kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

তিন সেঞ্চুরির দিন

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন সেঞ্চুরির দিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক ম্যাচ আগে ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে দলকে সাড়ে তিন শ পার করিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। এবার প্রায় তিন শ রান তাড়ায়ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে সাফল্যের সঙ্গেই পথ দেখালেন অধিনায়ক নাঈম ইসলাম। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মোহামেডানের ৭ উইকেটে তোলা ২৯৫ রান ৪ বল হাতে রেখেই টপকে যাওয়া রূপগঞ্জের ৪ উইকেটের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নাঈমের ৮৫ রানের ইনিংসটির। ফতুল্লায় ধীরগতির উইকেটে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে সাধ্যের মধ্যেই আটকে রাখার পর ভারতীয় ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফরের ব্যাটে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে আবাহনী। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ৯ বল বাকি থাকতে জিতেছে ৫ উইকেটে। আগের ম্যাচে মাত্র ১৬৩ রান তাড়ায়ও সেঞ্চুরি করে দলকে জেতানো এনামুল হক (বিজয়) কাল বিকেএসপিতে করেছেন টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। সেই সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটার অভিমন্যু ঈশ্বরণের বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৩৪৪ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়া প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব বৃষ্টি আইনে ২৯ রানে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবকে। এই ম্যাচের দুই সেঞ্চুরির সঙ্গে মোহামেডানের মজিদের সেঞ্চুরিতে দিনে শতরান হয়েছে তিনটি।

চার ম্যাচ খেলে তৃতীয় জয় পাওয়া প্রাইম ব্যাংকের শুরু অবশ্য ভালো ছিল না। ৫ রানেই ওপেনার রুবেল মিয়াকে হারায় তারা। এরপর অবশ্য ঈশ্বরণকে নিয়ে ১৯৪ রানের জুটিতে দলের বিশাল স্কোরের ভিত গড়ে দেন ৫২ বলে ফিফটি করার পর ১১৮ বলে তিন অঙ্কছোঁয়া এনামুল। লেগস্পিনার তানভীর হায়দারের শিকার প্রাইম ব্যাংক অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত ১২০ বলে ৮ বাউন্ডারিতে সাজান তাঁর ১০১ রানের ইনিংস। ১০৫ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছার পর প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর আরো চড়াও হওয়া ঈশ্বরণের ১২৬ বলে ১৩৩ রানের ইনিংসে ১০ বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল একটি ছক্কার মারও। এরপর শেষ দিকে আরিফুল হকের বিধ্বংসী ব্যাটিং প্রাইম ব্যাংককে নিয়ে যায় সাড়ে তিন শ-এর কাছাকাছি। মাত্র ৩২ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। জবাবে ৫৯ রানে ৩ উইকেট হারানো জামালকে তৃতীয় উইকেটে ১১৬ রানের পার্টনারশিপে টানেন নাসির হোসেন (৭৬) ও অধিনায়ক নুরুল হাসান। বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক এই জুটি ভাঙার পরও তানভীর হায়দারকে নিয়ে নুরুলের (৫৪*) এগোনোর চেষ্টা থামে বৃষ্টিতে। ৩৭.১ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৬ রান তোলা জামাল ওই সময়ের মধ্যে স্কোরবোর্ডে ২৩৬ রান জমা করলেই ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতি অনুযায়ী জিতত। কিন্তু বৃষ্টি আর খেলা হতে না দেওয়ায় ৪ ম্যাচে তৃতীয় হারের স্বাদ নিতে হয় তাদের।

শুরুতেই একই ওভারে রুবেল হোসেনের জোড়া আঘাতে বিপর্যস্ত শাইনপুকুরকে স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বেশি দূর এগোতে দেয়নি আবাহনী। জবাবে ভারতীয় ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফরের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতেই ৬২ রান তুলে দেন নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরতে না ফিরতেই মাঠে নেমে পড়া সৌম্য সরকার (৩৩)। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে (৪২) নিয়ে ৮৫ রানের দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপে সাবধানী ব্যাটিংয়ে জয় একরকম নিশ্চিত করেন ভারতের হয়ে ৩১ টেস্ট খেলা ওয়াসিম জাফর (৭৬)। মোহামেডান নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকলেও এক প্রান্ত আগলে রাখা আব্দুল মজিদের সেঞ্চুরির (১২৬ বলে ১০৭) পর চারটি করে ছক্কা ও বাউন্ডারিতে ৪৭ বলে নাদীফ চৌধুরীর ৬৪ ও চতুরাঙ্গা ডি সিলভার ৯ বলে অপরাজিত ২৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস মোহামেডানকে নিয়ে যায় তিন শ-এর কাছাকাছি। কিন্তু মমিনুল হক (৫৫) ও ভারতীয় ক্রিকেটার ঋষি ধাওয়ানের (৫১) ফিফটির সঙ্গে নাঈমের ক্যাপ্টেন্স নক এবং সেই সঙ্গে জাকের আলীর (২৬ বলে অপরাজিত ৩৪) শেষ ছোঁয়ায় বিফলে যায় মোহামেডানের মজিদের সেঞ্চুরি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী-শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব : শাইনপুকুর ৫০ ওভারে ২০৩/৯ (আফিফ ৪৮, তৌহিদ ৩৯; মোসাদ্দেক ৩/৪১)। আবাহনী ৪৮.৩ ওভারে ওভারে ২০৬/৫ (ওয়াসিম ৭৬, নাজমুল শান্ত ৪২; শরীফুল ৩/৪৪)। ফল : আবাহনী ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : ওয়াসিম জাফর (আবাহনী)।

মোহামেডান-লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ : মোহামেডান ৫০ ওভারে ২৯৫/৭ (মজিদ ১০৭, নাদীফ ৬৪; শহীদ ৩/৭০)। রূপগঞ্জ ৪৯.২ ওভারে ২৯৬/৬ (নাঈম ৮৫, মমিনুল ৫৫; শফিউল ২/৬৫)। ফল : রূপগঞ্জ ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : নাঈম ইসলাম (রূপগঞ্জ)।

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব-শেখ জামাল ধানমণ্ডি : প্রাইম ব্যাংক ৫০ ওভারে ৩৪৪/৬ (ঈশ্বরণ ১৩৩, এনামুল ১০১, আরিফুল ৬৭*; তানভীর ২/২৭)।  শেখ জামাল ৩৭.১ ওভারে ২০৬/৪ (নাসির ৭৬, নুরুল ৫৪*; নাহিদুল ২/৫১)।  ফল : ডি/এল মেথডে ২৯ রানে জয়ী প্রাইম ব্যাংক।  ম্যাচসেরা : অভিমন্যু ঈশ্বরণ (প্রাইম ব্যাংক)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা