kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

সোনালি দিন মনে করিয়ে দেওয়া লড়াই

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনালি দিন মনে করিয়ে দেওয়া লড়াই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন মোহামেডানের হয়ে খেলা মঞ্জুরুল ইসলাম এই দলে পারফরম করেই প্রথম জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই সময় চির প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে টইটুম্বুর গ্যালারিও খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি প্রাণশক্তির সঞ্চার করত। যদিও আবাহনী-মোহামেডান লড়াইয়ের সেই সোনালি দিন এখন শুধুই স্মৃতি। এখন আর দল দুটোর লড়াই দর্শক হৃদয়ে আলাদা কোনো আবেদন তৈরি করে না। তবু তারা আছে। প্রতিবছর নিয়ম মেনে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) তাদের দেখাও হয়। আর সে রকম ম্যাচ এসে গেলেই পুরনো সেসব দিনের গল্পে হাহাকার তৈরি হয়।

সেই হাহাকার ছড়াল গতকালও। কারণ চলতি ডিপিএলে আজই যে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী। এই ম্যাচের আগের দিন মঞ্জুরুলের খেলোয়াড়ি জীবনের মোহামেডান অধ্যায় উঠে আসার কারণ আজকের লড়াইয়ে তিনিও থাকছেন। এই আসরে যে সাবেক এই বাঁহাতি পেসার মোহামেডানের হেড কোচ, ‘আমি মোহামেডানের হয়ে খেলেছি ১৪ বছর। তবে কোচ হিসেবে এবারই প্রথম। মোহামেডানের পক্ষে পারফরম করেই কিন্তু আমার জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল।’ আবাহনী-মোহামেডান লড়াইয়ের পুরনো সেই ঝাঁজও ফেরানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তবে তাতে তাঁর নিজের কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই বলেও নিশ্চিত। তাহলে সেই উন্মাদনা ফিরবে কিভাবে? মঞ্জুরুলই দিচ্ছেন জবাবটি, ‘সেই উন্মাদনা ফেরানোর কাজটি করতে হবে খেলোয়াড়দেরই।’

তা ফেরানোর মতো খেলোয়াড়ের অভাবও দুই দলে নেই বলে মনে হচ্ছে মোহামেডান কোচের, ‘খেয়াল করে দেখুন, সেরা খেলোয়াড়দের অনেকেই কিন্তু এখনো এই দুই দলেই খেলছে।’ সেটি অবশ্য আবাহনীর ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য। মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে আছেন সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান ও রুবেল হোসেনরা, যাঁরা বর্তমান জাতীয় দলের সদস্যও। সেই সঙ্গে নিকট অতীতে জাতীয় দলে খেলা খেলোয়াড়ও কম নয়। অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত ও নাজমুল ইসলাম অপুরাও আছেন। তাঁদের নিয়ে দারুণ শক্তিশালী আবাহনী আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও। যদিও ঠিক আগের ম্যাচেই প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কাছে প্রথম হারের স্বাদ নিয়েছে তারা। পাঁচ ম্যাচের প্রথম চারটিতেই জেতা আবাহনী আজ আবার জয়ে ফিরতে মরিয়া হয়ে থাকবে। পাঁচ ম্যাচের দুটিতে হারা মোহামেডানের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামার আগে আবাহনী অধিনায়ক মোসাদ্দেকের মুখে অবশ্য এই দুই দলের লড়াইয়ের পুরনো সেই দিনও উঠে এসেছে, ‘আগের সেই উত্তেজনা এখন আর নেই। আগের মতো মাঠে বেশি দর্শকও হয় না এখন। আগে গ্যালারি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যেত। এক ভাগ আবাহনীর তো আরেক ভাগ মোহামেডানের। গ্যালারিতে পুরো ভরা থাকত। এখন গুটিকয়েক দর্শক থাকে। আমরা খেলোয়াড়রা নিজেদের মতো করে খেলি। অনেক বছর ধরে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ তো এভাবেই হচ্ছে।’

হচ্ছে, আগের মতো বাড়তি কোনো আবেদন তৈরি না করেই। তবু আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ বলে কথা! যে ম্যাচ এলেই এটা তো অন্তত মনে পড়ে পড়ে যে সে এক দিন ছিল!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা