kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘মেয়ে’দের সঙ্গে ‘মহিলা’দের লড়াই!

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিরাটনগর থেকে প্রতিনিধি : ‘বাংলাদেশের মেয়েরা খেলবে মহিলা দলের বিপক্ষে’—হোটেলে হঠাৎ করে পল স্মলির কথাটা বেশ কানে বাজল। পরে বাংলাদেশ ফুটবলের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর খোলসা করেছেন, ‘আমাদের দলটি হয়েছে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ফুটবলের দুর্দান্ত সব মেয়েদের নিয়ে। সাবিনা বা দু-একজনকে বাদ দিলে বাকি সবাই মেয়ে, তাদের মহিলা বলা যাবে না।’

বাংলাদেশের জন্য সাফের লড়াইটা তাহলে মেয়ে বনাম মহিলা! আপাতদৃষ্টে অসম, তাই এ লড়াইয়ে সম্ভাবনার গল্পের পাশে আছে শঙ্কাও। সম্ভাবনা শিরোপা আলিঙ্গনের। আর শঙ্কা পরিণত মহিলাদের অভিজ্ঞতার কাছে কিশোরীদের আত্মসমর্পণ। তবে আজ প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে শঙ্কার লেশমাত্র নেই। ভুটানি মহিলা হলেও যে কিছু যায়-আসে না লাল-সবুজের কিশোরীদের। মহিলা ফুটবলের ঐতিহ্য মেনেই তাদের ভুটানকে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ারই কথা।

কিন্তু মেয়ে আর মহিলার পার্থক্য প্রকট হয়ে যেতে পারে ভারত-নেপালের বিপক্ষে। পল স্মলির কাছে পার্থক্যটা এ রকম, ‘বাংলাদেশ দল কিন্তু ভারতের মতো নয়। তাদের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে আলাদা আলাদা খেলোয়াড় আছে, ওসব গ্রুপে তারা খেলে। সুবাদে সিনিয়র দলের খেলোয়াড়রাও আলাদা, যারা একসঙ্গে কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু টুর্নামেন্ট খেলছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও পরিণতিবোধ অনেক বেশি, যেটা আমাদের নেই।’ পরিণতিবোধের অভাবটা স্পষ্ট হয়েছিল গত নভেম্বরে মহিলা অলিম্পিক ফুটবলের বাছাইয়ে। ভারতের কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছে হারে ৫-০ গোলে। একটি ম্যাচ ড্র করেছিল, নেপালের সঙ্গে ১-১ গোলে। এরপর দেশে মহিলা ফুটবলের উন্নতিটা প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দাঁড়িয়ে আছে এক অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ওপর। বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে সিনিয়র দল পর্যন্ত খেলে তারাই। যেমন সদ্য এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ খেলে আসা ৯ জন আছে সাফের সিনিয়র দলে।

এটা খুব ভালো করে জানেন পল স্মলি। তিনি জানেন এই অনূর্ধ্ব-১৬ দলের মেয়েদের সীমাবদ্ধতার কথাও, তাই বোধ হয় ব্রিটিশ টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের সাফের স্বপ্নের পরিধি সতর্কতার বেষ্টনীতে আবদ্ধ। সাফের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে অনেকে শিরোপাকথনে মজে গেলেও তাঁকে হাঁটানো যায়নি ওই লাইনে। আগেরবারের রানার্স-আপ হিসেবে সাবিনা-স্বপ্নারা তো এবার সেরার স্বপ্ন দেখতেই পারে। কিন্তু এই সরলীকরণে যে ফুটবল চলে না তারই ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, ‘আমাদের দলটি কয়েকটি বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত। একটা ফুটবলারের সেরা সময় আসে ২৫-২৬ বছর বয়সে। আমার এই দলে সাবিনা ছাড়া কারো বয়স অত হয়নি। এরা বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দল থেকে এসেছে। তাই তাদের এখনো পারফরম্যান্সের তুঙ্গে ওঠার বয়স হয়নি। তাদের সময় দিতে হবে আরো। তারা শিখছে প্রত্যেক টুর্নামেন্টে। যেমন আগে চীনের কাছে ৬ গোল খেয়েছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ হজম করেছে ৩ গোল, সামনের ম্যাচ হয়তো ড্র হবে। এ সবই হলো অভিজ্ঞতার গুণ।’

এ রকম অভিজ্ঞতার হিসাব করলে ভারতীয় দলে চার-পাঁচটি সাফ খেলা ফুটবলার বেশ কয়েকজন আছে। আর বাংলাদেশে একমাত্র সাবিনা খেলছেন পঞ্চম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই ফরোয়ার্ডের মতো অভিজ্ঞতা দলে অন্য কারো নেই। তাই ভুলের সম্ভাবনাও বেশি থাকে, সেটাই ভয়ের কারণ। সাবিনার কণ্ঠে তাই ভুল কমিয়ে ইতিবাচক ফুটবলের আহ্বান, ‘জাতীয় দলে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের মেয়েরা খেলছে। তাদের প্রতিভা অনেক, খুব ভালো খেলে তবে অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে। আমার মনে হয়, এই টুর্নামেন্টে ভুল যত কম হবে সাফল্যের সুযোগ তত বেশি মিলবে।’

বয়সেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সেই রূপটা এখনো ঠিকঠাক ফোটেনি বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবল দলে। তাই সেরার স্বপ্নটা আপাতত গোপনে রেখেই সাফ শুরু করছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা