kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জানুয়ারি ২০২০। ১৬ মাঘ ১৪২৬। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

রবিউলের গোলে কম্বোডিয়া জয়

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রবিউলের গোলে কম্বোডিয়া জয়

‘সুযোগ পেলে আমি অন্তত একটি গোল করতে চাই’—ম্যাচের আগের দিন নাবিব নেওয়াজ জীবনের এই সংকল্পের মতো মতিন মিয়ার প্রত্যাশাও ছিল গোলে ম্যাচটা রাঙিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তাঁরা পারেননি প্রত্যাশা মেটাতে। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলের অপেক্ষা ফুরায়নি মতিনের। নাবিবও পারেননি লিগের  গোলোৎসবটা নম পেনে টেনে আনতে। মতিন-জীবনে না হলেও রবিউল হাসানের গোলে ঠিকই উৎসব করেছে বাংলাদেশ। কম্বোডিয়াকে তাদের মাঠেই হারিয়েছে ১-০ গোলে।

জয়টা প্রত্যাশিতই ছিল লাল-সবুজের। কম্বোডিয়া জাতীয় দল কখনোই হারাতে পারেনি বাংলাদেশকে। ওদের এবারের তারুণ্যনির্ভর দলটাকে হারাতে না পারাটাই হতো বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য হতাশার। ফুটবলপ্রেমীদের বিমর্ষ হতে হয়নি। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে নিজেদের অজেয় থাকার গৌরবের রেকর্ডটা ধরে রেখেই কাতার হয়ে বাহরাইনে যেতে পারবে জেমি ডের শিষ্যরা।

লিগে দারুণ পারফরম করা দুই স্কোরার নাবিব ও মতিনকে রেখে শুরুর একাদশ গড়েন জেমি ডে। শুরুর দিকে দুটি কর্নারও আদায় করে নেয় তারা। তবে এর সুফল ঘরে তুলতে পারেননি বাংলাদেশ। খানিকটা পরে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন নাবিব। আবাহনীর এই স্ট্রাইকারের দুর্বল শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কম্বোডিয়া গোলরক্ষক কেন চানসোফিক। গোলবারে কাল দারুণ কিছু সেভ করেছেন তিনি।

ধীরে ধীরে ম্যাচে আরো ভালো খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ডান দিকে বারবার আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেছে স্বাগতিকরাও। কিন্তু বাংলাদেশের জমাট রক্ষণব্যূহ ভাঙতে পারেনি তারা। জীবন-মতিনরাও পারেননি গোলের নিশানা খুঁজে নিতে। ৪১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া আতিকুর রহমান ফাহাদের জোরালো শট ওদের একজন ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত। খানিকটা পরে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন নাবিবও। গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। বাঁ দিক থেকে নেওয়া তাঁর দুর্বল শট চলে যায় ডান দিকের পোস্ট দিয়ে বাইরে। প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয় তাই গোলশূন্য ড্রয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধেও ছিল জেমি ডে শিষ্যদের দাপট। শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি শটও নিয়েছে তারা গোলপোস্টে। তবে কম্বোডিয়া গোলরক্ষকের বিশ্বস্ত হাত ফসকে সেগুলো জালে ঢোকেনি একটিও। ৫৯ মিনিটে গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামের দৃঢ়তায় রক্ষা লাল-সবুজের। প্রতিপক্ষের একজনের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক। ৬৩ মিনিটে কোচ রবিউলকে মাঠে নামান বিপলু আহমেদকে বসিয়ে। তাঁর গোলেই বিজয় উৎসব বাংলাদেশের। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে আরেক বদলি মাহবুবুর রহমানের কাটব্যাকে বাঁ পায়ে অসাধারণ গোল করেছেন আরামবাগ মিডফিল্ডার। তাতেই মিলে গেল প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির মেলবন্ধন।

আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজের প্রথম গোল। তাও আবার বিদেশে। গোলটিও আবার জয়সূচক। স্বাভাবিকভাবে উচ্ছ্বাসের প্লাবনে ভেসে যাওয়ারই কথা রবিউলের, ‘এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমার গোলেই যে বাংলাদেশ জিতবে এটা ভাবিনি। আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া। ক্রস দেওয়া সুফিল এবং সতীর্থদের ধন্যবাদ।’ ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামলেও শুরু থেকে খেলায় পূর্ণ মনোযোগ ছিল রবিউলের। এর সুফলও পেয়েছেন বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত গোলটি উপহার দিয়ে। কোচ জেমি ডেই অবশ্য এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রবিউল, ‘প্রথম থেকে  খেলা উপভোগ করছি। আমি যেহেতু বদলি খেলোয়াড় তাই কোচ বলেছিল খেলার মধ্যে থাকতে হবে নতুবা এলোমেলো হয়ে যাবে। তাই আমি প্রথম থেকে গভীর মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখেছি। মাঠে নামার পর তাই মনে হয়েছে আমি শুরু থেকে খেলছি। এবং তা উপভোগ করছি।’

কোচের পরামর্শ মেনে চলায় অসাধারণ এক গোলে বাংলাদেশকে উৎসবে ভাসিয়েছেন রবিউল। উৎসবে মাতোয়ারা ছিলেন প্রবাসী বাঙালিরাও। প্রিয় দলের জয় প্রাণভরে উপভোগ করেছেন তারা গ্যালারিতে বসে। ছবি তুলেছেন প্রিয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে। ফুটবলাদের কাছ থেকে দেশ ও দেশের বাইরে এমন উৎসব করার প্রেরণাই তো চায় লাল-সবুজের সমর্থকরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা