kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

রক্ষণ অভ্যাসই তৈরি হয়নি এই মেয়েদের

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রক্ষণ অভ্যাসই তৈরি হয়নি এই মেয়েদের

ভুটান ম্যাচের পর যেন শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের গোলের খেলা। শুরু হয়েছে গোলরক্ষণের খেলা। নেপালি ফরোয়ার্ডরা এই রক্ষণের ছন্নছাড়া রূপ উন্মোচনের পর শুরু হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা। সেমিফাইনালে আরেকটি কঠিন ধাক্কার মুখে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ!

চারবারের চ্যাম্পিয়নদের ধাক্কা সামলানোর জন্য কি তৈরি মাশুরা-আঁখিরা? টিম ম্যানেজমেন্টের গত্বাঁধা কথায় মনে হবে, মেয়েরা তৈরি। প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে একজন মার্কার লাগিয়ে দিয়ে ম্যানেজমেন্ট মনে করবে, গোলমুখে ছিপি আটকে দেওয়া হয়েছে। এটা তো সব কোচই করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হন কজন। ছিপি যদি শিউলি আজিমের মতো ঠুনকো হয় তা কোনো কাজেই লাগবে না। তাঁকে দৌড়ে বারবার পেছনে ফেলে গোলমুখে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন নেপালি স্ট্রাইকার সাবিত্রা ভাণ্ডারি। শুধু শিউলিই-বা কেন, নেপালি আক্রমণের তোপে খেই হারিয়ে ফেলেছিল পুরো রক্ষণভাগ। প্রত্যেকেই করেছেন গোলের ভুল। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে রক্ষণকাজ ঠিকঠাক করতে পারলেই হয় সফল ডিফেন্ডার। সামগ্রিকভাবে রক্ষণ সংগঠন ঠিকঠাক রাখতে পারাটাই রক্ষণভাগের বড় সাফল্য। কিন্তু এসব কথা তাঁদের জন্য নতুন। সিনিয়র দলের ছোট মেয়েরা আগে যে এমন রক্ষণ পরীক্ষার মুখে পড়েননি। তাঁরা জানত ফুটবল শুধু গোলের খেলা!

নামে বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় দল হলেও খেলছেন ছোটরাই। এই দলের গড় বয়স ১৮ এবং একাদশে পাঁচজন আছে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের। সাবিনা খাতুন বাদে বাকি সবাই অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ টুর্নামেন্ট খেলে গত সেপ্টেম্বরে এবং শিরোপা জিতে ফেরে ভুটান থেকে। ওই টুর্নামেন্টে গ্রুপ ম্যাচে পাকিস্তানের জালে বল পাঠিয়েছে ১৭ বার, নেপালকে দিয়েছে দুই গোল। সেমিফাইনালে ভুটানকে ৪ গোলে হারানোর পর ফাইনালে আবার নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এই লেভেলে অর্থাৎ বয়সভিত্তিক ফুটবলে তাঁরা খেলেছেন গোলের খেলা। গোলের আনন্দটাই তাঁরা উপভোগ করেছেন। সিনিয়র লেভেলে এসে দেখছেন মুদ্রার উল্টোদিক, গোল করার চেয়ে ঠেকানোই হয়ে গেছে বড় চ্যালেঞ্জ। তখনই আলোচনায় রক্ষণভাগ এবং সব দায় গিয়ে পড়ছে ডিফেন্ডারদের ওপর। কিন্তু মাশুরা-আঁখি-শিউলির মধ্যে রক্ষণের অভ্যাসটাই তৈরি হয়নি। মহিলা দলের সার্বক্ষণিক সঙ্গী বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলিও মানছেন এটা, ‘আমি তাই মনে করি। বয়সভিত্তিক ফুটবলে তারা কখনো এ রকম কঠিন ফরোয়ার্ডের সঙ্গে লড়েনি। বয়সভিত্তিক ফুটবল খেলে আসা এই মেয়েরা যথেষ্ট পরিণত নয়, সিনিয়র লেভেলে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের আরো সময় দিতে হবে। তবে তারা প্রতিভাবান এবং ভবিষ্যতে এই লেভেলে দারুণ খেলবে।’

তাঁরা সিনিয়র ফুটবলের জন্য এখনো তৈরি নয়, সেটা স্পষ্ট হয়েছে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচেই। ভুটানকে ২-০ গোলে হারালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে কদাচিৎ এক লাইনে খেলতে দেখা গেছে। ভুটানি ডিফেন্ডাররা এত সুন্দর লাইন বজায় রেখে খেলেছেন, বারবার অফসাইডের ফাঁদে আটকেছেন স্বপ্না। নেপালের বিপক্ষেও ছিল না রক্ষণভাগের কোনো লাইন। কঠিন বাস্তবটা ভালোভাবেই টের পেয়েছেন আঁখি, ‘নির্দেশনা অনুযায়ীই খেলা শুরু করেছিলাম। মার্কিংও করছিলাম। কিন্তু নেপালি ফরোয়ার্ডরা কৌশল বদলে খেলেছে।’ তাঁদের গতি ও জায়গা বদল করে খেলার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি আঁখি-মাশুরারা। এটা তাঁদের জন্য যেন একদম নতুন অভিজ্ঞতা। গত নভেম্বরে অলিম্পিক বাছাইয়ে ১-১ গোলে ড্র করলেও এই নেপাল কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে তাঁদের। তাতে ফেল মারার পর ভারতের সঙ্গে সেমিফাইনালে অপেক্ষা করছে ডিফেন্ডারদের আরেক বড় পরীক্ষা। পল স্মলি অবশ্য সেমির লড়াইকে নেপালের ম্যাচের চেয়ে লঘু করে দেখছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মত হলো, নেপাল এই টুর্নামেন্টের সেরা দল। ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় আছে তাদের। তাদের তুলনায় ভারতকে একটু দুর্বলই মনে হয়, টেকনিক্যালি ভালো ফুটবলার থাকলেও তাদের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় হয়তো নেই।’

আছে কি নেই, সেটা বোঝা যাবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। ভারত কিন্তু মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোল উৎসব করেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। সুতরাং গোলের সামর্থ্য তাদের কোনো অংশে কম নয়। তাই লাল-সবুজের রক্ষণ নিয়ে এই দুদিন অনেক কাজ হবে। বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন চান নেপালের বিপক্ষে শেষ ৪৫ মিনিটের খেলা, ‘নেপালের সঙ্গে বিরতির পর আমরা যেভাবে খেলেছি, শুরু থেকেই সেভাবে খেলতে হবে ভারতের বিপক্ষে। এ জন্য রক্ষণভাগ নিয়ে আমরা কাজ করব, তারা যেন আর ভুল না করে।’ ভুল না করার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে না ফুটবলে। তা ছাড়া যাদের রক্ষণ অভ্যাসই তৈরি হয়নি, তাদের পক্ষে তো দেওয়া আরো কঠিন। এর পরও প্রত্যাশা ওই ২৮ মিনিটের দুঃস্বপ্ন যেন না ফেরে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা