kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আশঙ্কাই সত্যি হলো নেপাল ম্যাচে

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশঙ্কাই সত্যি হলো নেপাল ম্যাচে

বিরাটনগরেও বদলায়নি মহিলা ফুটবলে সিনিয়র দলের ভাগ্য। নেপাল ম্যাচের গেরো খুলতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। সাফের এ টুর্নামেন্ট সিনিয়র জাতীয় দলের হলেও কালকের লড়াইটা হয়েছে মহিলা বনাম মেয়েদের, সেখানে মেয়েদের দল ৩-০ গোলে হেরেছে নেপালি মহিলাদের কাছে। এই হারে বাংলাদেশ পড়তে যাচ্ছে এক কঠিন সেমিফাইনালের মুখে। আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলে ভারতই হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। আর তখন চারবারের চ্যাম্পিয়নরাই হবে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ।   

সেটি হবে বাংলাদেশের কমবয়সী ফুটবলারদের জন্য আরেক অভিজ্ঞতা। তবে শারীরিক শক্তি, অভিজ্ঞতা ও ফুটবলীয় মানে আসলে এগিয়ে নেপালি মহিলা দলই। তাদের শারীরিক গড়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ফুটবল খেলা মেয়েদের তুলনা চলে না। সিনিয়র লেভেলে অনেক দিন একসঙ্গে খেলার সুবাদে তারা অভিজ্ঞ এবং ভুলও হয় কম। এরপর ফুটবলীয় মানেও তারা অগ্রগামী, সাবিত্রা ভাণ্ডারির মতো একজন স্ট্রাইকার নেই বাংলাদেশে। বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন মনে করেন, ‘এই উপমহাদেশের সেরা স্ট্রাইকার সাবিত্রা। সে ফুটবলটা খেলে ছেলেদের মতো করে।’ এই নেপালি তরুণী আইডল মানেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে। সাবিত্রার বলের টাচ, দৌড়, জায়গা নেওয়া এমনকি গোল উদ্‌যাপনেও রোনালদোর ছায়া। পর্তুগিজ গোল-মেশিনের মতো এই নেপালিও বড় ভয়ংকর প্রতিপক্ষের গোলমুখে। তাঁর পায়েই হয়েছে লাল-সবুজের সর্বনাশ। একটি গোল করে ২৫ ম্যাচে নিজের গোলসংখ্যা তুলে নিয়েছেন ২৪-এ। আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রায় একটি করে গোল গড়েই স্পষ্ট হয়ে যায় এই স্ট্রাইকারের মান। নিজে গোল করার পাশাপাশি মানজালি কুমারীকে দিয়ে আরেকটি করিয়ে তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় জয়ের প্লট তৈরি করেছেন। 

গোলে তাঁর দারুণ দক্ষতা, এটা ঠিক। এটা বাংলাদেশের মেয়েরাও জানে এবং নির্দিষ্ট কৌশলে তাঁকে আটকে দিয়েছিল গত নভেম্বরে অলিম্পিক বাছাইয়ে। মিয়ানমারে সেই ম্যাচ ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। বিরাটনগরে এসে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে ওঠে তাঁকে গোল উপহার দেওয়ার জন্য! রক্ষণের কোনো লাইন নেই। সাবিত্রার প্রহরী ছিলেন শিউলি, যাঁকে দৌড়ে বারবার বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন এই নেপালি স্ট্রাইকার। পঞ্চম মিনিট থেকেই এমন ভুলের শুরু, নীলুফা ইয়াসমিন না ঠেকালে গোল প্রায় হয়েই যায়। সেই গোলটি হয়েছে এক মিনিট বাদে, আত্মঘাতী। অনিতার তুলে দেওয়া বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে মাশুরার হেড বাংলাদেশের জালে পৌঁছে গেলে হতাশার শুরু। ১০ মিনিটের মাথায় আরেকটি নেপালি লং বলে এলোমেলো রক্ষণভাগ। এবার নীরু থাপা সুযোগ পেয়ে বাইরে মারলে কোনো রকমে রক্ষা হয়। মিনিট পাঁচেক বাদে সাবিত্রার ফ্লিকে চমৎকার সেভ করেন রূপনা চাকমা। এই গোলরক্ষকই ২৩ মিনিটের সময় করে বসেন ভুল। এই সুযোগে কঠিন কোণ থেকে সাবিত্রা বল জালে পাঠিয়ে নেপালকে এগিয়ে নেন ২-০ গোলে। ২৮ মিনিটে এই স্ট্রাইকার দূরের পোস্টের দিকে বল ঠেলে মানজালিকে উপহার দেন আরেক গোল।

২৮ মিনিট ধরে নেপালের ওই চাপ এবং ৩-০ গোলের লিডেই ম্যাচ শেষ। এরপর ম্যাচে ফেরা আসলে কঠিন। অবশ্য খেলায় ফেরার কোনো ইঙ্গিতও ছিল না বাংলাদেশের মেয়েদের পারফরম্যান্সে। ম্যাচ শেষে মাশুরার সরল স্বীকারোক্তি, ‘আমরা নার্ভাস ছিলাম না। ওদের (নেপালের) শারীরিক গড়ন এবং শক্তির সঙ্গে আমরা পেরে উঠিনি। আমরা সাধারণত যেভাবে খেলি সেটা খেলতে পারিনি।’ শুধু মনিকার পায়ে যখন বল পড়েছে তখন একটু চেষ্টা হয়েছে খেলার। কিন্তু একজনের খেলা দিয়ে তো আর একাদশের ভাগ্য বদলানো যায় না। বিরতির পর একটু গুছিয়ে খেলেছে রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধের আত্মঘাতী মাশুরাই অসাধারণ দুটি ক্লিয়ার করে ব্যবধান বড় হতে দেননি। নইলে দুবারই পরাস্ত হয়েছিলেন গোলরক্ষক রূপনা। এমন নেপালি আধিপত্যের ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম পোস্টে শট নিয়েছে ৬৩ মিনিটে গিয়ে। সেটিও বড় দুর্বল। সানজিদার বাড়ানো বলে স্বপ্নার শট গ্রিপে নিয়ে নেন নেপালি গোলরক্ষক। তাঁর ৯০ মিনিটের শটেও অবশ্য বেশ গতি ছিল, কিন্তু নিরাশ করেছে ক্রসবার।  

তাই গোলহীন এক ম্যাচ শেষে হতাশ হয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এই ছবি কিন্তু বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের তারুণ্যের ছবি নয়। বয়সভিত্তিক ফুটবলে তাদের অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছিল গোল উৎসবে। সুন্দর ফুটবল এবং গোলের শোরগোলে তারা একে একে বয়সের সিঁড়ি ভেঙে সিনিয়র জাতীয় দলে ঢুকেছে। কিন্তু এই মঞ্চ যে বড় কঠিন। সময়ের আগে এখানে এলে তারুণ্য হোঁচট খায়। এখানে বয়স-শরীর-অভিজ্ঞতা গড়ে দেয় বড় পার্থক্য। মনিকা-মারিয়াদের জন্য এটাই হলো বিরাটনগরের শিক্ষা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা