kalerkantho

স্পেনের সঙ্গে জয়ে শুরু ইতালিরও

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্পেনের সঙ্গে জয়ে শুরু ইতালিরও

তাঁর কাঁধে তখন পাহাড়প্রমাণ চাপ। স্পেনের অধিনায়ক তিনি, নরওয়ের বিপক্ষে চোখ-ধাঁধানো ফুটবল খেলেও যে দল ৭০ মিনিটের সময় ১-১ সমতায়। সে সময় পেনাল্টি নিতে গেলে সের্হিয়ো রামোসের কিছুটা নার্ভাস হওয়াই তো স্বাভাবিক!

তা নার্ভাসই যদি হবেন, তাহলে আর তিনি রামোস কেন! ছোট্ট দৌড়ে বলে আলতো টোকায় নেন ‘পানেনকা পেনাল্টি’। নরওয়ের গোলরক্ষককে মাটিতে ফেলে বলের আশ্রয় জালে। রামোসের করা ওই গোলেই ইউরো বাছাই পর্বে জয়ে শুরু স্পেনের। স্পেনের হয়ে এটি তাঁর ১৬২তম ম্যাচে ১৮তম গোল। জাতীয় দলের জার্সিতে ডিফেন্ডারদের মধ্যে এর চেয়ে বেশি গোল শুধু আর্জেন্টিনার দানিয়েল প্যাসারেলার—২২টি। আর লুইস এনরিকের অধীনে এ নিয়ে টানা পঞ্চম ম্যাচে গোল করলেন অধিনায়ক। শুধু শুধুই তো স্পেনের কোচ পরশুর ম্যাচ শেষে অমন উচ্ছ্বসিত সনদ দেননি, ‘বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সের্হিয়ো রামোস এক অনন্য ফুটবলার।’

সেই অনন্য ফুটবলারের সেরাটা সব সময়ই বের করে আনে চাপ। ক্লাব দল রিয়াল মাদ্রিদে প্রায়ই দেখা যায় তা; জাতীয় দলেও। এই যেমন পরশুর ম্যাচে কী দাপট নিয়েই না খেলছিল স্পেন। ১৬তম মিনিটে রদ্রিগোর গোলে এগিয়েও যায়। এর আগে-পরে গোলের অসংখ্য সুযোগ মিস করে তারা। সেসবের খেসারত দেওয়ার আশঙ্কায় পেয়ে বসে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের; যখন ৬৫তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ম্যাচে সমতা ফেরান নরওয়ের জোসুয়া কিং। এর মিনিট পাঁচেক পর আলভারো মোরাতাকে করা ফাউলে পেনাল্টির বাঁশি বাজে স্পেনের পক্ষে। সেখানে কী ঠাণ্ডা মাথায় পানেনকায় আরো একবার ত্রাতা হিসেবে আবির্ভাব রামোসের!

ইউরো বাছাই পর্বের ‘এফ’ গ্রুপের অভিযান জয় দিয়ে শুরু করায় দারুণ খুশি স্পেন অধিনায়ক। কোচ এনরিকের সৃজনশীল আক্রমণাত্মক ফুটবল-দর্শন নিয়েও উচ্ছ্বসিত রামোস, ‘আমরা এখন নতুন কোচের অধীনে খেলছি; যাঁর ফুটবল-দর্শন দারুণ। যত ম্যাচ খেলব, ততই সেটির প্রকাশ দেখবেন সবাই। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন এক জয় আমাদের আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।’ আনন্দিত কোচ এনরিকেও, ‘দলের খেলা নিয়ে আমি খুব আনন্দিত। যদিও আজ আমাদের ৫-১ কিংবা ৬-১ গোলে জেতা উচিত ছিল। নরওয়ে আমাদের কাজ কঠিন করে তুলেছিল; যে কারণে সতর্ক থাকতে হয়েছে শেষ পর্যন্ত। আমরা শিখেছি, জয়ের জন্য কখনো কখনো কতটা ভুগতে হয়।’ বড় ব্যবধানে না জিতলেও খেলার ধরন তৃপ্তি দিচ্ছে কোচকে, ‘আমাদের জন্য এটি এক পরিপূর্ণ ম্যাচ। গোলের অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। এর ৫০ শতাংশও যদি কাজে লাগাতে পারতাম, তাহলে ফলটা আরো দুর্দান্ত হতো। কিন্তু তা হয়নি আর এটাই ফুটবল। খেলার ধরন ও জয়ে যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছি আমরা, তা সামনে কাজে দেবে।’

পরশু ‘এফ’ গ্রুপের অন্য দুই খেলায় সুইডেন ২-১ গোলে রোমানিয়াকে এবং মাল্টা ২-১ ব্যবধানে ফারো আইল্যান্ডসকে হারিয়েছে।

২০১৮ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে বাদ পড়ার পর নতুন পথচলা শুরু করেছে স্পেন। আর ইতালি তো ওই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বেই উঠতে পারেনি। তাদের শুরু তাই আক্ষরিক অর্থেই শূন্য থেকে। ২০২০ ইউরো বাছাই পর্বের শুরুটা মন্দ হয়নি রবের্তো মানচিনির দলের। ‘জে’ গ্রুপে ফিনল্যান্ডকে পরশু ২-০ গোলে হারিয়েছে ইতালি।

নিকোলো বারেল্লা ও ময়েস কিনের গোলে আজ্জুরিদের এ জয়। যেখানে প্রত্যাশিতভাবেই বেশি উচ্ছ্বাস ১৯ বছরের কিনকে নিয়ে। ১৯১২ সালের পর ইতালি জাতীয় দলের একাদশের সবচেয়ে কম বয়সী স্ট্রাইকার তিনি। আর ১৯ বছর ২৩ দিনে গোল করে হয়েছেন দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম গোলদাতা; ১৯৫৮ সালে ১৮ বছর ২৫৮ দিন বয়সে গোল করা ব্রনো নিকোলের পর। গ্রুপের অন্যান্য খেলায় বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা ২-১ গোলে আর্মেনিয়াকে এবং গ্রিস ২-০ গোলে লিচেনস্টেইনকে হারিয়েছে।

আর ‘ডি’ গ্রুপে সুইজারল্যান্ড ২-০ গোলে জর্জিয়াকে এবং আয়ারল্যান্ড ১-০ গোলে জিব্রাল্টারকে হারিয়েছে। এএফপি

মন্তব্য