kalerkantho

তিন সেঞ্চুরির দিনে আবাহনীর প্রথম হার

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন সেঞ্চুরির দিনে আবাহনীর প্রথম হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন দুজনেই। ফতুল্লায় কাল আবাহনীর বিপক্ষে এনামুল হক (বিজয়) চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি করলেও এবার আর তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারলেন না প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ভারতীয় খেলোয়াড় অভিমন্যু ঈশ্বরণ। তবে এনামুলের সেঞ্চুরির সঙ্গে তাঁর ৮৫ রানের ইনিংসে প্রাইম ব্যাংকের ৫ উইকেটে ৩০২ রান তাড়ায় জয়ের পথেই ছিল আবাহনী। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোই তাদের জন্য ডেকে আনে পঞ্চম ম্যাচে প্রথম হারের নিয়তি। সমানসংখ্যক ম্যাচে ১৬ রানের জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রাইম ব্যাংক এখন আবাহনীর সঙ্গে শীর্ষ তিন দলের একটিও। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মেহেদী মারুফ ও জাকের আলীর হার না মানা সেঞ্চুরিতে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে রূপগঞ্জ। তিন সেঞ্চুরির দিনে সবচেয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি অবশ্য হয়েছে বিকেএসপিতে। যেখানে শেষ বলে অফস্পিনিং অলরাউন্ডার এনামুল হকের মারা ছক্কায় মোহামেডানকে ২ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ের মুখ দেখেছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি।

জেতার জন্য শেষ ওভারে ১২ রান দরকার ছিল জামালের। কিন্তু আলাউদ্দিন বাবুর সেই ওভারের প্রথম পাঁচ বলে মাত্র ৬ রান তুলতে পারা দলটি হারায় একটি উইকেটও। তাই শেষ বলে জেতার জন্য ছক্কার বিকল্প ছিল না। সেটিই মেরে এনামুল হাতছাড়া হতে থাকা জয় এনে দেন দলকে। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান আব্দুল মজিদের ধীরগতির ফিফটি (৯০ বলে ৫২) এবং মোহাম্মদ আশরাফুলের বলক্ষয়ী ৭৪ বলে ৪৪ রানের ইনিংসের পর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার চতুরাঙ্গা ডি সিলভা (৩৯ বলে ৪৯) ও সোহাগ গাজীর (২৪ বলে ৩২) ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মোহামেডানের ২৪০ রান তাড়ায় শেখ জামালের ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন (৭৪) ছাড়া আর কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি।

অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের ৪৮ রানের পর ভারতীয় ক্রিকেটার পারভেজ রসুলের ৮৬ রানের ইনিংসে গাজী গ্রুপের ইনিংসও আড়াই শ ছুঁয়েছিল। কিন্তু কে জানত যে ২৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পরও মারুফ (১৩৭ বলে ১২ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ১৩৭*) ও জাকেরের (১২৬ বলে ১৩ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ১০৭*) ২২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপই ২৭ বল বাকি থাকতে এত অনায়াস জয় এনে দেবে রূপগঞ্জকে!

এনামুল (১২৮ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ১০২) এবং ঈশ্বরণের (৯৬ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৮৫) দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপও ১৫৪ রানের। তবে ওয়াসিম জাফর (৯১ বলে ৯৪) ও নাজমুল শান্তর (৮২ বলে ৭৩) ১৩২ রানের তৃতীয় উইকেট পার্টনারশিপে প্রাইম ব্যাংকের ৩০২ রানও নিরাপদ মনে হচ্ছিল না। কারণ ওই সময় ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১১০ বলে দরকার ছিল ১০৮ রানের। কিন্তু আপাত সহজ এই সমীকরণই কঠিন করে দেন অফস্পিনিং অলরাউন্ডার আল-আমিন। চার ওভারের মধ্যেই তিনি তুলে নেন ওয়াসিম, মোহাম্মদ মিঠুন ও নাজমুল শান্তকে। সেখানেই পথ হারানো আবাহনী আর পায়নি পথের দেখাও।   

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী-প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব

প্রাইম ব্যাংক ৫০ ওভারে ৩০২/৫ (এনামুল ১০২, ঈশ্বরণ ৮৫; মোসাদ্দেক ১/৯)। আবাহনী ৪৮.৫ ওভারে ২৮৬ (ওয়াসিম ৯৪, নাজমুল শান্ত ৭৩; আল-আমিন ৩/৪৫)।

ফল : প্রাইম ব্যাংক ১৬ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : এনামুল হক (প্রাইম ব্যাংক)।

মোহামেডান-শেখ জামাল ধানমণ্ডি

মোহামেডান ৪৯.১ ওভারে ২৪০ (মজিদ ৫২, চতুরাঙ্গা ৪৯; শাকিল ৩/৪১)। শেখ জামাল ৫০ ওভারে ২৪২/৮ (ইমতিয়াজ ৭৪, তানভীর ৩৯; সোহাগ ৩/৪৩)। ফল : শেখ জামাল ২ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : ইমতিয়াজ হোসেন (শেখ জামাল)।

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স-লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ

গাজী গ্রুপ ৫০ ওভারে ২৫০/৯ (পারভেজ ৮৬, ইমরুল ৪৮; মুক্তার ২/৫৪)। রূপগঞ্জ ৪৫.৩ ওভারে ২৫২/২ (মারুফ ১৩৭*, জাকের ১০৭; হায়দার ১/৪১)। ফল : রূপগঞ্জ ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : মেহেদী মারুফ (রূপগঞ্জ)।

মন্তব্য