kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

শেখ জামাল না প্রাইম দোলেশ্বর?

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেখ জামাল না প্রাইম দোলেশ্বর?

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিপিএলের ফাইনাল গেল কিছুদিন আগেই। ট্রফির সেই লড়াইয়ের আগের দিন দুই দলের দুই অধিনায়ককে ট্রফি হাতে দাঁড় করানো হয়নি পর্যন্ত। আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ সম্মেলনও নয়। সেখানে আজকের ডিপিডি টি-টোয়েন্টি ফাইনালের আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ট্রফি হাতে ফরহাদ রেজা ও নুরুল হাসানের পোজ দেওয়াটা একটু চমক জাগানিয়াই বটে।

টুর্নামেন্টটিও চমকের। আজকের ফাইনালের দুই প্রতিপক্ষ শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ও প্রাইম দোলেশ্বরের নামই যেমন কিছুটা চমকে দেয়। শুধুই দেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে খুবই স্বল্প পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে এই টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা; ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ১২টি ক্লাব নিয়ে। সেখানে প্রথম রাউন্ডে মোহামেডানের বাদ পড়াটা আর আলাদা উল্লেখের দাবি রাখে না; অনেক দিন ধরেই ক্লাবটি ক্ষয়িষ্ণু শক্তি বলে। কিন্তু প্রথম রাউন্ডে বাদ পড়ায় তাদের সঙ্গী যে হয়ে গেছে আবাহনী লিমিটেড, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটারের মতো পরাশক্তিরা!

তবে এ দলগুলো না থাকলেও সেমিফাইনাল দুটি হয়েছে মনে রাখার মতো। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের ১৮১ রান তাড়া করে জিতেছে শেখ জামাল। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ১৭০ রান তাড়া করে প্রাইম দোলেশ্বর। মিরপুরের এই উইকেটও টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ। সব মিলিয়ে রান ফোয়ারায় স্মরণীয় ফাইনালের মঞ্চ তাই প্রস্তুত হয়েই আছে।

টুর্নামেন্টের আবহে কোনো দলই ট্রফি জয়ের কথা জোরেশোরে বলছে না। ঠারেঠোরে সবাই এটিকে প্রিমিয়ার লিগের ৫০ ওভারের মূল প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছিলেন। কিন্তু ফাইনালের আগে দুই অধিনায়কের কণ্ঠে ট্রফি জয়ের ব্যাকুলতা। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের অধিনায়ক নুরুল হাসান যেমনটা বলেছেন, ‘এটি বাংলাদেশের জন্য অন্য রকম টুর্নামেন্ট। অবশ্যই বড় টুর্নামেন্ট। এমন একটা টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া অন্য রকম আনন্দের। এখন যারা কালকের ম্যাচে ১০০% দিতে পারবে তারাই ভালো করবে।’

প্রাইম দোলেশ্বরের অধিনায়ক ফরহাদ রেজা ভালো দলের স্বীকৃতি দিচ্ছেন প্রতিপক্ষকে। পাশাপাশি শিরোপা জয়ের জন্য আজ ভালো খেলার ওপরই তাঁর বাজি, ‘ওরা অনেক ভালো দল। শেষ দিকে ভালো খেলছে। জিয়া ভাই আছে, কিছু পাওয়ার প্লেয়ার আছে। অবশ্যই আমরা চাইব আমাদের কাজগুলো ঠিকমতো করতে। এরপর দেখা যাক কী হয়। ফাইনালে দুটি দলই সমান, টি-টোয়েন্টি খেলায় যে যেদিন ভালো খেলবে সে-ই জিতবে।’ প্রতিপক্ষের প্রতি অমন সমীহ নুরুল হাসানেরও, ‘টি-টোয়েন্টিতে বড় দল, ছোট দল নেই। যারা যেদিন ভালো খেলে তাদেরই জেতার সুযোগ বেশি থাকে। আমার মনে হয় অবশ্যই ওরা ভালো দল। তবে আমাদের দল অনেক ভারসাম্যপূর্ণ। যদি আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পারি, তাহলে ভালো কিছুই হবে।’

এই টুর্নামেন্টটিও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ‘ভালো কিছুই’ হয়েছে। দেশের ক্রিকেটাররা আরেকটু অভ্যস্ত হচ্ছেন কুড়ি-বিশের ফরম্যাটের সঙ্গে। মাঠের ২২ গজও এই ফরম্যাটের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। শেখ জামাল অধিনায়ক সেটিই মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন কাল, ‘বিপিএলের সময় সব সময় চিন্তা থাকে, মিরপুরের উইকেটে লো স্কোরিং ম্যাচ হবে। এই টুর্নামেন্টে বড় বড় রান হয়েছে; তা তাড়া করে অন্য দল জিতেছেও। টি-টোয়েন্টিতে খেলাটা সবার কাছে সব সময় উপভোগ্য হয় তাতেই। আশা করব ফাইনালের উইকেটও ভালো হবে।’

ফাইনালের উইকেট না শুধু, ভালো এক ফাইনালের প্রত্যাশাই থাকবে আজ সবার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা