kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

নেপাল আর ভারত কিন্তু এক নয়

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেপাল আর ভারত কিন্তু এক নয়

নেপাল ম্যাচে বাজে দিন গেছে। যা গেছে, তা কচলে আর তেতো করতে চায় না বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। মেয়েদের জাগিয়ে তুলতে চায় নতুন স্লোগানে—‘নেপাল আর ভারত এক নয়।’

পরশু মাঠে গিয়ে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দেখেছেন বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি ও কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। তাঁরা চেষ্টা করেছেন ভারত মহিলা দলের খেলা, কৌশল এবং গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করার। এরপর গতকাল প্র্যাকটিস শেষে বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেছেন ভারত-দর্শনের কথা, ‘ওদেরও (ভারতের) কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে। তবে আমাদের বিপক্ষে মাঠ-দর্শক সব মিলিয়ে নেপাল যেমন সুবিধাজনক জায়গায় ছিল সেই অবস্থা নেই ভারতের। সব কিছু যোগ-বিয়োগ করে দেখলে প্রতিপক্ষ হিসেবে নেপাল আর ভারত কিন্তু একই রকমের দল নয়। এই ম্যাচে লড়াই হবে।’ মানে ভারতের বিপক্ষে কালকের সেমিফাইনাল আর একতরফা হবে না। লাল-সবুজের মেয়েরা তৈরি হচ্ছে লড়াইয়ের জন্য।

তার আগে বড় সুখবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে কৃষ্ণা ফিরছেন সেমিফাইনালে। ইনজুরি নিয়েই আসেন বিরাটনগরে, তাই গত দুটি ম্যাচেই ছিলেন মাঠের বাইরে। কালকের প্র্যাকটিসে এই ফরোয়ার্ডকে দেখা গেছে সাবলীল ভঙ্গিতে এবং কোচও নিশ্চিত করেছেন তাঁর একাদশে থাকার কথা। দুই ম্যাচ খেলতে না পারার মনঃকষ্ট ভুলে তিনি সেমিফাইনালে দিচ্ছেন লড়াইয়ের আভাস, ‘ভারতের সিনিয়র দলের বিপক্ষে আমি তিনটি ম্যাচ খেলেছি। এর মধ্যে দুটি ছিল গত সাফে, সেখানে গ্রুপ পর্বে ড্র আর ফাইনালে হেরেছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, গত সাফের তুলনায় এই দলের শক্তি বেড়েছে। তবে ভারতের শক্তির খুব বেশি হেরফের হয়নি। সুতরাং গতবার যদি আমরা তাদের সঙ্গে ড্র করতে পারি, তাহলে এবার কেন তাদের হারাতে পারব না?’ ২০১৬-১৭ সালে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপে ড্র করার পর ভারতের কাছে ফাইনালে ৩-১ গোলে হেরে রানার্স-আপ হয় বাংলাদেশ। তবে কৃষ্ণার কাছে ওই হারের চেয়ে ড্রর গুরুত্বটা বেশি আর সেটিই যেন সেমিফাইনালে লড়ার অনুপ্রেরণা।

ভুটান ম্যাচ জয়ের অন্যতম কারিগর মৌসুমীও বিশ্বাস করেন ভাগ্য বদলাবে। নেপাল ম্যাচের মতো খারাপ হবে না তাঁদের সেমিফাইনাল পারফরম্যান্স। এই মিডফিল্ডার আগের হারের কথা ভুলে তৈরি হতে চান নতুন করে, ‘নেপাল ম্যাচে কি হয়েছে না হয়েছে সেগুলো সামনে এনে লাভ নেই। ভুলে যেতে চাই ওই ম্যাচটি। আমাদের লক্ষ্য সেমিফাইনালে সর্বোচ্চ দিয়ে লড়াই করা। ভারত ভালো খেলে, সেটা ঠিক। তবে আমরা সবাই নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারলে এই ম্যাচের চেহারা বদলে যাবে।’ ম্যাচের চেহারা বদলাতে হলে রক্ষণভাগকে ভূমিকা রাখতে হবে বেশি। শুরুতে গোল খেয়ে বসলেই চাপে পড়ে যায় দল। নিজেদের বিশ্বাসটা নড়ে যায়। কঠিন হয়ে যায় লড়াই।

তাই নেপাল ম্যাচের পর থেকেই আলোচনায় সেই রক্ষণভাগ। ডিফেন্ডাররা যেন আসামি। বিব্রত বোধ করেন কথা বলতেও। আঁখি প্রথমে খুব অসহায়ের মতো বলেন, ‘আগের ম্যাচে আমাদের কিছু ভুল হয়েছিল। কোচ ডিফেন্ডারদের নিয়ে আলাদা মিটিং করেছেন, ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন। সেমিফাইনালে যেন সে রকম ভুল না হয়, সেই চেষ্টা থাকবে আমাদের।’ নেপালের ওই ম্যাচ যেন তাঁদের বিশ্বাস নাড়িয়ে দিয়েছে। ফেরানোর জন্য অনেক কাজও হচ্ছে দলের ভেতর। এ জন্য গত রাতেই ডিফেন্ডারদের নিয়ে পল-ছোটনের বসার কথা ছিল, ‘কোচরা মাঠে গিয়ে ভারতের ম্যাচটি দেখেছেন। আমরা দেখেছি টিভিতে। তাঁরা আজ (গত রাত) আমাদের সঙ্গে বসবেন, ফরমেশন নিয়ে কথা বলবেন। সাধারণভাবে মনে হয় তারা উইং ধরে বেশি আক্রমণে যায়, সেগুলো বন্ধ করতে হবে।’ কোচের কৌশল মেনে মাঠে তাঁরা খেলতে পারলে হয়তো বা গোলমুখ বন্ধ থাকবে। সেটা যতক্ষণ বন্ধ থাকবে ততক্ষণ ফাইনালের আশা টিকে থাকবে। পল স্মলিও বলছেন তাই, ‘২৮ মিনিটে তিন গোল খাওয়ার পর আর লড়াই করার কিছু থাকে না। সেমিফাইনালে তাই গোল না খাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাতে আমাদের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে, তেজ বাড়বে লড়াইয়ে।’ ভারতের বিপক্ষে আগে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, এরপর ফলের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা