kalerkantho

মেসির বিবর্ণ প্রত্যাবর্তন

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেসির বিবর্ণ প্রত্যাবর্তন

ফেরাটা সুখের হলো না লিওনেল মেসির। বিশ্বকাপের পর প্রথমবার জাতীয় দলে ফিরে ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে হারতে হলো ৩-১ গোলে। মেসি তাঁর জাদুকরী পায়ের ঝলক দেখালেও জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না সেটা। পড়েছেন আবার কুঁচকির চোটে। এ জন্য খেলা হচ্ছে না মরক্কোর সঙ্গে আর্জেন্টিনার পরের প্রীতি ম্যাচটিতে। আর্জেন্টিনা হারলেও অন্য প্রীতি ম্যাচে উরুগুয়ে ৩-০ গোলে উজবেকিস্তানকে, কলম্বিয়া ১-০ গোলে জাপানকে, যুক্তরাষ্ট্র ১-০ গোলে ইকুয়েডরকে আর দক্ষিণ কোরিয়া ১-০ গোলে হারিয়েছে লাতিন অঞ্চলের অন্য দল বলিভিয়াকে।

ওয়ান্দা মেত্রোপোলিতানোয় বিশ্বকাপের আগে স্পেনের কাছে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ভিআইপি বক্সে দলের অসহয় আত্মসমর্পণ যন্ত্রণা নিয়ে দেখেছিলেন মেসি। দাঁড়ি কামিয়ে  ‘অপয়া’ সেই মাঠে ফিরলেন মেসি। বিস্ময়করভাবে তিন সেন্টার ব্যাক নিয়ে দল সাজিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। রাইট ব্যাক গ্যাব্রিয়েল মেকার্দো কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো খেলতে পারেন সেন্টার ব্যাকে, তবে খুব স্বচ্ছন্দ নন। আর্জেন্টিনা প্রথম গোলটি খেয়েছেও তাঁর কারণে। দুই উইং ব্যাক গনসালো মনতিয়েল ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ব্রাজিলের কাফু বা রবার্তো কার্লোসের ধারেকাছের মানের নন, এ জন্য আক্রমণে গতি ছিল না আর্জেন্টিনার। মেসির দু-একটা ঝলকানিই যা ছিল ভরসা। এভাবে খেললে কোপা আমেরিকায় যে ভুগতে হবে তা মেনে নিলেন কোচ স্ক্যালোনি, ‘এই হার থেকে অনেক কিছু শিক্ষা হয়েছে। ম্যাচটি আমাদের বোঝাল মেসির পাশে কিভাবে খেলতে হবে অন্যদের।’

তার মানে এখনো জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা মেসির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা? সেই হতাশাই ঝরল আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড দারিও বেনদেত্তোর কণ্ঠে, ‘মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলার। যত দ্রুত সম্ভব ওর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে আমাদের।’

ষষ্ঠ মিনিটে সালোমন রনদনের গোলে এগিয়ে যায় ভেনিজুয়েলা। মাঝমাঠ থেকে রোসালেসের নিখুঁত থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সঙ্গে লেগে থাকা গ্যাব্রিয়েল মের্কাদোকে এড়িয়ে ডান পায়ের ভলিতে লক্ষ্যভেদ নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ডের। মেসি ৩০তম মিনিটে তিনজনকে কাটিয়ে নিখুঁত ক্রস দিয়েছিলেন লওতারো মার্তিনেসকে। তাঁর ডাইভিং হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। ৩৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির বাঁকানো শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান তিনি। ৪৪তম মিনিটে দ্রুত নেওয়া ফ্রিকিকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ ভেনিজুয়েলার জন মুরিয়োর।

বিরতির আগে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৫৯ মিনিটে এক গোল ফেরান লওতারো মার্তিনেস। মেসির পাস লো সেলসো হয়ে এসেছিল ইন্টার মিলানের ফরায়ার্ডটির কাছে, যা প্রথম স্পর্শে জড়ান জালে। ৭৫ মিনিটে হোসেফ মার্তিনেসের পেনাল্টি ৩-১ ব্যবধানের জয় এনে দেয় ভেনিজুয়েলাকে। অথচ এই ম্যাচের আগে ২৩ বারের দেখায় শুধু একবারই আর্জেন্টিনাকে হারাতে পেরেছিল তারা। ইএসপিএন

মন্তব্য