখলেন ‘ফিনিশিং’কেই। ব্যাটিং আগে করে হোক কিংবা পরে, ভালো শুরুও অনেক সময় ধরে রাখতে না পারার মাসুল গুনেছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ ফাইনালেই যেমন। লিটন আর মেহেদী হাসান মিরাজের ওপেনিং জুটি ১২০ রান তুলে দেওয়ার পরও বাংলাদেশ অল আউট হয়েছিল ২২২ রানে। এ রকম অসংখ্য নজির গত বেশ কয়েক বছরে। বিশ্বকাপ সামনে রেখে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ মাশরাফির।

ওয়ানডে অধিনায়ক অকপটেই বলেছেন, ‘ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা আছে আমাদের। এখানে আসলে জুনিয়রদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। পুরো দলেরই সমস্যার জায়গা এই যে আমরা খেলাটা শেষ করে আসতে পারছি না। শুধু রান তাড়া করার সময়ই নয়, আগে ব্যাটিং করেও ভালো জায়গা থেকে ভালো স্কোর গড়তে পারিনি আমরা। যে জন্য গত দু-তিন বছরে অনেক ক্লোজ ম্যাচ আমাদের হারতে হয়েছে।’ বিশ্বকাপেও এমন হলে তো বিপদ! মাশরাফির উদ্বেগ তাই থাকারই কথা, ‘বিশ্বকাপের মতো আসরে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমন কিছু ম্যাচ আসবেই। ৯টি ম্যাচ আছে প্রাথমিক পর্বে। কিছু ম্যাচ আসবে, যেগুলো ক্লোজড হবে। সুতরাং ফিনিশিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটি দলের জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখবে। এটি নিয়ে আমরা অবশ্যই উদ্বিগ্ন। আমার বিশ্বাস, ভুলগুলো আমরা কমাতে পারব। বলছি না যে শতভাগ সাফল্য পাব। কারণ এটি অনেক দিন ও প্রক্রিয়ার ব্যাপার। তবে আশা করছি সময়ের সঙ্গে এটি ঠিক হবে।’

মোটামুটি রূপরেখা চূড়ান্ত হয়ে থাকা বিশ্বকাপ দলে চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) পারফরমারদের বিবেচনা প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। যদিও এ আসরে অসাধারণ পারফরম করাই যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে সাফল্য পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়, ওয়ানডে অধিনায়ক মনে করিয়ে দিতে চাইলেন সেটিও, ‘আসলে ঢাকা লিগ নিয়ে তেমন একটা ভাবনা নেই। কারণ অনেকবার আমি দেখেছি যে এখানে কেউ দিনের পর দিন সেঞ্চুরি করেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে ধুঁকেছে। এখানে উইকেট বলেন বা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাবের কথা বলেন, এগুলো তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাছাকাছি নয়। এখানে অনেকে রান করে বা উইকেট পেয়েও ওখানে ভালো করতে পারে না।’ যদিও এবার ডিপিএলে পারফরমার অনেক। কয়েক বছর ধরেই দারুণ ধারাবাহিক অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজা। এনামুল হক (বিজয়) টানা তিন সেঞ্চুরিতে উজ্জ্বল। প্রথম পাঁচ ম্যাচে দুটো করে সেঞ্চুরি আর ফিফটিতে ৪০০-এর বেশি রান আরেক ওপেনার সাইফ হাসানের। তবে মাশরাফির কাছে বিশ্বকাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিকতা, ‘আমার কাছে মনে হয় মানসিকতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না এবং এর সঙ্গে সেই ক্রিকেটার নিজের খেলায় উন্নতির জন্য নির্দিষ্টভাবে কী কাজ করছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয় বিশ্বকাপ পুরোপুরি মেন্টাল গেম। এই এক-দেড় মাসে মানসিকভাবে কে কতটা তৈরি হতে পারছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা