kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বপ্নচোখে নেপালের পথে মেয়েরা

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বপ্নচোখে নেপালের পথে মেয়েরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগেরবার তেমন বিশ্বাস ছিল না ছোটদের ওপর। সেই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল কাটিয়ে বাংলাদেশের ‘ছোট মেয়ে’রা রানার্স-আপ হয়েছিল সাফ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে। সুবাদে এবার বিশ্বাস নিয়েই তারা শিরোপা জিততে নেপাল যাচ্ছে আজ।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হলো সিনিয়র জাতীয় দলের খেলা। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সাফে রানার্স-আপ হয়ে তারা এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। দুই বছর বাদে আবার সেই টুর্নামেন্টগামী বাংলাদেশ এবং স্বাভাবিকভাবে এক ধাপ ওপরে, অর্থাৎ শ্রেষ্ঠত্বের আসনে চোখ থাকবে তাদের। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও আশাবাদী, ‘গত দুই বছরে এই মেয়েরা অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, তারা অনেক পরিণত হয়েছে। আশা করি, গত সাফের চেয়ে মেয়েরা এবার ভালো করবে।’

গতবারের চেয়ে ভালো করার প্রত্যাশা মানেই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। কাদের নিয়ে সেই স্বপ্ন, সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। নামে সিনিয়র জাতীয় দল হলেও বেশির ভাগই বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়। ২০ জনের এই দলে আছে সদ্য মিয়ানমারে খেলা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ৯ জন। তারা লড়বে ভারত-নেপালের সিনিয়র ফুটবলারদের সঙ্গে, বয়সের পার্থক্য ১০-১২ বছর হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। এ কারণেই কিছুটা সতর্ক বাফুফের টেকনিক্যাল ও স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলি, ‘আমাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছে মাত্র ১৬ জন, যেখানে অন্যদের খেলোয়াড় সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা যেখানে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ভালো, ওরা তখন জাতীয় দলে ভালো। ওরা অভিজ্ঞতার কারণে ছোটখাটো ভুলগুলো করে না এবং আমাদের ছোট ভুলগুলোর সুযোগ নেয়। আমাদের মেয়েরা এখন মূল সিনিয়র দলের জন্য তৈরি হচ্ছে।’ তাই সাফের স্বপ্নটা বাংলাদেশের বেলায় হয়ে যাচ্ছে ‘ছোট মেয়ে’র বড় লক্ষ্য। বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা আক্তার প্রতিপক্ষের সঙ্গে তুলনায় গিয়ে দেখছেন, ‘ভারতের এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চেয়েও আমাদের দলের অনেকের বয়স কম। তবে ছোট মেয়েরাই নিজেদের উজাড় করে খেলবে।’

এই লড়াই নেপালের বিরাটনগরে শুরু হচ্ছে আগামী ১২ মার্চ থেকে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে ভুটান ও নেপাল। ১৪ মার্চ বাংলাদেশের লড়াই শুরু হচ্ছে ভুটানের বিপক্ষে, এক দিন বাদেই নেপালের ম্যাচ। দুটি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল যাবে সেমিফাইনালে। বাংলাদেশ কোচের সেমিফাইনাল নিয়ে শঙ্কা দেখেন না, ‘গ্রুপ পর্ব নিয়ে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। গত সাফে গ্রুপে আফগানিস্তানের জালে পাঁচ গোল দিয়েছিল ভারত; আমাদের লক্ষ্য ছিল ওদের ছয় গোল দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এবং দিয়েছিলামও। পরে আমরা ভারতের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিফাইনালে নেপালকে এড়িয়েছিলাম। এবারও আমাদের লক্ষ্য থাকবে গ্রুপে নেপালের চেয়ে ভালো করে সেমিফাইনালে ভারতকে এড়ানোর।’ এ জন্য ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই তারা বাড়িয়ে নিতে চাইবে গোল-গড়। এরপর শক্তিশালী নেপালের সঙ্গে ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।

এই দলের বড় শক্তির জায়গা হলো গোল। যখন-তখন গোল করার সামর্থ্য আছে ছোটনের মেয়েদের, ‘আমার দলে মূল শক্তি গোল করার অনেক ফুটবলার আছে।’ গত দুই বছরে এরাই লাল-সবুজের বয়সভিত্তিক ফুটবল রাঙিয়েছেন গোলে গোলে। এবারের চ্যালেঞ্জ বড়দের বিপক্ষে।

বাংলাদেশ দল : মাহমুদা আক্তার, রূপনা চাকমা, ইয়াসমিন আক্তার, মাসুরা পারভীন, আঁখি খাতুন, নার্গিস খাতুন, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, শামসুন্নাহার (সিনিয়র), শিউলি আজিম, মিশরাত জাহান মৌসুমী, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, ইশরাত জাহান রত্না, সানজিদা আক্তার, মার্জিয়া, সিরাত জাহান স্বপ্না, সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, রাজিয়া খাতুন, তহুরা খাতুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা