kalerkantho

আশার মশাল এখন পেসারদের হাতে!

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশার মশাল এখন পেসারদের হাতে!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগের দুই দিন খেলা হতে না দেওয়া বৃষ্টি পিছু ছাড়েনি ওয়েলিংটন টেস্টের তৃতীয় দিনেরও। তাই দিনের খেলা শেষ হয় ২৫.২ ওভার আগেই। পুরো সময় খেলা হলে বাংলাদেশের দুই পেসার আবু জায়েদ ও এবাদত হোসেন নিউজিল্যান্ডকে আরো কতটা চাপে ফেলতে পারতেন, প্রকৃতির থাবায় আরেকবার খেলা বন্ধ হতেই এই কৌতূহলও কম ছড়ায়নি। কারণ কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দারুণ লাইন-লেন্থ আর সুইংয়ে তাঁরাও তো নাভিশ্বাস উঠিয়ে ছাড়েন দুই কিউই ওপেনার জিত রাভাল ও টম ল্যাথামের। দুজনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে নবম ওভারেই স্বাগতিকরা ৮ রানে হারিয়ে ফেলে ২ উইকেট। দুই ওপেনারকেই ফেরান আবু জায়েদ। সেখান থেকে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় আর কোনো উইকেট না হারানো নিউজিল্যান্ডের রান ৩৮। সহায়ক কন্ডিশনে সফরকারী দলের পেসারদের পাল্টা জবাবে লড়াই আরো আকর্ষণীয় না হয়ে ওঠার সব দায় প্রকৃতির!

অবশ্য বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের অকালসমাপ্তিতে দায় গিয়ে বর্তাচ্ছে যথারীতি ব্যাটসম্যানদের কাঁধেই। শর্ট বলের পুরনো ভূতই আবার তাঁদের ঘাড় মটকেছে। অথচ ভীতিকর কিছুর সম্ভাবনার মুখে দাঁড়ানো দলটি শুরু ভালোই করেছিল। প্রথম দুই দিন ঢেকে রাখায় আর্দ্র উইকেটে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জে দারুণভাবেই উতরে যায় তামিম ইকবাল আর সাদমান ইসলামের ওপেনিং জুটি। হ্যামিল্টন টেস্টের দুই ইনিংসে ৫৭ ও ৮৮ রানের পর এবার টানা তৃতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির কাছ থেকে আসে ৭৫ রান। একপর্যায়ে বাংলাদেশের রান ছিল ১ উইকেটে ১১৯। সেখান থেকে লাঞ্চের ঠিক আগে আগে ছন্দপতন। শেষ ৪ উইকেটের পতন তো ঘটে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে। তাতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পুঁজি মোটে ২১১ রানের। ভালো শুরুর পর ব্যাটিং ধসের কারণ সেই নেইল ওয়াগনার, যাঁর বাউন্সার থেকে মুক্তি মিলছে না বাংলাদেশ দলের।

কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন সুইং বোলারদের দিয়ে সাফল্য তোলার আশায় এই বাঁহাতি পেসারকে নিয়ে আসেন একটু দেরিতে। শর্ট বলে ফায়দা তোলাই যাঁর দক্ষতার জায়গা। ৩১তম ওভারে আক্রমণে এসেই তিনি বদলে দেন দৃশ্যপট। সাদমানকে (৫২ বলে ২৭) ফিরিয়ে এর আগেই অবশ্য ওপেনিং জুটি ভাঙেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। চোখ-ধাঁধানো সব শটে ৮১ বলে ফিফটি করা তামিমের সঙ্গে এরপর জমে উঠছিল মমিনুল হকের জুটিও। কিন্তু ওয়াগনারের দ্বিতীয় ওভারে হ্যামিল্টন টেস্টের মতোই লেগ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বল ছাড়তে যাওয়া মমিনুলের (১৫) গ্লাভস ছুঁয়ে যায় বল। মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির ঠিক আগের বলে একই পরিণতি মোহাম্মদ মিঠুনেরও (৩), এবার অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে। বিরতির পরপরই আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি। ওয়াগনারের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে আসেন ১১৪ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৭৪ রানের ইনিংস খেলা তামিম।

তামিমকে ওভাবে হারানোর হতাশার রেশ কাটতে না কাটতেই উইকেট বিলিয়ে আসেন হ্যামিল্টন টেস্টের দুই সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদ উল্লাহ (১৩) ও সৌম্য সরকার (২০)। প্রথমজন ওয়াগনারের শর্ট বল ভেবে খেলতে গিয়ে, পরেরজন ম্যাট হেনরির শর্ট বলেই। তাইজুল ইসলামকে (৮) নিয়ে লিটন কুমার দাশের (৩৩) কিছুটা প্রতিরোধে দুই শ পার করলেও শেষ দিকে ট্রেন্ট বোল্টের আঘাতে লেজ ছেঁটে যায় সফরকারীদের। ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়াগনার প্রতিপক্ষকে এলোমেলো করে দেওয়ার পর বাকি কাজ সেরেছেন বোল্ট (৩/৩৮)। কিন্তু ওয়াগনার শর্ট বলে উইকেট তুলতে চাইবেন, এটি তো অজানা ছিল না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। এর পরও সেই শর্ট বলেই আত্মসমর্পণ করার যে ব্যাখ্যা দিলেন লিটন কুমার দাশ, তাতে ফুটে উঠল অসহায়ত্বই, ‘নতুন বলে আমরা যেমন জানি সুইং করবে, এর পরও আমরা অনেক সময় মারতে গিয়ে আউট হয়ে যাই। তেমনি আমরা এটিও জানতাম যে সে (ওয়াগনার) শর্ট বল করবে। কিন্তু বল এমন জায়গায় রাখে যে কিছু করার থাকে না। মনোযোগ আরো বাড়িয়ে বল আরো বেশি ছাড়তে পারলে হয়তো কিছু করা যাবে।’

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৬১ ওভারে ২১১ (তামিম ৭৪, সাদমান ২৭, মমিনুল ১৫, মিঠুন ৩, সৌম্য ২০, মাহমুদ ১৩, লিটন ৩৩, তাইজুল ৮; ওয়াগনার ৪/২৮, বোল্ট ৩/৩৮, সাউদি ১/৫২, গ্র্যান্ডহোম ১/১৫, হেনরি ১/৬৭)।

নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস : ১১.৪ ওভারে ৩৮/২ (রাভাল ৩, ল্যাথাম ৪, উইলিয়ামসন ১০*, টেলর ১৯*; জায়েদ ২/১৮)।

মন্তব্য