kalerkantho

সুফিলের প্রতিটি মুভমেন্ট আমি জানি

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুফিলের প্রতিটি মুভমেন্ট আমি জানি

তাঁর একমাত্র গোলেই জিতেছে বাংলাদেশ। কম্বোডিয়াকে তাদের মাটিতে ১-০ গোলে হারিয়েছেন জেমি ডের শিষ্যরা। নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলে দলকে দেশের বাইরে জিতিয়ে ওঠা রবিউল হাসান এক রাত ঘুমিয়েও স্বপ্নাতুর। গতকাল দেশে ফেরার আগে নম পেনের সান ওয়ে হোটেলের লবিতেই জয়ের নায়কের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মাজহারুল ইসলাম

 

প্রশ্ন : আন্তর্জাতিক ফুটবলে আপনার প্রথম গোল। সেই গোলেই কম্বোডিয়ায় জয়। কেমন অনুভূতি হচ্ছে?

রবিউল হাসান : বিদেশের মাটিতে জয়, তাও সেটা আমার গোলে। এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটা অনেক বেশি আনন্দের। অনেক অনেক খুশি আমি। আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া।

প্রশ্ন : বেশির ভাগ সময় বদলি হিসেবে খেলতে হয় আপনাকে। জাতীয় দলে অভিষেক থেকেই কি এমনটা হচ্ছে?

রবিউল : শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নীলফামারীতে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ম্যাচটি খেলেছি। জাতীয় দলে শুরুর একাদশেও খেলেছি। বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের পুরোটাই প্রথম একাদশে খেলেছি।

প্রশ্ন : কম্বোডিয়ার ম্যাচে কোচের কী নির্দেশ ছিল?

রবিউল : জেমি ডেও কম্বোডিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশে খেলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উনার ভাবনায় ছিল বাইরাইনের টুর্নামেন্ট। উনি বলেছিলেন ওই আসরে তুমি আর বাদশা অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, তাই তোমাদের নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাই না। আর আমি চাই না প্রীতি ম্যাচে খেলে তোমরা ইনজুরিতে পড়ো। তবে কোচ বলেছিলেন চিন্তা করো না ১০, ২০ কিংবা ৩০ মিনিট—তোমাকে আমি খেলাবই। সুযোগটা কাজে লাগিও।

প্রশ্ন : আরামবাগ ও জাতীয় দল দুই জায়গাতেই মাঝমাঠে খেলেন। যদি জেমির সঙ্গে ক্লাব কোচ মারুফুল হককে তুলনা করতে বলি...।

রবিউল : অনেক মিল মারুফুল হকের সঙ্গে জেমি ডের। মারুফ স্যারের কথা বলে শেষ করতে পারব না। ভালো কোচ এবং ভালো মানুষও। তাঁর অধীনে খেলার স্বপ্ন ছোটবেলা থেকে। উনার সঙ্গে দুই বছর ধরে আছি, এটা যেন স্বপ্ন। অনেকে জানেন মারুফ স্যার ম্যাচে কোনো খেলোয়াড় ভুল করলেও চিৎকার চেঁচামেচি করেন না। জেমি ডেও তা-ই। আমি যখন প্রথম ওনার সঙ্গে অনুশীলন করি, তখন অবাক হয়ে যাই দুই কোচের মিল দেখে। জেমি ডের চোখেও সবচেয়ে ভালো দল আরামবাগ। এবারই তিনি লিগের খেলা দেখেছেন, তাতে আরামবাগের খেলাটা তাঁর বেশ মনে ধরেছে। তিনি যেভাবে চান আরামবাগ নাকি সেভাবেই খেলে।

প্রশ্ন : মাঝমাঠে কার খেলা আপনি অনুসরণ করেন?

রবিউল : মামুনুল ভাইয়ের খেলা দেখেছি। আরমান ভাই ও মতিউর মুন্না ভাইয়ের খেলার ভিডিও খুঁজেও পাইনি। তবে মামুন ভাইয়ের খেলার ভিডিও আছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। আসলে আইডল হিসেবে কাউকে ফলো করি না। তবে রিয়ালের সাবেক অধিনায়ক গুতির খেলা ভালো লাগে।

প্রশ্ন : মিডফিল্ডার রবিউলের সবচেয়ে বড় গুণ কোনটি?

রবিউল : দ্রত সিদ্ধান্ত নেওয়া। রক্ষণের সামনে ভালোভাবে বল সামলানো এবং চূড়ান্ত পাস দেওয়া।

প্রশ্ন : বর্তমান বাংলাদেশ দলটা কেমন, পারফরম্যান্স বদলে যাওয়ার কারণই বা কী?

রবিউল : এটা আসলে খেলোয়াড়দের মানসিকতা। আমরা অনুশীলনও করেছি অনেক ভালোভাবে। বর্তমান দলটা দারুণ সমীহ জাগানিয়া। এ জন্য লিগের অনেক অবদান আছে। লিগ চলায় ফুটবলাররা খেলার মধ্যেই ছিল, ফিটনেস নিয়ে তাই সমস্যা হয়নি। কোচ শুধু দেখেই একাদশ গড়ে মাঠে নামিয়ে দিতে পেরেছেন। সাফল্যও ধরা দিয়েছে।

প্রশ্ন : আপনি যাঁর পাসে গোলটি করেছেন, সেই সুফিলের সঙ্গে দিলকুশায় খেলেছেন বেশ কিছু সময়। সে কারণেই কি বোঝাপড়াটাও ভালো?

রবিউল : আমি তো মিডফিল্ডার, দিলকুশায় আমি ওকে দিয়ে ৮ গোল করিয়েছিলাম। সুফিলের প্রতিটি মুভমেন্ট আমি জানি। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে বল নিয়ে সুফিল যখন উইংয়ে গেছে তখন আমি ওর সাপোর্টে যাইনি, গোল পোস্টের দিকে এগিয়ে যাই। কারণ, আমি জানতাম ও তখন কাটব্যাক করবে অথবা ওদের ডিফেন্সের সামনে বল ফেলবে, এটা ওর দক্ষতা। সে কারণে ভালো সংযোগ হয়েছে এবং গোলও হয়েছে।

প্রশ্ন : বাইরাইনের অনূর্ধ্ব-২৩ আসর নিয়ে কতটা আশাবাদী আপনি?

রবিউল : অনেক ভালো দল এখন বাংলাদেশ। তবে অনূর্ধ্ব-২৩ দলটা আরো ভালো। আগেরটাও খারাপ ছিল না, তবে এবারেরটা নিয়ে আমি বেশি আশাবাদী। কারণ আমরা যারা খেলব তাদের বেশির ভাগই জাতীয় দলের খেলোয়াড়। আর আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে সবাই দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলছি। তাই ভালো ফলই আশা করছি।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ পরের রাউন্ডে যেতে পারবে বলে মনে করেন?

রবিউল : আমি ভীষণ আশবাদী। জেমি ডে অনেক ভালো কোচ, উনি যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তাহলে আমরা ভালো কিছুই করতে পারব বলে প্রত্যাশা করি। ইনশাআল্লাহ আমরা কোয়ালিফাই করব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা