kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বপ্নে লড়ছে বাফুফে একাডেমি

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বপ্নে লড়ছে বাফুফে একাডেমি

নেপালে ফুটবল একাডেমির গল্প শুরু অনেক আগে। সঙ্গে চার টেকনিক্যাল সেন্টারের সুবিধায় নেপালি ফুটবলের সেই গল্প এগোচ্ছে তরতর করে। আর বাফুফের ফুটবল একাডেমি এখনো স্বপ্নে লড়াই করছে। সিলেটে একবার বাফুফে একাডেমির অপমৃত্যুর পর আবার শুরু হয়েছে নতুন তোড়জোড়।  

আনফা একাডেমি সব সময় ফুটবলারে মুখরিত থাকে। কোচ-খেলোয়াড় এবং ফুটবলসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে সেটা এখন নেপালি ফুটবলের প্রধান পীঠস্থান। সেখানে কথা হয় সুমন শ্রেষ্ঠাসহ আরো কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁদের বিশ্লেষণে নেপাল সিনিয়র দলের সব খেলোয়াড়েরই জন্ম আনফা একাডেমির মাধ্যমে। একাডেমিতে তৈরি হওয়ার পরই তাঁরা খেলেছেন ক্লাব দলে এবং জাতীয় দলে। নেপাল অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সহকারী কোচ সুমন শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘ললিতপুরে এটি আনফার জাতীয় একাডেমি। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরো চারটি টেকনিক্যাল সেন্টার আছে। প্রতিটি সেন্টারে আনফার দু-তিনজন কোচ কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্কাউটিং করে খেলোয়াড়দের আগে ওই সেন্টারগুলোতে নেওয়া হয়। কখনো কখনো বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের অনুশীলন হয়।’ চার টেকনিক্যাল সেন্টারেও খেলোয়াড়-কোচের আবাসনের ব্যবস্থা আছে। একাডেমির আগেই ফিফা গোল প্রজেক্টের আওতায় নেপালের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয় টেকনিক্যাল সেন্টারগুলো। এরপর তৈরি হয় ললিতপুরের ফুটবল একাডেমি। সেটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা ২০১২ সালে সাবেক ফিফা প্রেসিডেন্ট সেফ ব্ল্যাটারের হাতে।

ওই একাডেমির পাশেই তাদের অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। একাডেমিতে সারা বছর কাজ হয় অনূর্ধ্ব-১৪ বছর বয়সীদের নিয়ে। এই বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নেপালে হয় তিনটি টুর্নামেন্ট, হয় স্কুল ফুটবলও। এসবই ফুটবলার বাছাইয়ের উৎস। অন্য দলগুলোর ট্রেনিং হয় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থাকলে, দু-তিন মাস আগে থেকে। সম্প্রতি আনফা ঝুঁকেছে আরো কম বয়সীদের দিকে, শুরু করেছে তৃণমূল থেকে। আনফার চাকরির পাশাপাশি মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাবের কোচের দায়িত্ব পালন করা সুমন ব্যাখ্যা করেছেন তৃণমূলে যাওয়ার কারণ, ‘সত্যি বললে, আমাদের ফুটবল কিন্তু খুব এগোয়নি। একটা জায়গায় গিয়ে আটকে থাকে। কারণ আমাদের ফুটবলারদের বেসিকে ঘাটতি থাকে, টেকনিকে সমস্যা থাকে। সেটা কাটিয়ে উঠতেই তৃণমূলে যাওয়া। আমরা ৮ থেকে ১৩ পর্যন্ত তৃণমূল হিসেবে দেখি।’ ছোটবেলায় ফুটবলের সহজ পাঠ সঠিকভাবে না নিলে বড়বেলায় গিয়ে কঠিন হয়ে যায় খেলাটা। আনফা এ জন্য ৪৫টি জেলায় দুজন করে সবেতনে কোচ নিয়োগ দিয়েছে, যাঁদের মাধ্যমে শুরু হয়েছে তৃণমূল থেকে ফুটবল ডেভেলপমেন্টের কাজ।

আনফা একাডেমি গল্পের পর নেপাল যখন তৃণমূলে পৌঁছেছে, সেখানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন একদম পরিকল্পনাহীন। ফুটবলার তৈরির পাইপলাইনের কথা না ভেবে পড়ে আছে অনূর্ধ্ব-২৩ দল ও জাতীয় দল নিয়ে। তাতে যে ফুটবলের চেহারা কিছু ফিরছে না, সেটাও যেন তারা বুঝতে পারে না। ২০১৬ সালে সিলেট বিকেএসপি নিয়ে ফিফা গোল প্রজেক্টের আওতায় শুরু করেছিল ফুটবল একাডেমি। ফিফা দিয়েছিল সাত লাখ ডলার। সেই অর্থ আট মাসে শেষ হয়ে যাওয়াটা বিস্ময়কর। আট মাস পরেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেই একাডেমি। অথচ নেপালে ব্যাপারটি অন্য রকম। আনফার সদস্য ও মুখপাত্র কিরণ রায় মনে করেন, ‘একাডেমি চালাতে বছরে ৬০ লাখ টাকার মতো প্রয়োজন হয়। ফিফা, এএফসি এবং নেপাল সরকারের অর্থায়নে একাডেমি চলে। অতি সম্প্রতি আমরা একটি মেয়েদের একাডেমি শুরু করতে যাচ্ছি, তারও কাজ চলছে।’

ওদের ৬০ লাখ টাকা লাগলে বাংলাদেশের লাগে অনেক! নইলে মাত্র আট মাসে বন্ধ হয়ে যাবে কেন বাফুফে একাডেমি! সেই অপমৃত্যুর পর এখন আবার শুরু হয়েছে নতুন তৎপরতা। বাড্ডায় একটি প্রাইভেট কম্পানির মাঠ ও আবাসন ভাড়া নিয়ে বাফুফে নতুন করে শুরু করতে চাইছে একাডেমি। সেটির কি হবে না হবে বলা মুশকিল। এক বছর বাদে বাফুফে নির্বাচন, এটা ‘নির্বাচনী একাডেমি’ কি না কে জানে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা