kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলহীন এক রাত

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলহীন এক রাত

ইংল্যান্ড আর ফ্রান্স, ইংলিশ চ্যানেলের এপার আর ওপার। এপাশে ডোভার, অন্যধারে ক্যালে। লিভারপুল আর লিওঁ অবশ্য এতটা কাছাকাছি নয়। ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্বের কোনার দিকে অবস্থান লিভারপুলের আর ফরাসি মানচিত্রের দক্ষিণ-পশ্চিমে লিওঁ। দূরত্ব প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার। মঙ্গলবার রাত দুটি জায়গাকেই মিলিয়ে দিল এক বিন্দুতে। দুই জায়গাতেই যে গোলশূন্য ড্র হলো চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ। অ্যানফিল্ডে অতিথি বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র লিভারপুলের, অলিম্পিক স্টেডিয়ামে লিওঁর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র বার্সেলোনার।

ইয়ুর্গেন ক্লপ তাঁর বুন্দেসলিগা জমানায় অনেকবারই ডর্টমুন্ডের কোচ হিসেবে মুখোমুখি হয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের। বছর ছয়েক আগে, ওয়েম্বলির সেই রাতটা কী করে ভুলবেন ক্লপ? আরিয়েন রবেনের ৮৯ মিনিটে করা গোলটা যে ঘুচিয়ে দিয়েছিল তার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন। গত বছর লিভারপুলের কোচ হিসেবে গোলরক্ষকের অমন ভুলে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে যাওয়ার যাতনাটাও তো কম নয়। এবার যখন ক্লপ সামনে পেলেন বায়ার্নকে, তত দিনে পাশা অনেকটাই পাল্টে গেছে। বুন্দেসলিগাতেই আর বায়ার্ন অপরাজেয় নয় বরং ক্লপের সাবেক ক্লাব ডর্টমুন্ড তাদের পেছনে ফেলে দিয়েছে। নিক কোভাচের কোচের চেয়ারটাও নড়বড়ে। অন্যদিকে লিভারপুল ইংল্যান্ডের লিগের শীর্ষ দল, শীর্ষ পাঁচ গোলদাতার তালিকায় লিভারপুলেরই দুজন। এমন পরিস্থিতিতে বায়ার্নকে অ্যানফিল্ডে পেয়ে বড় ব্যবধানে জিতেই এগিয়ে থাকতে পারত লিভারপুল। কিন্তু বাঘ বুড়ো হলেও যে বাঘ! জার্মান যন্ত্রে মরচে ধরলেও একেবারে বিকল হয়নি। অ্যানফিল্ডে দুই দলই সমানে সমান। বরং প্রতিপক্ষের মাঠেও বলের দখলে বায়ার্ন ছিল এগিয়ে। গোলে প্রচেষ্টা লিভারপুলের ছিল ১১ বার, বায়ার্নের ছয়বার। লিভারপুলের গোলে শট প্রতিহত হয়েছে তিনবার, বায়ার্নের দুইবার। দুই দলেই সব কিছুই প্রায় সমানে সমান। সালাহ এবং মানে, দুজনেই নষ্ট করেছেন সুযোগ। সবচেয়ে মূল্যবান সুযোগটা এসেছিল ম্যাচের ৮৫ মিনিটে, তখন মানে গোলটা করতে পারলে হয়তো তিন সপ্তাহ পর ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে আলিয়ানজ অ্যারেনায় যাওয়ার সৌভাগ্য হতো লিভারপুলের। তেমনটা আর হলো না।

ম্যাচ শেষে ইয়ুর্গেন ক্লপ জানালেন, ‘আমরা বোধহয় একটু বেশি রক্ষণশীল ছিলাম। একটা গোল খেলার ধারা বদলে দিতে পারত। আমরা সুযোগ পেয়েছিলাম, বিশেষ করে মানের বাইসাইকেল কিক। তবে সেটা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি।’ প্রতিপক্ষের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে যাওয়াটা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বায়ার্ন কোচ কোভাচ, ‘দারুণ রক্ষণশীল ফুটবলশৈলী দেখলাম। তবে আমাদের আরেকটু যত্নশীল হওয়া দরকার ছিল, বিশেষ করে আক্রমণভাগে। আমরা আরেকটু ভালো করতে পারতাম।’

ফ্রান্সে বার্সেলোনাকেও খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে অলিম্পিক লিওঁ। সব মিলিয়ে ৯০ মিনিটে গোল করার ২৪টি প্রচেষ্টা ছিল বার্সেলোনার। কিন্তু অ্যান্তনি লোপেসকে ফাঁকি দিয়ে বল একবারও যায়নি জালে। লিওঁর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা ফিরিয়েছেন আটবার, ১১ বার বল নিয়ে গোলবারের ১২ গজের ভেতর পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পাঠাতে পারেননি কাতালানরা। অথচ মজার বিষয় এই যে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল কিন্তু লিওঁ! তাদের দুটি প্রচেষ্টার একটি লাগে ক্রসবারে, বল ভেতরে পাঠাতে গিয়ে লাগিয়েছেন টেরিয়ার। বার্সেলোনার লুই সুয়ারেস, উসমান দেম্বেলেও নষ্ট করেছেন সুযোগ। বলের দখল বেশি রেখেছিল বার্সেলোনাই, কিন্তু গোলের দেখা আর পাওয়া হলো না।

গত বেশ কয়েকটি ম্যাচ ধরেই বার্সেলোনার আক্রমণভাগটাকে দেখাচ্ছে ভোঁতা। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে মেসির জোড়া গোলে রক্ষা হয়েছিল বার্সেলোনার। এরপর এল ক্লাসিকোতে ১-১ ড্র, বিলবাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র আর ভায়াদোলিদের বিপক্ষে  মেসির পেনাল্টিতে ১-০ গোলের জয়ের পর ফের গোলশূন্য ড্র। সুয়ারেস-দেম্বেলেদের কাছ থেকে ঠিক পর্যাপ্ত সাহায্য মিলছে না মেসির, আর তাঁর নিষ্প্রভ দিনে ভুগছে বার্সেলোনা। লিওঁর গোলবারের নায়ক লোপেস ম্যাচ শেষে জানালেন, ‘বার্সেলোনা একটা অসাধারণ দল আর আমরা গোল না খেয়ে দারুণ করেছি। দুই দলই সুযোগ পেয়েছিল, আমরা চেষ্টা করব ফিরতি ম্যাচে কোনো সুযোগ নষ্ট না করার। আমরা ১১ জন মিলে কষ্ট করেছি, কাজটা অর্ধেক হয়েছে, চেষ্টা করব বাকি অর্ধেকটাও করে ফেলার।’ অন্যদিকে বার্সেলোনা কোচ এর্নেস্তো ভালভের্দে আশাবাদী ন্যু ক্যাম্পে পাশা পালটে দেওয়ার, ‘যদিও আমরা নিজেদের মাঠে অনেক শক্তিশালী, তবে প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে গোলশূন্য ড্র একটা ভয়ংকর ফল। আমাদের ভক্তদের ন্যু ক্যাম্পে খুব বেশি করে দরকার, কারণ এখন সব কিছুই বাজি লাগিয়ে দিতে হবে।’

ফিরতি লেগটা মার্চের ১৩ তারিখ। তত দিন তাই খানিকটা স্নায়ুর চাপে চার দলই। প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্র মানেই তো ফিরতি লেগের ৯০ মিনিট বাঁচা-মরার লড়াই। উয়েফা, স্কাই

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা