kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বয়সে ছোট বলেই...

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বয়সে ছোট বলেই...

বিরাটনগর থেকে প্রতিনিধি : গোলাম রব্বানী ছোটনের গর্ব শুরুর ১৭ মিনিটের আধিপত্য। আর ভারতীয় কোচের গর্ব সেই আধিপত্য ভেঙে নির্দিষ্ট কৌশলে খেলে বাংলাদেশকে চার গোলে উড়িয়ে দেওয়া। উড়ে যাওয়ার ঢাল হিসেবে বাংলাদেশ কোচ দাঁড় করাচ্ছেন বয়সের পার্থক্য, ‘ভারত অনেক ম্যাচুরড দল, তাদের অভিজ্ঞতা বেশি। কাদের বয়স কত এটাও বিবেচনা করতে হবে। সিনিয়র লেভেলে আমাদের মেয়েরা এখনো শিখছে, নেপাল ও ভারতের ম্যাচ থেকে তারা অনেক কিছুই শিখেছে। তাদের সময় দিতে হবে।’

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের এই রেকর্ড বাজছে। সার কথা হলো, বাংলাদেশের মেয়েরা ছোট, এই পর্যায়ে লড়াই করতে তাদের সময় লাগবে। প্রশ্নটা হলো তারা কত ছোট আর ভারতীয়রা কত বড়? এ ধরনেরই এক প্রশ্নে ভারতীয় কোচ মায়মল রকির জবাব, ‘আমাদের এই দলে অনূর্ধ্ব-১৫ কিংবা অনূর্ধ্ব-১৮ দলের কোনো খেলোয়াড় নেই। তাই বলে আমি বলব না, অভিজ্ঞতার কাছে তারুণ্যের হার হয়েছে। আমার দলের গড় বয়স ২১ বছর চার মাস। বেশির ভাগ সিনিয়র খেলোয়াড়ই বেরিয়ে গেছে, যারা আছে তারাও ভালো খেলোয়াড়। তাই ম্যাচ জিতেছি।’ বাংলাদেশ কোচের দাবি অনুযায়ী তাঁর দলের গড় বয়স ১৯ বছর। এ নিয়ে ফুটবলাঙ্গনে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। কোচের কথা সত্যি মানলে দুই দলের ব্যবধান মাত্র দুই বছর চার মাসের। এটুকু এগিয়ে থেকে ভারতীয়রা ৭২ মিনিট আধিপত্য করে গতবারের রানার্স-আপদের বিধ্বস্ত করেছে চার গোলে। আর সাবিনা-স্বপ্নারা পুরো ম্যাচে পারেননি একটিও ক্লিয়ার চান্স তৈরি করতে।

এত দিনে একটি অভিজ্ঞ দল তৈরি করতে না পারাটাও তো বাফুফের ব্যর্থতা। পাশাপাশি সিনিয়র দলের বিপক্ষে একটি জুনিয়র দল নিয়ে এসেছে কোনো রকমের রক্ষণ প্রস্তুতি ছাড়াই। নেপালের বিপক্ষে যেমন ভুলে-ভরা ম্যাচ খেলেছিল, কাল ভারতের বিপক্ষেও তা-ই খেলেছে। আঁখি-মাশুরাদের আসামির কাঠগড়ায় তোলার আগে টিম ম্যানেজমেন্টকেই নিতে হবে দায়। যখন ছোটদেরই নিয়ে আসবে তখন যথেষ্ট রক্ষণ পরিকল্পনা কিংবা ডিফেন্ডারদের তৈরি করে আনা হবে না কেন? বরাবরের মতোই ছোটনের জবাব, ‘তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিভাবে খেলবে সেটা বুঝিয়ে দেওয়ার পরও তারা ভুল করছে। পজিশনে ছিল না কেউ।’ এটা পাঠ্যপুস্তকের বিষয় না যে, শুধু বলে দিলে বা ব্ল্যাকবোর্ডে এঁকে বুঝিয়ে দিলেই হয়। প্র্যাকটিস মাঠে এই সিচুয়েশনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে শেখাতে হয়। এর পরও বাংলাদেশ কোচ তৃপ্তি খোঁজেন আগের মিয়ানমারের ম্যাচের সঙ্গে তুলনা টেনে, ‘মিয়ানমারে আমরা ৭-১ গোলে হেরেছিলাম ভারতের কাছে। সেই ম্যাচে আমরা খেলতেই পারিনি। এই ম্যাচে গোল খাওয়ার পর খেলার চেষ্টা করেছে মেয়েরা। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে।’ কী খেলা! আর কী ঘুরে দাঁড়ানো। তাদের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হাতে ম্যাচের রাশ ছিল শুরুর ১৫ মিনিট। কালকের ম্যাচে সেটা বেড়ে হয়েছে ১৭ মিনিট। বেড়েছে দুই মিনিট! উন্নতিটা যে একদম কচ্ছপের গতিতে, এভাবে এগোলে বাংলাদেশের মেয়েদের ম্যাচুরড হতে হতে খেলা ছেড়ে দেওয়ার বয়স হয়ে যেতে পারে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা