kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মুখোমুখি ‘দুর্ভাগা’ জুভেন্টাস-অ্যাতলেতিকো

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুখোমুখি ‘দুর্ভাগা’ জুভেন্টাস-অ্যাতলেতিকো

ফাইনাল মানেই তো আনন্দ-বেদনার কাব্য। এক দল ভাসবে প্রাপ্তির আলোয়, আরেক দল ডুববে অপ্রাপ্তির অন্ধকারে। জুভেন্টাস ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সাম্প্রতিক অতীতটা ওই বেদনার বালুচরেই হারিয়ে গেছে বারবার। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত ফাইনালটি এক পাশে সরিয়ে রাখুন। তার আগের চার আসরেই যে পরাজিত ফাইনালিস্ট এ ক্লাব দুটি! ২০১৪ সালে অ্যাতলেতিকো, ২০১৫ সালে জুভেন্টাস, ২০১৬ সালে আবার অ্যাতলেতিকো, ২০১৭ সালে আবার জুভেন্টাস।

শিরোপার সেই হাহাকার এবার ঘুচবে কি না, সেই উত্তর সময়ের হাতে। তবে নক আউট পর্বের ড্র কঠিন এক সমীকরণের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে দল দুটিকে। শেষ ষোলোতেই তো বিদায় হয়ে যাচ্ছে জুভন্টোস-অ্যাতলেতিকোর মধ্যে একটি ক্লাবের! নিজেদের মুখোমুখি লড়াইয়ের প্রথম লেগে সেই ট্র্যাজেডি এড়ানোর প্রথম চেষ্টা আজ ইতালি ও স্পেনের মতো দুই পরাশক্তির।

শিরোপা জয়ের আকাঙ্ক্ষার তীব্রতা জুভেন্টাসেরই বেশি। সেটি গত পাঁচ বছরে দুইবারসহ অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সাকল্যে তিন ফাইনাল হার সত্ত্বেও, কখনোই ইউরোপসেরা না হওয়ার পরও। ইতালিয়ান ক্লাবটি মহাদেশীয় এই শ্রেষ্ঠত্বের ঝাণ্ডা উড়িয়েছে দুইবার। তবে ১৯৯৬ সালে সর্বশেষ শিরোপার পর কেটে যাচ্ছে যে প্রায় দুই যুগ! এর চেয়েও ট্র্যাজেডির, এ সময়ে পাঁচবার ফাইনালে উঠে প্রতিবারই পরাজিত দলে। ২০১৭ সালে সর্বশেষ ফাইনালে হার রিয়াল মাদ্রিদের কাছে, যে প্রাণভোমরা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সেই পর্তুগিজ মহা তারকাকে এ মৌসুমের দলে ভিড়িয়েছে জুভেন্টাস চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের আশায়। কে জানে, রোনালদোর জাদুকরী স্পর্শেই হয়তো খুলে যাবে ইতালিয়ান ক্লাবটির শিরোপাভাগ্য!

তবে সে জন্য আগে পেরোতে হবে অ্যাতলেতিকোর বাধা। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঠিকই। তবে প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের পর শেষ তিন ম্যাচের দুটিতে হার কোচকে চিন্তিত না করে পারে না। চিন্তা কম নেই অ্যাতলেতিকো ক্যাম্পেও। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের পেছনে থেকে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়েছে বলে ততটা নয়, যতটা ওই জার্মান ক্লাবের কাছে ০-৪ গোলে হারের কারণে। রক্ষণের জন্য বিখ্যাত দুই ক্লাব জুভেন্টাস-অ্যাতলেতিকোর আজ ডিফেন্ডারদের বড় পরীক্ষা। সে পরীক্ষাকে অগ্নিপরীক্ষা বানিয়ে দেওয়ার জন্য একদিকে রোনালদো-দিবালা-মান্দজুকিচরা রয়েছেন তো, অন্যদিকে গ্রিয়েজমান-কস্তা-লেমাররা।

কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে, সবাইকে ছাপিয়ে নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারেন একজন রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদের ৯টি বসন্ত কাটিয়ে যাওয়ার পর সেই মাদ্রিদ শহরে ফিরছেন আবার। না হয় নগরের ভিন্ন ক্লাবের বিপক্ষে। যে অ্যাতলেতিকো আবার তাঁর ভীষণ প্রিয় প্রতিপক্ষ। ৩১ ম্যাচ খেলে রোনালদোর ২২ গোল অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে। রেকর্ডটি আরেকটু সমৃদ্ধ নিশ্চয়ই করতে চাইবেন পর্তুগিজ ফুটবলসম্রাট।

চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের রেকর্ড সমৃদ্ধ করার অভিযানে নামবে আজ ম্যানচেস্টার সিটিও। অ্যাতলেতিকোর মতো তারাও ইউরোপসেরা ক্লাব প্রতিযোগিতায় কখনো শিরোপা জেতেনি। পেপ গার্দিওলার অধীন তিন মৌসুম আগে সেমিফাইনাল খেলাই তাদের সেরা সাফল্য। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে শালকের মুখোমুখি হবে তারা আজ। খেলতে হবে জার্মানিতে গিয়ে। এ দ্বৈরথ থেকে ম্যানচেস্টার সিটির কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারলে সেটি বড় এক চমকই হবে! এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা