kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এবার বালা-কমলা আতঙ্ক নেই

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার বালা-কমলা আতঙ্ক নেই

বিরাটনগর থেকে প্রতিনিধি : মেয়েদেরকে গত রাতে ঘটা করেই সুসংবাদটা দেওয়ার কথা। সেটি হলো ভারতীয় দল থেকে বালা-কমলা অধ্যায় চুকেবুকে গেছে। এখন ভয় তাড়িয়ে জেগে ওঠো। সেমিফাইনালের আগে মেয়েদের জাগিয়ে তোলার নতুন টনিক নিয়ে হাজির হয়েছিল বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।

এটা যুগপৎ খুশি ও স্বস্তির খবর। মহিলা ফুটবল নিয়ে যারা এক-আধটু খোঁজ-খবর রাখে, তারা জানে বালা দেবী ও কমলা দেবীর তাণ্ডবের কথা। দুই ফরোয়ার্ড মূর্তিমান আতঙ্ক হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের জন্য। ভারতের বিপক্ষে খেলা ৮ ম্যাচে বাংলাদেশ গোল খেয়েছে ৩৯টি, এর মধ্যে দুজনই করেছেন ১৮ গোল। তাঁদের ছাড়াই আজ সেমিফাইনাল খেলতে নামবে ভারত। এই ভেবে বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন একটু স্বস্তি বোধ করছেন, ‘তারা দুজনই ছিল অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। যেকোনো সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তারা। মিয়ানমারে বালা ও কমলাই আমাদের ভুগিয়েছে বেশি। বালা করেছে ৪ গোল আর কমলার ২ গোল। দুজন মিলেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে। তাদের মুখোমুখি হতে হবে না, এটা তো স্বস্তির খবর অবশ্যই।’ তিনি বলছিলেন গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক বাছাইয়ে ভারতের কাছে ৭-১ গোলে হারের কথা।

তার ঠিক পরের ম্যাচটি খেলতে নামছে বাংলাদেশ আজ বিরাটনগরে। দুই গোল-মেশিনহীন ভারতের শক্তি কিছুটা ক্ষয়েছে তো বটেই, সুবাদে একটা লড়াকু ম্যাচের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা আক্তার, ‘ওই দুজনের সঙ্গে আমি অনেক দিন খেলেছি। জানি তাদের গোলের ক্ষমতা। তাদের বাদ দিয়ে ভাবলে এই ম্যাচে আমাদের ভালো করার সুযোগ আছে। আমাদের বয়সভিত্তিক দলের মেয়েরা ভালো খেলতে পারলে একটা দুর্দান্ত ম্যাচ হবে।’ যদিও ভারতের কোচ মায়মুল রকি তাদের অভাবকে বড় করে দেখতে চান না, ‘আমাদের এই দলটি নতুন। অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নেই, দলের গড় বয়স ২১.৪ বছর। এর পরও ম্যাচ বের করার মতো অনেক খেলোয়াড় আছে আমাদের। এখন আর এক-দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকে না দল।’ দুজনের দলে না থাকা নিয়ে ভারতের কেউ খুব বেশি কথা বলতে চায় না। ২০১৭ সালে ভারতের বর্ষসেরা হয়েছেন কমলা দেবী। এমন খেলোয়াড়ের বাদ পড়টা রহস্যময়ই বটে। সে যা-ই হোক, বালা-কমলাকে ছাড়া তারা পঞ্চম সাফ খেলতে এসে এখনো পর্যন্ত গোলসংকটে ভোগেনি। গ্রুপের দুই ম্যাচে সাতজন মিলে করেছে ১১ গোল। আবার এটাও সত্য যে গ্রুপে তাদের দুটো প্রতিপক্ষই ছিল দুর্বল মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। সুতরাং দুই কৃতী ফরোয়ার্ডকে ছাড়া সাফে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

ওই দুজনের গোল ও অভিজ্ঞতা বড় নিয়ামক হয়েছিল ভারতের সাফ জয়ে। কমলা দেবীর ভারতীয় সিনিয়র দলে অভিষেক হয় ২০০৪ সালে, যখন বাংলাদেশে মহিলা ফুটবল সেভাবে শুরুও হয়নি। তাঁর জাতীয় দলে খেলার মাত্র এক বছর আগে এই বাংলাদেশ দলের ৯ জন খেলোয়াড়ের জন্ম হয়েছে! অনূর্ধ্ব-১৬ দলের এই মেয়েরা যখন ফুটবল বুঝতে শুরু করেছে, তখন দেখছে বালা-কমলার গোলে ভাসছে ভারত। এরপর নিজেরা খেলতে নেমেও অনুভব করেছে দুই মণিপুরী ফরোয়ার্ডের আতঙ্ক। কমলা দেবী ৬১ ম্যাচে করেছেন ৪১ গোল আর বালা দেবীর ৪৩ ম্যাচে ৩৬ গোল। এমন দুটো গোল-মেশিন ছাড়া ভারত মানে লাল-সবুজের মেয়েদের জন্য দারুণ এক সুযোগ। পাশাপাশি বাংলাদেশি ডিফেন্ডারদের স্বস্তিও বটে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা