kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সেমিতে ভারতের সামনে আন্ডারডগ বাংলাদেশ

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সেমিতে ভারতের সামনে আন্ডারডগ বাংলাদেশ

বাংলাদেশ কোচ বলছেন ‘সর্বোচ্চ দিয়ে ম্যাচ জয়ের’ কথা। মাঠে যারা সর্বোচ্চ দেবে, সেই মেয়েরা বলছে ‘জোর লড়াইয়ের’ কথা। ভারত জয়ের প্রতিজ্ঞা মনিকা-স্বপ্নাদের মনে থাকলেও মুখে নেই। মুখে বললে হয়তো চাপ হবে বেশি, তাই চাপহীন থাকার সোজাসাপ্টা পথ হলো আন্ডারডগ হয়ে মাঠে নামা। টিম ম্যানেজমেন্টও ছড়িয়ে দিচ্ছে এই বার্তা—বাংলাদেশ সেমিফাইনালে নামবে আন্ডারডগ হয়ে।

বিরাটনগরে শহীদ রঙ্গশালা আজ প্রস্তুত দুটো সেমিফাইনালের জন্য। স্বাগতিক নেপাল বনাম শ্রীলঙ্কার প্রথম সেমিফাইনাল হবে সকালে, এরপর বিকেল সোয়া ৩টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-ভারতের সেমিফাইনাল ম্যাচ। এ ম্যাচ সব সময় কঠিন বাংলাদেশের জন্য। ভারতীয় সিনিয়র দলকে হারানোর কোনো সুখস্মৃতি যে তাদের নেই। নেই অনুপ্রাণিত হওয়ার কোনো অতীত। ৯ ম্যাচে বাংলাদেশের আট হারের পাশে আছে মাত্র একটি ড্র। টানা চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাফ মহিলা ফুটবলের আকাশে চাঁদ হয়ে থাকা ভারতের জন্য এই ড্র যেন একটুখানি কলঙ্ক। এই টুর্নামেন্টে বাকি সবই তাদের জয়ের ইতিহাস। তাদের এই আগাগোড়া আধিপত্যের ইতিহাস ফুঁড়ে বাংলাদেশকে ফাইনালে পৌঁছতে হলে গড়তে হবে নতুন ইতিহাস। হার না-মানা ভারতকে হারাতে হবে! অমন সাহসী হওয়ার আগে যে দুদণ্ড ভাবতেও হবে! গ্রুপে নেপাল ম্যাচের গেরো খোলার কথা বলে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাংলাদেশের পক্ষে পরের ম্যাচে দুঃসাহসী হয়ে কিছু বলাও কঠিন।

আবার স্বপ্ন না থাকলেও ভয়কে জয় করে সামনে এগোনো যাবে না। সেই নেপাল ম্যাচের ট্রমা থেকে বের করে মেয়েদের নতুন লড়াইয়ের জন্য তৈরি করা যাবে না। বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন তাই স্বপ্ন দেখেন আন্ডারডগ হয়ে খেলার, ‘বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলবে আন্ডারডগ হয়ে। আর আন্ডারডগের ম্যাচ জেতার ইতিহাস আছে ভূরি ভূরি। আমাদের বয়সভিত্তিক দলটা আস্তে অস্তে সিনিয়র দলের লড়াইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে। আমরা অনূর্ধ্ব-১৫, ১৬ ও ১৮-তে চ্যাম্পিয়ন।’ এই অঞ্চলের বয়সভিত্তিক মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশ এখন বাঘ, তাদের সমীহ করে সবাই। কিন্তু সিনিয়র ফুটবলে বাঘের সেই গর্জন এখনো শোনা যায়নি। ওখানে ভারত করে ‘দাদাগিরি’ আর তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলে নেপাল। ছোটদের দল নিয়ে বাংলাদেশ চেষ্টা করছে সেখানে নিজেদের শক্তি প্রতিষ্ঠা করতে। তাই কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন একটা অন্য রকম সেমিফাইনাল প্রত্যাশা করছেন, ‘শক্তিতে-অভিজ্ঞতায় ভারত এগিয়ে। সেই তুলনায় আমাদের মেয়েরা ছোট এবং অভিজ্ঞতা কম। কিন্তু পিছিয়ে থাকা দলের জয়ের ঘটনা তো ফুটবলবিশ্বে আছে। মেয়েরা খেলবে স্বাভাবিক ফুটবল, কোনো চাপ নেই তাদের ওপর। আশা করি, তারা লড়াই করবে।’

আপাতত এই লড়াইয়ে বড় জ্বালানি কৃষ্ণা। ইনজুরিতে দুই ম্যাচ বাইরে থেকে ভারতের ম্যাচে ফিরছে এই ফরোয়ার্ড। ৪-৪-২ ফরমেশনে সামনে খেলবে সাবিনা ও স্বপ্না। মাঝমাঠে মনিকা চাকমা ও মারিয়া মাণ্ডা আর দুই দিকে কৃষ্ণা ও সানজিদা। আগের ম্যাচের পাঁচ ডিফেন্ডারের থিওরি বাদ দিয়ে ভারতের বিপক্ষে খুব আক্রমণমুখো এক দল সাজিয়েছেন কোচ। তাঁর পরিকল্পনা, শুরুর ২০ মিনিটে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে গোল বের করা। কিন্তু ভারতের সিনিয়র দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসেই আছে মাত্র তিনি গোল! গোল যেখানে সোনার হরিণ, সেখানে গোলের বিলাসী পরিকল্পনা নিয়ে কোচ মাঠে পাঠাচ্ছেন মেয়েদের! ওই তিন গোলের একটি হয়েছে গত নভেম্বরে অলিম্পিক বাছাইয়ে কৃষ্ণার পা থেকে। সেই ম্যাচের স্মৃতি টেনে এই ফরোয়ার্ড বলছে, ‘প্রথম ১৫ মিনিটে আমি আর স্বপ্না মিলে ভারতের ডিফেন্সকে বেশ চাপে রেখেছিলাম। ভারত শক্তিশালী দল হলেও তাদের বিপক্ষে যে গোলের সুযোগ করা যায় না, এমন নয়। ওই সময় একটা গোল বের করতে পারলে খেলার ফল অন্য রকম হতো। ১৬ মিনিটে এক পেনাল্টি গোলের পর সব এলোমেলো হয়ে যায়।’ ওই গোলে দলের শিরদাঁড়া এমন ভেঙে গিয়েছিল যে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। শেষমেশ হারতে হয় ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে।

বিরাটনগরেও নেপালের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোলের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল বাংলাদেশের রক্ষণদুর্গ। সংগত কারণে সেই ভয়টাও থাকছে খুব ভালোভাবে। এরপর ভুলগুলো ধরিয়ে ডিফেন্ডারদের নিয়ে কাজ করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আঁখি-মাশুররাও গোলমুখ বন্ধ রাখার প্রতিজ্ঞা করেছে। বাস্তবে যে কতটা কী হবে, বলা মুশকিল। কারণ এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১১ গোল করেছে ভারত। দুই গোল-মেশিন বালা দেবী ও কমলা দেবীকে ছাড়াই তারা গোল উৎসব করেছে গ্রুপের দুই ম্যাচে। তাদের উত্তরসূরি হয়ে এখন গোলের মালা গাঁথছে সাঞ্জু-গ্রেসিরা। তাদের ওপর বিশ্বাস রেখে ভারতীয় কোচ মায়মুল রকি ফাইনালে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছেন। তার আগে অবশ্য কঠিন সেমিফাইনালের প্রস্তুতির কথা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ভালো দল, তাদের সঙ্গে সেমিফাইনালে লড়াই মোটেও সহজ হবে না। আমাদের চেষ্টা থাকবে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ বের করার। এ ম্যাচ জিতবোই, এ কথা বলা কঠিন। কারণ বাংলাদেশ এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে, তাই টাইব্রেকারের প্রস্তুতিও আছে আমাদের।’

ভারতীয় কোচের আশঙ্কা আর ছোটনের প্রত্যাশা সত্য হলে, বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। ফণা তুলে ছোবল মারতে উদ্যত হবে। তখনই নেকড়ের সঙ্গে লড়াইটা জমে উঠবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা