kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

এই উপমহাদেশে আমিই সেরা

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই উপমহাদেশে আমিই সেরা

প্রশ্ন : আপনি একদম ছেলেদের মতোই খেলেন। মাঠে দৌড়, আধিপত্য করা, এমনকি হেয়ার-স্টাইলেও ছেলে ফুটবলারের মতো...

সাবিত্রা ভান্ডারি : আমার বেড়ে ওঠা কিন্তু ছেলেদের সঙ্গেই। ছোটবেলায় আমার গ্রামে কোনো মেয়ে ফুটবল খেলত না। ছেলেদের সঙ্গেই আমি ফুটবল খেলতাম। কোনো সমস্যা হতো না আমার। ছেলেদের সঙ্গে তো নিয়মিত মারামারিও করতাম। একদিন এক ছেলেকে এমন মার মেরেছিলাম, সে আমার বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ করে... (হাসি)।

প্রশ্ন : কয়েক বছর আগে নেইমারেরও এ রকম হেয়ার-কাট ছিল। কিন্তু আপনার গোল উদ্‌যাপনে দেখি রোনালদোর ছায়া!

সাবিত্রা : দুজনই আমার প্রিয় ফুটবলার। নেইমারকে পছন্দ তাঁর স্কিলের জন্য আর রোনালদোর গোল করার সামর্থ্য অসাধারণ। তাই বলে মেসির প্রতি আমার অশ্রদ্ধা নেই, কিন্তু ওই গোলের কারণে আমার আইডল রোনালদো। তাঁর ম্যাচগুলো আমি সাধারণত মিস করি না। ইউটিউবে তাঁর প্র্যাকটিসও দেখি।

প্রশ্ন : কিভাবে আপনার ফুটবলার হওয়া?

সাবিত্রা : আমি ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলতাম। স্রেফ ভালোলাগা থেকেই খেলা, ওরকম কোনো লক্ষ্য ছিল না। তবে পরিবার থেকে কোনো সাপোর্ট ছিল না। তখন এক জোড়া কেডস কেনার মতো অবস্থাও ছিল না আমাদের। সংসার ছিল অনেক বড়, বাবাকে সব খরচ সামাল দিতে হতো। তাই কখনো বলতে পারিনি কেডস কিনে দেওয়ার কথা। কঠিন সময় ছিল ওটা।

প্রশ্ন : খালি পায়েই নিজের গ্রামে ফুটবল খেলতেন...

সাবিত্রা : খালি পায়েই খেলি। আনফার (অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) এক রেফারি খেলা দেখে আমাকে নিয়ে আসেন কাঠমাণ্ডুতে। তখন আমার বয়স সম্ভবত ১৬ বছর। এসে আমি আর্মড পুলিশ ফোর্সে যোগ দিই, তাদের একটি মহিলা দল আছে, যারা লিগে খেলে। ওখানে তিন মাস প্র্যাকটিসের পর তাদের দলের হয়ে খেলা শুরু করি। ওই তিন মাস কঠোর পরিশ্রমের পর জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তৈরি হয় আমার।

প্রশ্ন : আপনি জাতীয় দলে শুরু করেন ২০১৪ সাল থেকে। এ নিয়ে আপনার তৃতীয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা।

সাবিত্রা : সত্যি হলো, ওই বছর জাতীয় দলে ঢুকলেও আমি ঠিক অনুপ্রাণিত বোধ করিনি। একাদশে খেলার সুযোগ পেতাম না। বদলি হয়ে মাঝে মাঝে ১০-১৫ মিনিট খেলার সুযোগ মিলত। চেয়ে চেয়ে দেখেছি ভারতের কাছে বারবার হারছে নেপাল অথচ আমি একাদশে খেলতে পারছি না। ওই সময় দলে অনেক সিনিয়র খেলোয়াড়, তাদেরই বেশি খেলাতেন কোচ। জুনিয়রদের সুযোগই দিতেন না। এ জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। এখন আর সেই সমস্যা নেই। নতুন কোচের অধীনে আমাদের দল অনেক শক্তিশালী।

প্রশ্ন : বয়সভিত্তিক ফুটবলে আপনার পারফরম্যান্সে কী ছিল?

সাবিত্রা : আমার বয়সভিত্তিক ফুটবল খেলারই সুযোগ হয়নি। আমি কাঠমাণ্ডু আসার পর মহিলা লিগে খেলেই সরাসরি সিনিয়র জাতীয় দলে জায়গা পেয়ে যাই। সেখানে আমার ২৫ ম্যাচে ২৪ গোল। এবার নেপালকে আমি প্রথমবারের মতো সাফ শিরোপা উপহার দিতে চাই।

প্রশ্ন : এবারের টুর্নামেন্টে সাবিত্রা-নিরুকে সেরা ফরোয়ার্ড জুটি হিসেবে মানছে অনেকই।

সাবিত্রা : এভাবে বলার জন্য ধন্যবাদ। নিরু থাপা সিনিয়র ফুটবলার। তাঁর ফুটবলজ্ঞান অনেক। আমরা পরস্পরকে খুব ভালো বুঝি। ও জায়গা নিলে আমি বক্সে ঘুরতে থাকি, তখন প্রতিপক্ষের মার্কারদের জন্য সমস্যা হয়। ও আমার মুভমেন্টগুলো ভালো বোঝেন। এতে করে ফরোয়ার্ডে খেলাটা আমাদের ভালো হয়।

প্রশ্ন : মালদ্বীপেও লিগের অভিজ্ঞতা কেমন?

সাবিত্রা : চমৎকার অভিজ্ঞতা। সেখানেও আমি শিখেছি। থাইল্যান্ড, তাজিকিস্তান এমনকি ব্রাজিলের ফুটবলাররাও খেলেছে বিভিন্ন দলে। তাদের স্কিল ভালো, এমন খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেললে কিছু উন্নতি হবেই। এখন আমি চাই ইউরোপে খেলতে যেতে, ওটাই ফুটবলের আসল জায়গা।

প্রশ্ন : ফুটবলের বাইরে একজন নারী হিসেবে আপনার জীবনটা কী রকম?

সাবিত্রা : ফুটবলের বাইরে আমার কোনো জীবন নেই। প্র্যাকটিস-জিম-বিশ্রাম করেই দিন কেটে যায়। মাঝেসাঝে সঙ্গী-সাথিদের নিয়ে ঘুরতে যাই, সিনেমা দেখি। এই তো।

প্রশ্ন : মেয়েরা যেমন সাজগোজ করে চলতে ভালোবাসে কিংবা বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ঘুরতে?

সাবিত্রা : (হাসতে হাসতে) মুখে স্নো-পাউডার মেখে সুন্দরী হয়ে চলা আমার ধাতে নেই। ছেলেদের মতো হেয়ার-স্টাইল, তার আবার বয়ফ্রেন্ড!

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্নে চলে এসেছি। আপনার চোখে এই অঞ্চলের মহিলা ফুটবলে সেরা কে?

সাবিত্রা : আগে বালা দেবীর খেলা আমার পছন্দ হতো। খুব ভালো খেলতেন। এখন কাউকে আর দেখি না। এই উপমহাদেশে আমিই সেরা। এটা আমি বিশ্বাস করি এবং দারুণ উপভোগ করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা