kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রক্ষণের ভুল নাকি অনভিজ্ঞতা?

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রক্ষণের ভুল নাকি অনভিজ্ঞতা?

বিরাটনগর থেকে প্রতিনিধি : ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন কোনো রাখঢাক না করেই গড়গড় করে রক্ষণভাগের ভুলগুলো তুলে ধরছিলেন। আর পাশে বসা ডিফেন্ডার মাশুরা পারভীন চোখের পানি মুছছিলেন। এ কান্না যেন তাদের অসহায়ত্বেরই ছবি!

নেপালের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর বাংলাদেশ কোচ গড়গড় করে বলতে শুরু করেন রক্ষণভাগের ভুলের কথা, ‘মাশুরার ভুলে আমরা প্রথম গোল হজম করেছি। এ রকম ম্যাচে ৫ মিনিটে গোল খাওয়াটা ভীষণ চাপের। দ্বিতীয় গোলে মাশুরা ও গোলরক্ষক রূপানার ভুল ছিল। তৃতীয় গোলে ছিল আঁখির ভুল। অথচ ম্যাচের আগে আমরা এই ভুলগুলো কমানোর কথা বলেছিলাম। সেটা তারা করতে পারেনি।’ পুরো দায়টা কোচ খেলোয়াড়দের ওপর চাপিয়ে দিলেন। কিন্তু এই মেয়েরা কি সিনিয়র দলে লড়াই করার মতো পরিণত হয়েছে? বয়সভিত্তিক দলে ভালো করলেও বয়স এবং অভিজ্ঞতায় তাঁরা অনেক পিছিয়ে। অনূর্ধ্ব-১৬ কিংবা অনূর্ধ্ব-১৮ দলে ভালো করার পরই তাঁদের সিনিয়র দলে সুযোগ দেওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা এক বিরাট প্রশ্ন। এ জন্য বোধ হয় পল স্মলির মুখে কখনো নেপাল-জয়ের কথা শোনা যায়নি। বরং সতর্ক হয়েই বলেছিলেন, ‘এরা এখনো মেয়ে। তাদের অভিজ্ঞতা অনেক কম, তাদের তৈরি হতে সময় দিতে হবে। তবে তারা লড়াই করবে।’

এই লড়াইটাও দেখা যায়নি গতকাল। নেপালি পোস্টে সাকল্যে তাদের শট ছিল মাত্র দুটি। পুরো ম্যাচে নেপালি আধিপত্য স্পষ্ট করে দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা এখনো সিনিয়র জাতীয় দলের জন্য তৈরি নয়। অন্তত এই অঞ্চলের শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে জেতার মতো অবস্থা তাদের হয়নি। ওসব দলের বিপক্ষে তাদের রক্ষণাত্মক ফুটবলই খেলতে হবে। আর সেই রক্ষণে দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের দুর্বলতা। রক্ষণ নিয়ে কি সেভাবে কাজ হয়েছে? গোলাম রব্বানী ছোটনের জবাব, ‘মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাইয়ে ভারত ও নেপালের সঙ্গে ম্যান মার্কিং কৌশলে তারা খেলেছিল। সেখানে নেপালের সঙ্গে আমরা ড্র করতে পেরেছিলাম, কারণ ওই ম্যাচে মেয়েরা ভুল করেনি। কিন্তু এ ম্যাচে অনেক ভুল করেছে। অথচ তাদের সব ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছিল, কিভাবে খেলবে সেটা বলে দেওয়া হয়েছিল।’ তবে বলে দিলেই কি মাঠে গিয়ে করা যায়! কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে অল্পবয়সীদের কাছ থেকে কতটুকুই-বা প্রত্যাশা করা ঠিক? সেন্টার ব্যাক আঁখি খাতুন যেমন বলেছেন, ‘অলিম্পিক বাছাইয়ে আমাদের যেখাবে বলা হয়েছিল সেভাবে খেলতে পেরেছিলাম। আজও কোচের নির্দেশনা মেনে মার্কিং করার চেষ্টা করেছি। শিউলি আপার দায়িত্ব ছিল সাবিত্রা ভাণ্ডারীকে দেখার, মাশুরা মার্কিয়ে ছিল নিলু থাপার। কিন্তু দুই নেপালি ফরোয়ার্ড কৌশল পাল্টে ফেলেছে। তা ছাড়া ফুটবল ভুলের খেলা, আমরা কিছু ভুল করে ফেলেছি। দ্বিতীয়ার্ধে দেখেন, সেই ভুলগুলো আর হয়নি।’

একপক্ষ ভুল করবে, আরেক পক্ষ সুযোগ নেবে—এটাই হলো ফুটবল। অভিজ্ঞতার ব্যবধানই ফুটে উঠেছে মাঠে। বাংলাদেশ কোচও অবশ্য পরে তা-ই বলেছেন, ‘নেপালিদের তুলনায় আমার মেয়েদের বয়স কম। অভিজ্ঞতা কম। এই ম্যাচ তাদের জন্য একটা শিক্ষা। আশা করি সামনের ম্যাচগুলোতে ভুল আরো কম হবে।’ ভুল-শুদ্ধের মধ্য দিয়েই আসবে তাদের পরিণতি বোধ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা