kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

ব্যাটিংটা তবু গলার কাঁটা

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাটিংটা তবু গলার কাঁটা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তিনটি দলই খেলেছে চারটি করে ম্যাচ। প্রতি দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে এসেছে তিনটি করে ফিফটি। এটুকু জেনে মনে হতে পারে, ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে আফগানিস্তান কিংবা জিম্বাবুয়ের চেয়ে কী এমন খারাপ ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ!

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি বাদ দিলে যাচ্ছেতাই ব্যাটিং করেছে সাকিব আল হাসানের দল। আজকের ফাইনালে শিরোপা জয়ের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা হিসেবে ধরা হচ্ছে ওই ব্যাটিংকে। রশিদ-মুজিবদের বিপক্ষে সাকিব-লিটন-মুশফিকরা জ্বলে উঠলেই তো হয়!

প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ১৪৪ রান বাংলাদেশ পেরিয়েছে আট নম্বরে নামা আফিফ হোসেনের স্পেশাল ইনিংসে। কোনোমতে তিন উইকেটে জয় পায় স্বাগতিকরা। পরের ম্যাচে আফগানদের ১৬৪ রান তাড়া করতে নেমে থুবড়ে পড়ে ১৩৯ রানে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরের খেলায় ১৭৫ রান করে জেতে ৩৯ রানে। আর সর্বশেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের ১৩৮ রান টপকাতে ১৯ ওভারের শেষ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। চার উইকেটে জেতে সাকিবের দুর্দান্ত ইনিংসে।

ফাইনালের আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং তাই বিবর্ণ। স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের ব্যাট তাই বিষণ্ন। প্রথম তিন ম্যাচে মোটে ২৬ রান ছিল সাকিবের; সর্বশেষ খেলায় অপরাজিত ৭০ রানে ফর্মে ফিরেছেন অধিনায়ক। আফিফের উল্টো অবস্থা। প্রথম ম্যাচের ৫২ রানের পরের তিন ইনিংস মিলিয়ে ২৫ রান। টুর্নামেন্টে একমাত্র মাহমুদ উল্লাহরই স্বাগিতক ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক শ পেরোনো রান। চার ইনিংসে ১২৬ রান তাঁর। দুই ইনিংসে চার রান করার খেসারতে সৌম্য সরকারকে তো বাদই পড়তে হয়েছে স্কোয়াড থেকে। চার ইনিংসে মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেন দুজনেরই ৬৩ রান, লিটন দাসের ৬১ রান। তিন ইনিংসে সাব্বির রহমানের ৪০ এবং দুই ইনিংসে নাজমুল হোসেনের ১৬ রান। স্ট্রাইক রেটের অবস্থাও টি-টোয়েন্টিসুলভ না।

আজ রশিদ খান, মুজিব উর রহমানদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্যাম্পে ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা না থেকে পারে না।

চিন্তা যে রয়েছে, তা কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কথায়ও স্পষ্ট, ‘মুজিব ও রশিদ খান এখন স্পিনে অনেক বড় নাম। শুধু আমাদের ব্যাটসম্যানরা নয়, বিশ্বমানের এই দুই স্পিনারের বিপক্ষে সব দলের ব্যাটসম্যানদেরই ভোগান্তি হয়। আমরা নেটে চেষ্টা করছি ওদের খেলার উপায় বের করতে।’ ব্যাটিংয়ে নিজ দলের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন তিনি, ‘প্রথম ১০ ওভারে অনেক বেশি উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। আমরা তাই দুই উইকেটের বেশি না হারিয়ে ১৫ ওভার শেষ করতে চাই। তাতে শেষ দিকে ঝড় তোলার সুযোগ তৈরি হবে। আশা করি ফাইনালে তা পারব।’

এ ক্ষেত্রে উইকেটের ভূমিকা কেমন হবে, বলা মুশকিল। এমনিতে চট্টগ্রামের চেয়ে ঢাকার ২২ গজে স্পিন ধরে বেশি। তবে ফাইনালে যেকোনো উইকেটে খেলার প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন আফগান অধিনায়ক রশিদ, ‘টার্নিং হোক বা ফ্ল্যাট—যেকোনো উইকেটে খেলার জন্য আমরা তৈরি। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, উইকেটের সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে পারফরম করতে পারি। সেখানেই আমাদের মনোযোগ থাকবে।’

আর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মনোযোগ যে থাকবে টুর্নামেন্টের রানখরা কাটিয়ে ওঠায়—তা না বললেও চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা