kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

সেই সোহেল জাতীয় দলেও

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই সোহেল জাতীয় দলেও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘কখনো সময় আসে, জীবন মুচকি হাসে...’—২৯ বছর বয়সে প্রথম জাতীয় দলে ডাক পেয়ে কবির সুমনের এ গানটা গুনগুনিয়ে গাইতে পারতেন সোহেল রানা। কিন্তু তাঁর মুখে কাষ্ট হাসি। জীবনের রুদ্ররূপও যে তাঁর কম দেখা হলো না। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক লহমায় স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে এখন ফুটবলে মুখ গুঁজে দিয়েছেন। সেই ফুটবলে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া, তাও এই ২৯ বছর বয়সে...

“দিনটাকে উদ্দাম উদ্‌যাপন করতে পারতাম আজ ওরা থাকলে। ফুটবলে আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিল আমার স্ত্রী। গত ফেডারেশন কাপের সময়ও জোর দিয়ে বলেছিল, ‘তোমাকে একবার হলেও জাতীয় দলে খেলতে হবে।’ আজ সেই অপেক্ষা ফুরাল আমার। কিন্তু দেখুন নিয়তির কি নির্মম পরিহাস।” সোহেল তবু পেছনে হাঁটেননি বলেই আগের দিন শেখ রাসেল আবাহনীকে হারায়, জেমি ডে এমন বিধ্বস্ত দিনেও সাহস রাখেন তাঁর ওপর। রাসেল কোচ সাইফুল বারী খুব কাছ থেকে দেখেন আপজন হারিয়ে ফুটবল মাঠে সোহেলের এই নিরন্তর লড়াই, ‘আমার কাছেও বিস্ময় ঠেকে এ অবস্থার মধ্যেও ও যেভাবে খেলছে, সেটা। অনুভব করতে পারি, প্রচুর লড়াই করতে হচ্ছে ওর নিজের সঙ্গে।’ সোহেল নিজে জানেন এই সময়ের ভাগীদার কেউ হতে পারেন না, লড়াইটা তাই একারই, ‘মাঠে আমি পারফরম করে যাচ্ছি; কিন্তু কত রাত ঘুমাতে পারছি না, কত কষ্ট হচ্ছে সেটা তো কাউকে দেখাতে পারব না।’

এমন সময়ই জাতীয় দলের ডাক তাঁকে একই সঙ্গে আনন্দ-বেদনায় ভাসাচ্ছে, ‘আমার কাছ থেকে পাসপোর্ট নেওয়া হয়েছে। সম্ভবত আমি যাচ্ছি কম্বোডিয়ায়। তবু বিশ্বাস হয় না। ফেনী সকার, শেখ জামাল, ব্রাদার্স, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রাম আবাহনী হয়ে এখন আমি শেখ রাসেলে। এই সময়ের মধ্যে অনেকবারই আমার মনে হয়েছে ডাক পেতে পারি; কিন্তু পাইনি। বড় একটা কষ্ট হয়ে ছিল এটা। আজ সেই কষ্ট ভোলার দিন যখন এলো, তখন আনন্দটাও করতে পারছি না।’ মাঠে বল পায়ে মগ্নতাতেই হয়তো সেই উচ্ছ্বাসটুকু প্রকাশ পাবে তাঁর। শেখ রাসেলের শুভ কামনা থাকছে তাঁর জন্য, ‘এই মুহূর্তে ওর চেয়ে ভালো ট্যাকলার আমি কাউকে দেখি না। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ায় জুড়ি নেই। শ্যুটিং ভালো, লম্বা বলে এয়ারেও সুবিধা পায়। জাতীয় দলে ওকে নিয়ে উপকৃতই হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা