kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হারের মিছিল হোয়াইটওয়াশে শেষ

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হারের মিছিল হোয়াইটওয়াশে শেষ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : একজন সেঞ্চুরি করলেন। আরেকজনও গেলেন সেঞ্চুরির কাছাকাছি।

সেঞ্চুরির কাছাকাছি যিনি গেলেন, ওয়ানডেতে সেই মুস্তাফিজুর রহমানের সবচেয়ে খরুচে বোলিং টস হেরে সিরিজে এই প্রথম আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ডের ৩৩০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ায় সহায়ক হলো ভীষণ। এরপর ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে রান তাড়ায় সেঞ্চুরি করলেন সাব্বির রহমান। কৃতিত্বপূর্ণ অবশ্যই, তবে সেটি করলেন সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর। ‘সব কিছু’ বলতে এই ম্যাচের আগে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর আশাই শুধু অবশিষ্ট ছিল বাংলাদেশের। সাব্বির তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই প্রথম তিন অঙ্কে পৌঁছানোর অনেক আগেই সেই ৩-০ অবধারিত হয়ে গিয়েছিল। ছবির মতো সুন্দর মাঠে ৮৮ রানের হারে তাই ওয়ানডে অভিযানে বাংলাদেশের ব্যর্থতার জঞ্জালে নিক্ষিপ্ত হলো শেষ খণ্ডটি।

মাশরাফি বিন মর্তুজা অবশ্য এই ম্যাচ থেকে এক টুকরো সোনার খণ্ড অন্তত তুলতে চেয়েছিলেন। সে জন্য টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়ার শর্তও জুড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই শর্ত পূরণ দূরের কথা, টপ অর্ডারের ব্যর্থতা এদিনই মুখ হাঁ করল সবচেয়ে বেশি। স্কোরবোর্ডে যখন রান মাত্র ২, ততক্ষণে একে একে ফিরে গেছেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ও লিটন কুমার দাশ। প্রথম দুজন ইনিংসের একেবারে প্রথম ওভারেই। আগের দুই ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা কিউই পেসার টিম সাউদি ফিরেই তিন বলের মধ্যে তুলে নিলেন তামিম-সৌম্যকে। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে মারতে চাওয়া তামিম ক্যাচ দিলেন পেছনে, সেই সঙ্গে আগের দুই ম্যাচে ৫ রান করে করা এই ওপেনার এবার ফিরলেন কোনো রান না করেই। এক বল পরই সাউদির ইনসুইং আঘাত হানল সৌম্যর স্টাম্পে, তাতে দায়ও তাঁরই। কারণ তাঁর ব্যাট আর প্যাডের মাঝখানে যে বিশাল ফাঁক! পরের ওভারে এসে সাউদি তুলে নেন অন্য ওপেনার লিটন কুমার দাশকেও। ব্যর্থতার এই সিরিজে যিনি আশ্চর্যরকম ধারাবাহিক। তিন ম্যাচে করেছেন ১, ১ ও ১ রান!

সেখান থেকে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহর চেষ্টাও আশা দেখাতে পারল না খুব। ট্রেন্ট বোল্টকে এক ওভারে তিন বাউন্ডারি হাঁকানো মুশফিক (১৭) দলকে ৪০ রানে রেখে ক্যাচ দিয়ে আসতেই আরো চাপে বাংলাদেশ। ২০১৭-র জুনে কার্ডিফে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে রান তাড়ায় (২৬৬ রানের লক্ষ্য) অবশ্য শুরুতে আরো খারাপ অবস্থাই ছিল বাংলাদেশের। সেখান থেকে ২২৪ রানের পঞ্চম উইকেট পার্টনারশিপে ম্যাচ বের করেছিলেন দুই সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান ও মাহমুদ উল্লাহ। প্রথমজন চোটের কারণে এবার নেই। পরেরজন থাকলেও আগের দুই ম্যাচের অসহায় আত্মসমর্পণে দলের অন্যদের মতো তাঁর আত্মবিশ্বাসও যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল, দলকে ৬১ রানে রেখে ফিরে গিয়ে তা প্রমাণ করেছেন আরেকবার।

৫ উইকেট চলে যাওয়ার পর ৩৩০ রান তাড়ায় লক্ষ্য হয়ে যায় একটিই। হারের ব্যবধান যথাসম্ভব কমানো। ষষ্ঠ উইকেটে সাইফউদ্দিনকে (৪৪) নিয়ে ১০১ রানের পার্টনারশিপে সাব্বির করলেন সেই কাজটিই। অষ্টম উইকেটে ৬৭ রানের সঙ্গ পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজেরও (৩৭)। এই পার্টনারশিপের পথেই ১০৫ বলে নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান সাব্বির (১১০ বলে ১২ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ১০২ রান)। শুরুর ধাক্কায় সফরকারীদের লণ্ডভণ্ড করে দেওয়া সাউদি পরে এসে লেজও ছাঁটলেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়া সাব্বির তাঁকে দিলেন ফিরতি ক্যাচ। একটু খরুচে (৬৫ রান) হলেও ৬ উইকেট নিয়ে নিজের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন সাউদি।

ব্যক্তিগত প্রাপ্তিতে সাব্বির সমৃদ্ধ হলেও দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর সেঞ্চুরি মূল্যহীনই। যদিও শেষ ম্যাচ থেকে মূল্যবান কিছু তুলে নেওয়ার আশায় বাংলাদেশের বোলিং এদিন বেশ নিয়ন্ত্রিতই ছিল শুরুতে। তার ওপর সাইফউদ্দিনের বলে বাউন্ডারি লাইনে তামিমের নেওয়া মার্টিন গাপটিলের দুর্দান্ত ক্যাচ উজ্জীবনী শক্তির সঞ্চারও করেছিল নিশ্চিতভাবেই। কিন্তু প্রথম ২৫ ওভারে ১২০ রান তোলা কিউইরা পরের অংশে ওলটপালট করে দেয় সব। হেনরি নিকোলস (৬৪), রস টেলর (৬৯) ও এই ম্যাচের অধিনায়ক টম ল্যাথামের (৫৯) ফিফটির পর জিমি নিশাম (২৪ বলে ৩৭) ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের (১৫ বলে ৩৭*) ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে পরের ২৫ ওভারে ২১০ রান তোলে স্বাগতিকরা। যে ঝড়টা একটু বেশিই গেছে দলের অন্যতম সেরা বোলার মুস্তাফিজের ওপর দিয়ে। এর আগে এক ম্যাচে তাঁর সর্বোচ্চ খরচ যেখানে ছিল ৬৩ রান, সেখানে এদিন ২ উইকেট নিলেও দিলেন ৯৩ রান!

সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে তিনি কিউইদের আরো চড়তে দিলেন। টপ অর্ডারের নিদারুণ ব্যর্থতায় তাঁরা আরো চড়ে বসার পর সাব্বিরের সেঞ্চুরিতেও মিলল না লজ্জা থেকে নিষ্কৃতি!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা