kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

যোশীর বর্ণনায় সেদিনের ঘটনা

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যোশীর বর্ণনায় সেদিনের ঘটনা

ভয়ংকর এক শুক্রবারে চিরতরে বদলে গেছে নিউজিল্যান্ড। ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে গোলাগুলির ঘটনায় আরো প্রবলভাবে বদলে যেতে পারত ক্রিকেটবিশ্বের মানচিত্র। আর মিনিট পাঁচেক আগে ঘটনাস্থলে বাংলাদেশ জাতীয় দল পৌঁছলেই হতো সর্বনাশ। তা না হওয়ায় ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন সবাই। পরশু নিজ শহর বেঙ্গালুরুতে ফিরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্পিন পরামর্শক সুনীল যোশীও কণ্ঠ মেলাচ্ছেন তাতে।

দলের সঙ্গে সেদিন ছিলেন না সাবেক এই ভারতীয় স্পিনার। কারণটি বলেছেন নিজেই, ‘ওই দিন আমাদের সবার স্টেডিয়ামে গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে অনুশীলনে নামার কথা। আমি দুপুরের খাবারের জন্য স্টেডিয়ামে যাইনি। দুই ক্রিকেটার লিটন দাশ, নাঈম হাসান, স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়ান ও ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকও ছিল হোটেলে। স্টেডিয়ামে দুপুরের খাবার, সংবাদ সম্মেলন ও মসজিদে নামাজ শেষে আমাদের হোটেল থেকে তুলে নেওয়ার কথা ছিল টিম বাসের।’ এরপর বাংলাদেশের ম্যানেজার খালেদ মাসুদের ফোনে জানতে পারেন মসজিদে ভয়াবহ হামলার খবর, ‘হঠাৎ দুপুর ১.২০-এর দিকে ম্যানেজারের ফোন পাই। তিনি আমাদের গোলাগুলির ঘটনা সম্পর্কে জানান এবং বলেন, পুরো দল না ফেরা পর্যন্ত আমরা কেউ যেন হোটেলের বাইরে না বেরোই।’

ম্যানেজারের কাছ থেকে জানেন ঘটনা। এরপর হোটেলে নিজেদের অস্থিরতার বর্ণনা ফুটে ওঠে যোশীর কথায়, ‘দলের বাস রাস্তায় চলতে পারছিল না। খেলোয়াড়রা নেমে পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে হ্যাগলি ওভালের দিকে যাচ্ছিল। আমাদের জন্য তখন হোটেলে থাকাটাও ছিল আতঙ্কের। আমরা যে হোটেলে ছিলাম, সেটি মাঠ থেকে ১০ মিনিটের গাড়ি চালানো দূরত্বে। পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে রাস্তা পেরোলেই ওই মসজিদ। মসজিদটি ছিল আমাদের দলের বাসের ডান পাশে। খেলোয়াড়রা গোলাগুলির ঘটনা নিজেদের চোখে দেখেছে। মসজিদের দিক থেকে রক্তাক্ত এক নারী বেরিয়ে এসে ঘটনা বলে এবং ভেতরে যেতে নিষেধ করে। কারণ হামলাকারী তখনো সক্রিয়।’ পূর্বনির্ধারিত সময়ে দল যে মসজিদে পৌঁছায়নি, এতে ভাগ্যকে ধন্যবাদ দেন তিনি, ‘অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর সংবাদ সম্মেলন শেষ করার কথা দুপুর পৌনে ১টায়। এরপর শুক্রবার দুপুরের নামাজ পড়ার জন্য সবার মসজিদে যাওয়ার কথা। কিন্তু মাহমুদের সংবাদ সম্মেলন খানিকটা দেরিতে শেষ হয়। আমার বিশ্বাস, সেটি ছিল ওই গোলাগুলির সময় ঘটনাস্থলে না যাওয়ার জন্য ঈশ্বরের বার্তা। ১টার বেশ কিছু পর তাই সবাই মসজিদে যায়। যদি সংবাদ সম্মেলন সময়মতো শেষ হতো এবং সবাই পূর্বনির্ধারিত সময়ে মসজিদে যেত, তাহলে যে কী হতো—ভাবতে পারছি না।’

গোলাগুলির ঘটনা থেকে কোনোক্রমে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু হোটেলে ফেরার পরও যে সময়টা খুব কঠিন ছিল, সেটি বলেন যোশী, ‘হোটেলে ফেরার পরও ছেলেরা ভয়ে অসাড় হয়ে ছিল। সারা রাত ওদের সান্ত্বনা দেওয়া যায়নি, যদিও আমরা খুব চেষ্টা করেছি। এমনকি ক্রিকেটাররা নিজ নিজ রুমে ফিরতেও রাজি ছিল না। তবে এ ঘটনার পর দলের সবার মধ্যে বন্ধন আরো দৃঢ় হয়েছে।’ এখন ক্রিকেট থেকে বিরতি ওই ঘটনা পিছু ফেলতে সাহায্য করবে বলেও মত তাঁর, ‘এ গোলাগুলির ঘটনা পুরো দলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বাসে থাকা সব ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের কাঁপিয়ে দিয়েছে। কেননা তা ঘটেছে সবার চোখের সামনে। এ ঘটনা পেছনে ফেলতে সবারই সময় লাগবে। সবাই যে যার পরিবারের কাছে ফেরত গেছে, এটি স্বস্তির ব্যাপার। ভয়ংকর ওই অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়ার জন্য এ বিরতিটা প্রয়োজন।’ ডিএনএ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা