kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিভীষিকার দুয়ার থেকে ফেরা

এই ঘটনার পর সব বদলে যাবে

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই ঘটনার পর সব বদলে যাবে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্রাইস্টচার্চের নূর মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার শিকার হতে হতেও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার ঘটনায় দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনের নড়েচড়ে বসাই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত। হয়েছেও তা-ই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান গতকাল দুপুরে স্পষ্টই বলে দিয়েছেন, ‘আজকের এই ঘটনার পর সব বদলে যাবে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহই নেই।’

বদলে যাবে বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন এখন থেকে বাংলাদেশ দল যেখানেই যাক, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কোনো ফাঁক রেখে যাওয়া যাবে না। আয়োজক বোর্ডের তরফ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিললেই শুধু সেখানে খেলতে যাবে বাংলাদেশ। না হলে নয়। গতকাল ভোর থেকেই বাংলাদেশ দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আসা সভাপতি এ ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার বিকল্পও দেখছেন না এখন, ‘আজকের ঘটনার পর এটি নিশ্চিত, বিসিবি এখন থেকে কোথাও দল পাঠানোর আগে সব ধরনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইবে। এটা যারা দিতে পারবে, তাদের ওখানেই আমরা খেলতে যাব। এ ছাড়া কোথাও খেলতে যাওয়া সম্ভব হবে না।’

এত দিন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়ে কিছুটা শৈথিল্যের বিষয়টিও অস্বীকার করেননি বিসিবি সভাপতি। বিশেষ করে বাংলাদেশে আতিথ্য নিতে আসা কোনো দলের জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা থাকে, মাহমুদ উল্লাহদের বিদেশ সফরে থাকে না এর ধারেকাছেও। দলের সঙ্গে নানা সময়ে বিদেশের টুর্নামেন্টে থাকা নাজমুল নিজের সেই উপলব্ধি প্রকাশেও অকপট, ‘অনেক সময় আমারও মনে হয়েছে, আমাদের যে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। অথচ আমাদের এখানে আমরা বিদেশি দলকে যেভাবে নিরাপত্তা দিই, তা কল্পনাই করা যায় না।’

এমনকি জিম্বাবুয়েকেও সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়া বাংলাদেশ কেন নিজেদের ক্ষেত্রে সেরকম কিছু চায় না? না চাওয়ার কারণ হিসেবে নাজমুল বললেন, ‘অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে যখন আমরা যাই, তখন সেই ধরনের নিরাপত্তা কিন্তু আমাদের দেওয়া হয় না, যেটি আমরা কোনো দল এখানে এলে দিয়ে থাকি। সত্যি কথা বলতে আমরা এটি নিয়ে কোনো জোরাজুরিও করিনি। অন্যান্য দেশকেও দেখেছি যে তারাও কেউ জোরাজুরি করে না।’ না করার কারণও আছে। বরাবরই শান্তিপ্রিয় দেশ নিউজিল্যান্ডে শচীন টেন্ডুলকারের মতো ক্রিকেটারকেও হ্যামিল্টনের হোটেল থেকে হেঁটে সেডন পার্কে যেতে দেখা গেছে। অবাধ শান্তির দেশে ক্রিকেটার কিংবা অন্য কোনো খেলার খেলোয়াড়দের আক্রান্ত হওয়ারও তো কোনো খবর ছিল না এত দিন। সেই নিউজিল্যান্ডেই যখন এখন মসজিদের মতো ধর্মীয় স্থানে বন্দুকধারীর হামলা হলো, তখন সন্ত্রাসের বৈশ্বিক ধারণাও বদলে যেতে বাধ্য।

অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশ দলের জন্যও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা এখন বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসবাদের ঘটনায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশে আসতে না চাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত এলেও নিরাপত্তা নিয়ে তাদের সব রকম চাহিদা মেটানো বাংলাদেশও এখন পাল্টা চাওয়ার মতো অবস্থানে। ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় এটিও প্রমাণিত যে পৃথিবীর কোনো জায়গাই এখন আর নিরাপদ নয়। নাজমুল জোর দিলেন সেদিকটিতেই, ‘আমরা সব সময়ই বলে এসেছি যে এমন ঘটনা কিন্তু যেকোনো জায়গাতেই ঘটতে পারে। কাজেই আমার মনে হয় প্রতিটি দেশকেই এখন সতর্ক হতে হবে। প্রতিটি দলকেই আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। ওদের (অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ড) হয়তো ধারণা থাকতে পারে এসব শুধু আমাদের এখানেই বা ভারতীয় উপমহাদেশেই হয়। ওদের ওখানে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এখন কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে গেল।’ হামলার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশসহ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে না পারার ব্যাপারটিও কম বিস্মিত করেনি নাজমুলকে, ‘আমার কাছে যেটি মনে হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে কোনো ধারণাই ছিল না নিউজিল্যান্ডের। এ ধরনের কিছু ঘটলে কী হতে পারে বা কী করতে হবে। ওইখানে পুলিশ যেতে যে সময়টা লেগেছে, সেটিই তো অবাক করার মতো। আমার মনে হয় না আমাদের দেশে বা আশপাশের কোনো দেশে এমন কিছু হলে পুলিশ আসতে এত সময় লাগত। ওরা হয়তো অপ্রস্তুত ছিল। এখন হয়তো এই ব্যাপারে আরো সতর্ক হবে। তবে অন্যরা কে কী করবে জানি না। আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পেলে তবেই যাব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা