kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বাংলাদেশের ‘সহজ পাঠ’ ভুটান

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশের ‘সহজ পাঠ’ ভুটান

ঢাকা আর বিরাটনগরের মধ্যে খুব পার্থক্য নেই। কাঠমাণ্ডুর ঠাণ্ডা এখানে নেই, গরমে বারবার ফেরে ঢাকার অনুভূতি। নেপালি এই শহরের মশারা শরীর-স্বাস্থ্য ও উৎপাতে ঢাকার চেয়ে কিছু কম যায় না! আর যারা কমলাপুর স্টেডিয়াম দেখেছেন তাঁদের বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গশালা না দেখলেও চলবে। পার্থক্য হলো, কমলাপুরে কৃত্রিম মাঠের জায়গায় এখানে ঘাসের মাঠ। রঙ্গশালায় (স্টেডিয়াম) ঢোকার ভাঙাচোরা আর ধূলি-ধূসরিত রাস্তায় খুঁজে পাবেন হালের ঢাকাকে। তাই পড়শির আঙিনায় আজ ঘরোয়া আমেজে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে নামছে বাংলাদেশের মেয়েরা। 

হোটেল মালিকও বাংলায় গড়গড় করে বলে দিচ্ছেন, ‘আরে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটান পারবে কী করে! নেপাল ও বাংলাদেশ ভালো দল।’ ‘নমস্তে নেপাল’ হোটেলের মালিকের মতো আমজনতা বাংলায় ভালো না হলেও কমবেশি বোঝে।

বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৩টায় আজ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভুটান। এই ভুটানের বিপক্ষে কখনো হারেনি লাল-সবুজের মেয়েরা। সিনিয়র দল তো বটেই, এমনকি বয়সভিত্তিক পর্যায়েও কোনো হার নেই। তাই ম্যাচের ফলটা অনুমান করা যায় বৈকি। কিন্তু বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন অতি আত্মবিশ্বাসে ঢেঁকুর না তুলে বরং সতর্ক, ‘টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামব। এটা সব সময় একটু কঠিনই হয়। ভুটানকে হারিয়ে আমরা আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে চাই। আমার বিশ্বাস, আমাদের দলের সেই শক্তি আছে।’

শক্তিতে ঢের এগিয়ে বাংলাদেশ, এর প্রমাণ দিয়েছে বহুবার। সেই অনুযায়ী ম্যাচ জিতলেই গতবারের রানার্স-আপরা পৌঁছে যাবে সেমিফাইনালে। কারণ আগের ম্যাচে নেপালের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে ভুটান। কিন্তু গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের অঙ্ক মেলাতে গেলে গোলের হিসাবটাও যে সামনে চলে আসতে পারে। এটাও কোচের মাথায় আছে, তাই বলে রক্ষণ আলগা করে গোলের জন্য মরিয়া হতে চান না, ‘প্রথমত আমি জিততে চাই, সেটা নিশ্চিত হলে শেষের বিশ মিনিট আক্রমণের তেজ বাড়িয়ে গোলসংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করব।’

গোলের দাবিটা বেশি দলের দুই স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন ও সিরাত জাহান স্বপ্নার কাছে। দলের সবকটি সাফ খেলা একমাত্র খেলোয়াড় সাবিনা খাতুনের কাছে গোলের অঙ্কটা নয়, ‘স্ট্রাইকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আছে, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। তবে আমাদের এই দলের বড় গুণ হলো, সবারই গোল করার ক্ষমতা আছে। এমনকি ডিফেন্ডাররাও গোল করে ম্যাচ জেতায়।’

লাল-সবুজের মহিলা ফুটবলের আসল সৌন্দর্যই হলো গোলে। গোল ফুটবলে পরম কাঙ্ক্ষিত বস্তু, এর জন্যই ৯০ মিনিটের লড়াই। কিন্তু এটি যে এত অনায়াস ও সহজপ্রাপ্য হতে পারে, সেটি বাংলাদেশের মেয়েদের না দেখলে বোঝা কঠিন। বয়সভিত্তিক আসরে তারা মুড়ি-মুড়কির মতো গোল করে। তাদের শুটিং, গতি এবং কয়েক পাসে গোলমুখ খোলার দৃশ্যগুলো দেখে মাঝে মাঝে পুরুষ ফুটবলারেরও ঈর্ষা হবে। তবে বয়সভিত্তিক ফুটবলের সেই গোলের পারফরম্যান্স সিনিয়র দলে রূপান্তরটাই এবারের চ্যালেঞ্জ। ভুটানের বিপক্ষে এটা কি অত বড় চ্যালেঞ্জ? অতীত কিন্তু তা বলে না, সাফে এই ভুটানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৯-০ গোলে জয়ের রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। আর বয়সভিত্তিক ফুটবলেও বড় জয়ের রেকর্ড ভুটানের সঙ্গে, ১৬-০ গোলে।    

ইতিহাস বলছে, ভুটান সব সময় বাংলাদেশের সামনে নতজানু। ভুটানি কোচ তাই আগেই তাঁর গ্রুপের ভবিষ্যদ্বাণী করে রেখেছেন, ‘আমাদের এই গ্রুপে নেপাল ও বাংলাদেশ খুব শক্তিশালী। বয়সভিত্তিক ফুটবলে তারা দুর্দান্ত খেলছে, সেই মেয়ারাই তাদের মূল দল বদলে দিচ্ছে।’ মারিয়া মান্ডা-তহুরারাই মহিলা ফুটবলের দিনবদলের ঝাণ্ডা হাতে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ওপর টিম ম্যানেজমেন্টের আত্মবিশ্বাস এতটাই যে ম্যাচের আগের দিনও ম্যাচ ভেন্যুতে বল নিয়ে এতটুকু প্র্যাকটিস করেনি  বাংলাদেশ। সামান্য ওয়ার্ম-আপ করেছে। এরপর বাফুফের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলি বল ছাড়া পজিশনগুলো বুঝিয়েছেন। কর্নার কিক, ফ্রি-কিকে কার অবস্থান কী হবে—এসব করেই সাফ শুরুর ম্যাচের প্রস্তুতি শেষ। পরীক্ষার আগের দিন বুঝি বেশি পড়তে নেই! বাংলাদেশ কোচের যুক্তি, ‘গত দুই বছরে এত প্র্যাকটিস এবং ম্যাচ খেলেছে, নতুন করে আর কী শেখানোর থাকে...। তারা স্বাভাবিক ফুটবল খেললে আমরা জিতব।’ সত্যি, ভুটানের বিপক্ষে পরীক্ষা দিতে গেলে অত সিরিয়াস হওয়ার কিছু নেই। সহজ-সরল ফুটবলই যথেষ্ট। মারিয়া-সানজিদারা লড়াই করে উত্তর কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিদের সঙ্গে। হোক না তা বয়সভিত্তিক ফুটবলে, তার নির্যাস তো সিনিয়র দলেও ছড়াবে। সুতরাং তাঁদের কাছে ভুটান এখনো সাফের সহজ পাঠ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা