kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

হ্যাটট্রিক

রোনালদোয় জুভেন্টাসের রূপকথা

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোনালদোয় জুভেন্টাসের রূপকথা

রক্ষণ নয় যেন দুর্গ। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সেই দুর্গই গুঁড়িয়ে দিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের শুরুতে তাঁর হেডে আশা বাড়ে জুভেন্টাসের। বিরতির পর আরেকটি হেড ফেরায় কক্ষে। আর শেষ দিকের পেনাল্টি গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। আসল মঞ্চে জ্বলে উঠে হ্যাটট্রিক পর্তুগিজ যুবরাজের। তাতে রূপকথার প্রত্যাবর্তনে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বুক ভাঙল জুভেন্টাস। ৩-০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির দলটিই। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা ডিয়েগো সিমিওনের দল অসহায়ই ছিল জুভেন্টাসের মাঠে। গত পরশু অন্য ম্যাচে শালকেকে নিয়ে ছেলেখেলায় মাতে ম্যানচেস্টার সিটি। জার্মান দলটিকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে জয় ৭-০ ব্যবধানে! প্রথম লেগে ৩-২ গোলে এগিয়ে থাকা পেপ গার্দিওলার দল দাপটেই পা রেখেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

২০১৩-১৪ মৌসুমের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ গোল হজম করেনি অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদই। এই সময়ে তারা দুইবার খেলে ফাইনাল। দুইবারই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর রিয়ালের কাছে হতাশার হার। রোনালদো তাঁবু বদলে এখন জুভেন্টাসে। কিন্তু পুরনো শত্রুদের বিপক্ষে খেললেন ২০১৫-১৬ মৌসুমের মতো ধ্বংসাত্মক ছন্দে। সেবার উলফসবুর্গের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগ ২-০ গোলে হেরেছিল রিয়াল। ফিরতি লেগে রোনালদোর হ্যাটট্রিক বদলে দেয় সব অঙ্ক। উলফসবুর্গের তখনকার কোচ দিয়েতর হেকিং মঙ্গলবারের ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ‘রোনালদোর পক্ষে সবই সম্ভব। যদি কেউ পারে, রোনালদোই পারবে।’ হ্যাঁ, আরো একবার রোনালদো বোঝালেন, ৩৪ বছর বয়সেও সব সম্ভব তাঁর পক্ষে।

রেফারির বাঁশি বাজার পর থেকেই অ্যাতলেতিকোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে জুভেন্টাস। জর্জিও কিয়েল্লিনি পঞ্চম মিনিটেই বল পাঠান জালে। কিন্তু তাঁর শটের আগে রোনালদোর পা গোলরক্ষকের হাতে আঘাত করায় ভিএআরের সাহায্যে গোল বাতিল করেন রেফারি। ২৭ মিনিটে লক্ষ্য ভেদ করে জুভেন্টাসকে এগিয়ে দেন পর্তুগিজ যুবরাজ। ফেদেরিকো বের্নারদেস্কির বাঁ দিক থেকে বাড়ানো ক্রসে লাফিয়ে নেওয়া হেডে বল পাঠান জালে। ৪৯ মিনিটে তাঁর আরো একটি হেড সমুদ্রের গর্জন তোলে গ্যালারিতে। এবার ক্যানসেলোর হাওয়ায় বাড়ানো ক্রস মাথায় ছোঁয়ার পর ফিরিয়েছিলেন গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক। কিন্তু এর আগে বল লাইন পার হয়ে যাওয়ায় উৎসবে মাতোয়ারা জুভেন্টাস (২-০)। ম্যাচের আগে রোনালদো শুধু চাইছিলেন দর্শকদের অকুণ্ঠ সমর্থন। সেই সমর্থনেই ম্যাচজুড়ে কোণঠাসা অ্যাতলেতিকো। একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি তারা। বিপরীতে ৬২ শতাংশ বলের দখল রেখে খেলা জুভেন্টাসের ১৬টি শটের চারটি ছিল লক্ষ্যে।

আক্রমণের এমন ঝাঁজে ৮৬ মিনিটে রোনালদোর সফল স্পটকিকে ৩-০ গোলে জয় জুভেন্টাসের। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢোকা বের্নারদেস্কিকে পেছন থেকে আনহেল কোররেয়া ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। স্নায়ুর পাহাড়সমান চাপ জয় করে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ান রোনালদো। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে ফিরে আসার অনন্য নজির গড়ে জুভেন্টাস। এর নায়ক রোনালদোকে ঘিরে বুনো উল্লাসে মাতেন দিবালা, কিয়েল্লিনি, বের্নারদেস্কিরা। গ্যালারিতে ছড়ায় উল্লাসের রং। ২০০৫-০৬ মৌসুমের পর প্রথম লেগ হেরে এবারই প্রথম নক আউটের বাধা পার হলো ইতালিয়ান ঐতিহ্যবাহী দলটি।

নক আউটের অন্য ম্যাচে শালকের মাঠে ৩-২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। গত পরশু ফিরতি লেগে তাদের জয় ৭-০ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে অগ্রগামিতা ১০-২ এ। চ্যাম্পিয়নস লিগে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৮-০৯ মৌসুমের শেষ ষোলোতে স্পোর্তিংয়ের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখের ১২-১ অগ্রগামিতা এই টুর্নামেন্টের নক আউটে সর্বোচ্চ। ম্যানসিটির হয়ে ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল সের্হিয়ো আগুয়েরোর। ৩৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনিই। ছন্দে থাকা এই আগুয়েরোকে আর্জেন্টাইন দলে না ডাকার সমালোচনা তো এমনি এমনি করেনি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ৪২ মিনিটে লিরয় সানে, ৫৬ মিনিটে রহিম স্টার্লিং, ৭১ মিনিটে বের্নার্দো সিলভা, ৭৮ মিনিটে ফোডেন আর ৮৪ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল জেসুস করেন অন্য গোলটি। এ নিয়ে কোচ হিসেবে ১০ আসরের মধ্যে ৯ বারই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পেপ গার্দিওলার দল। বিবিসি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা