kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

সাকিবের আয়নায় নিজেকে দেখেন না তাইজুল

২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাকিবের আয়নায় নিজেকে দেখেন না তাইজুল

কাল প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে এ প্রশ্ন শুনে বরং কিছুটা যেন চমকে ওঠেন ওই বাঁহাতি স্পিনার। দ্রুত জবাব দেন তাইজুল, ‘সাকিব ভাইয়ের বদলি আমি, এ কথার সঙ্গে একমত না। কারণ সাকিব ভাইয়ের বিকল্প হিসেবে আমি আসি না। উনি ব্যাটিং-বোলিং দুটোতেই অসাধারণ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। আমি যদি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই, তাহলে ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্রামে সাকিব আল হাসান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তাঁর বিকল্প হিসেবে নেওয়া তাইজুল ইসলাম সেই অলরাউন্ডারের অভাব পূরণ করতে পারবেন কতটা? কাল প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে এ প্রশ্ন শুনে বরং কিছুটা যেন চমকে ওঠেন ওই বাঁহাতি স্পিনার। দ্রুত জবাব দেন তাইজুল, ‘সাকিব ভাইয়ের বদলি আমি, এ কথার সঙ্গে একমত না। কারণ সাকিব ভাইয়ের বিকল্প হিসেবে আমি আসি না। উনি ব্যাটিং-বোলিং দুটোতেই অসাধারণ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। আমি যদি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই, তাহলে ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’

সাকিবের বদলি হিসেবে আসলে কেউই ‘আসেন’ না। পুরো ক্রিকেটবিশ্বেই তো এখন অমন অলরাউন্ডারের অভাব। আর বিশ্বকাপে যেমন পারফরম করেছেন, তাতে বিকল্প হিসেবে কাউকে নেওয়া বাংলাদেশের নির্বাচকদের জন্য কঠিনই ছিল। বিশ্বকাপের আট ম্যাচে ৬০৬ রান করা এবং ১১ উইকেট নেওয়া সাকিবের বদলি হিসেবে একজন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান, একজন পুরোদস্তুর বোলার চাই। অমন কাউকে কোথায় পাবে বাংলাদেশ! সে কারণেই তাঁর বদলি হিসেবে খোঁজ পড়েছে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলের।

বিস্ময়কর ক্যারিয়ার তাঁর। বিশেষত ওয়ানডে ফরম্যাটে। সেই ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে অভিষেক তাইজুলের। আর প্রথম ম্যাচেই কিনা হ্যাটট্রিক! ওই অর্জনসহ ৪ উইকেট তাঁর। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে সেটি বাংলাদেশের শেষ ওয়ানডে; তাতে এমন পারফরম্যান্সের পর তাইজুলকে আর বাদ দেওয়ার উপায় থাকে না। কিন্তু বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলেই বা কী, একটির বেশি ম্যাচে একাদশে সুযোগ পান না। এরপর ২০১৬ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটো ম্যাচ। তাইজুলের ওয়ানডে ক্যারিয়ার থমকে ছিল সাকল্যের ওই চার ম্যাচে।

এ সময়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন দাপটের সঙ্গে। একাদশে সাকিবের সঙ্গে প্রায় নিয়মিত মুখ হিসেবে। ২৪ টেস্টে ৯৯ উইকেট শিকারের রেকর্ড সমীহ জাগানিয়া। তাইজুলের গায়ে লেপ্টে গেছে তাই ‘টেস্ট বোলার’-এর তকমা। সেই টেস্ট বোলারকে ওয়ানডে ফরম্যাটের জন্য আবার তিন বছর পর মনে পড়েছে নির্বাচকদের। শুধুই যে সাকিব নেই বলে, তা নয়। ২০১৯ বিশ্বকাপেও তো কখনো কখনো সাকিবের সঙ্গী হিসেবে আরেকজন বাঁহাতি স্পিনারের অভাব বোধ করেছে বাংলাদেশ।

সে কারণেই তাইজুলকে জরুরি তলব। বিসিবি একাদশের হয়ে বেঙ্গালুরুতে ম্যাচ খেলছিলেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা গিয়ে যোগ দেন জাতীয় দলের সঙ্গে। কাল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুপুর দুটো থেকে তিন ঘণ্টার ঘাম ঝরানো অনুশীলন করেন দলের সঙ্গে। সাকিবের বদলি হিসেবে তাঁর জাতীয় দলে ঢোকার প্রশ্নে ওঠেন চমকে। সাকিবের ব্যাটিং না হোক, বাঁহাতি স্পিনের অভাব কিছুটা পূরণ করতে পারবেন তাইজুল—এটাই তো নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়া। সে চাওয়া পূরণে মুখিয়ে আছে এই বাঁহাতি স্পিনারও। তাহলে যে তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত হবে! সাড়ে চার বছরে মাত্র চার ওয়ানডেতে থমকে থাকা ক্যারিয়ার চাকাও ঘুরবে তাহলে আবার।

বাংলাদেশ দলের সামনেও চ্যালেঞ্জ বিশ্বকাপ ব্যর্থতা পিছু ফেলে এগিয়ে যাওয়ার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ সে উপলক্ষ এনে দিয়েছে। না হয় ছুটিতে থাকা সাকিব ও লিটন দাস নেই, ইনজুরির কারণে ছিটকেই বা গেলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। তবু ভালো করার আশা ছাড়ছে না বাংলাদেশ। দলের প্রতিনিধি হিসেবে সেটিই বলে যান কাল তাইজুল, ‘আমাদের দল যে জায়গায় আছে, অনেক ভালো জায়গায় আছে। শ্রীলঙ্কার চেয়ে আমাদের দল যে খারাপ, তা বলা যাবে না। এ সিরিজে যারা ভালো খেলবে, তারাই ভালো ফল পাবে। আমরা সবাই তাই চেষ্টা করব ভালো খেলার জন্য।’ সে ভালো খেলায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি তাঁর, ‘দলের সবাই সবাইকে সব সময় সাহায্য করেন। এখনো তা-ই করছি। আশা করি, ভালো কিছুই হবে। সবার মধ্যে সেই চেষ্টা রয়েছে।’

সেই চেষ্টায় সাফল্য না এলে সেটি বাংলাদেশ ক্রিকেটে অশনিসংকেতই দেবে বৈকি!

মন্তব্য