kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

২৩৫ রানের জুটি

প্রতিরোধের পরও ইনিংস ব্যবধানে হার

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিরোধের পরও ইনিংস ব্যবধানে হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : হ্যামিল্টনের এই সেডন পার্কেই তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। মাহমুদ উল্লাহর মতো এই মাঠ চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়ে থাকবে সৌম্য সরকারের হৃদয়েও। ৯ বছর পর এখানেই নিজের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক আর সৌম্য তুলে নিলেন রেকর্ড গড়া প্রথমটি। ম্যাচের চতুর্থ দিনে ধৈর্য, সংযম আর পাল্টা-আক্রমণের মিশেলে তাঁদের ব্যাটে অন্তত ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা এড়িয়ে নিউজিল্যান্ডকে আরেকবার ব্যাটিংয়ে নামানো যাবে বলেও মনে হচ্ছিল। কিন্তু অন্যদের সহযোগী হয়ে ওঠার ব্যর্থতায় খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪২৯ রানে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। হ্যামিল্টন টেস্টে ইনিংস ও ৫২ রানের হারে তিন ম্যাচের সিরিজেও পিছিয়ে পড়ল তারা।

চতুর্থ দিনের বিকেলে এই পরিণতি মেনে নিতে হলেও সকাল দিচ্ছিল অন্য রকম কিছুরই ইঙ্গিত। ৮ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে গত ডিসেম্বরে হওয়া নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা টেস্টের কথাও মনে পড়ে যাওয়া বিচিত্র ছিল না। প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে অল আউট লঙ্কানদের বিপক্ষে ৫৭৮ রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিকরা। এরপর ৩ উইকেটে ২০ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করা সফরকারীদের অবস্থা চতুর্থ দিনের শেষেও ওই ৩ উইকেটেই ছিল ২৫৯ রান। কুশল মেন্ডিস (৩৩৫ বলে অপরাজিত ১৪১) ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের (৩২৩ বলে অপরাজিত ১২০) অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে পুরো দিন পার করে দেওয়া শ্রীলঙ্কার ম্যাচ বাঁচানোয় শেষ দিনের বৃষ্টিরও কিছুটা ভূমিকা। যদিও কে না জানে যে ভাগ্য সহায় হয় সাহসীদেরই!

ক্রমাগত শরীর তাক করা ডেলিভারিতে বুক চিতিয়ে লড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাল্টা-আক্রমণেও যাওয়া সৌম্য-মাহমুদের ব্যাটে ছিল সাহসের স্ফুরণ। কিউইদের ৬ উইকেটে ৭১৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতিতে যাওয়ার সময়ও ওই ৪ উইকেটেই ৩১০ রান সফরকারীদের। কোনো উইকেট না হারানো সেশনে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির যে রেকর্ড ছিল শুধুই তামিম ইকবালের, সেটিতেও ভাগ বসিয়ে ফেলেন সৌম্য। ২০১০ সালে লর্ডসে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম। কাল হ্যামিল্টনে ৬০ বলে ফিফটি করা সৌম্যরও লাগল সমানসংখ্যক বলই। দিনের প্রথম সেশনে ২৯ ওভারে ১৩৬ রান তুলে মধ্যাহ্ন ভোজে যাওয়ার সময় সৌম্যর রান ১২৩, মাহমুদ উল্লাহর ৬৫।

বিরতির পর আরো বড় কিছুর প্রত্যাশার পালে হাওয়াও লাগল। কারণ পঞ্চম উইকেটে তাঁরা দুজনে মিলে যোগ করে ফেললেন ২৩৫ রান। কিউই বোলারদের স্বাচ্ছন্দ্যেই সামলাতে থাকা জুটি ভাঙে দ্বিতীয় নতুন বলে। টিম সাউদিকে ওভারে তিন বাউন্ডারি হাঁকানো সৌম্য ট্রেন্ট বোল্টের সুইংয়ে পরাস্ত। ব্যাট-প্যাডের মাঝখান দিয়ে বল আঘাত হানে ১৭১ বলে ২১ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ১৪৯ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের স্টাম্পে। সৌম্য গেলেও অটল ছিলেন মাহমুদ উল্লাহ। সাউদির এক ওভারে টানা দুই বাউন্ডারিতে ৯৫ থেকে ১৮৩ বলে পৌঁছে যান নিজের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরিতে। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পরও শটের দ্যুতি ছড়াতে থাকা অধিনায়ক পেরিয়ে যান ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ রানও। লিটন কুমার দাশ (১) ও মেহেদী হাসান মিরাজরা (১) সঙ্গ দিতে পারলে হয়তো ইনিংস ব্যবধানে হারের নিয়তিও এড়াতে পারতেন। তাঁরা বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার পর দ্রুত রান বাড়ানোর তাড়ায় নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন তিনি। সাউদির শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ২২৯ বলে ২১ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় করে যান ১৪৬ রান। ২৩৫ রানের পার্টনারশিপের পথে প্রতিপক্ষের পেসারদের শর্ট বলও দারুণ সামলেছেন সৌম্য-মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে এই ফর্মুলাতেই সফল হয়ে ৫ উইকেট নেওয়া নেইল ওয়াগনার তো বটেই, সুইংয়ের ওপর নির্ভরশীল বোল্টও শর্ট বলে ঘায়েল করা চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু সেসব সামলে এই সফরে প্রথমবারের মতো শক্ত প্রতিরোধের দেয়াল তুলে দাঁড়াতে পেরেছিল সফরকারীরা।

কিন্তু লিটন-মিরাজদের ব্যর্থতায় ইনিংস হার এড়ানোর খুব কাছে গিয়েও হারার মধ্যে নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার ওয়েলিংটন টেস্ট নয়, উঁকি দিয়ে গেল দুই বছর আগের নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশের ওয়েলিংটন টেস্ট। যে টেস্টে ৩৫৯ রানের রেকর্ড জুটি এবং সাকিব আল হাসানের ডাবল সেঞ্চুরি (২১৭) ও মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে (১৫৯) প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রান করার পরেও ম্যাচটি ৭ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।

এবার দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিরোধ গড়লেও প্রথম ইনিংসের (২৩৪) ব্যর্থতাই যেন ফেরার পথ বন্ধ করে রেখেছিল!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা