kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মুক্তিযোদ্ধা-রহমতগঞ্জ ম্যাচও ড্র

ভাগ্য জিততে দিল না কিংসকে

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাগ্য জিততে দিল না কিংসকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এত চেষ্টার পরও বল জালেই গেল না! বসুন্ধরা কিংসের সুযোগগুলো সব বিজেএমসির পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে আশাপাশ দিয়ে। গোলরক্ষকও ঠেকিয়েছেন কয়েকটি। গোল হওয়ার ছিল না বলেই যেন হয়নি। এই দুর্ভাগ্যের কবলে পড়ে অপরাজিত বসুন্ধরা কিংস ষষ্ঠ ম্যাচে এসে বিজেএমসির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে প্রথম পয়েন্ট খুইয়েছে। তাই ৬ ম্যাচ শেষে ১৬ পয়েন্ট স্বাধীনতা কাপজয়ীরা আছে দ্বিতীয় স্থানে। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে একাদশ স্থানে বিজেএমসি।

নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা বড় কঠিন কাজ। এটা বিজেএমসির হোম ভেন্যু, তবে এই শক্ত ও অসমতল মাঠে গোছানো ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছে বসুন্ধরা কিংস। যতটুকু খেলতে পেরেছে এর মধ্যেই গোল হতে পারত কয়েকটি। কিন্তু বিধি বাম, রক্ষণাত্মক বিজেএমসির পোস্ট চিনতে ভুল করেছেন সবাই। এমনকি শেষ ১৩ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও গোলের সুযোগ তৈরি করেও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ। তাই কিংসের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বায়েজিদ যোবায়ের নিপুর কণ্ঠে ঝরেছে হতাশা, ‘এত সুযোগ নষ্ট করলে ম্যাচ জেতা যায় না। পোস্টের সামনে থেকে ভিনিসিয়াসের হেড গেছে ক্রসবারের ওপর দিয়ে। এ ছাড়া কলিনড্রেস-মতিন-সবুজ-সুশান্তরাও মিস করেছে। এই ম্যাচে পয়েন্ট হারানোটা আমাদের উচিত হয়নি।’

কিংসের শুরুর অর্ধটা কেটে গেছে ফুটবল অনুপযোগী মাঠের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই। এর পরও ২৯ মিনিটে কোস্টারিকান কলিনড্রেসের ফ্রি কিক ভীতি ছড়িয়ে চলে যায় বাইরে। বিরতিতে যাওয়ার আগে সুশান্তের হেডও পোস্ট খুঁজে পায়নি। ঘাসহীন, এবড়োখেবড়ো মাঠে পাসিং ফুটবল চলে না। তাই লং বল ফেলেছে প্রতিপক্ষের অ্যাটাকিং থার্ডে, সেখানে কলিনড্রেস দুর্দান্ত সব ডেলিভারিতে সুযোগ তৈরি করেছেন আর ভিনিসিয়াস বাড়িয়েছেন হতাশা। ৫৬ মিনিটে কলিনড্রেসের চমৎকার ক্রসে ভিনিসিয়াসের হেড বিজেএমসি গোলরক্ষক আবুল কাশেম মিলন দারুণ সেভ করেন। ৬৫ মিনিটে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে এই ব্রাজিলিয়ান ‘নাম্বার নাইন’ অবিশ্বাস্যভাবে হেড তুলে দিয়েছেন ক্রসবারের ওপরে! মিনিট দুয়েক আগেও ওই বিশ্বকাপারের নেওয়া ফ্রি কিকটি জটলা ভেদ করে গড়িয়ে পোস্টে ঢোকার মুখে গোললাইন থেকে সেভ করেন বিজেএমসির এক ডিফেন্ডার। গোল ঠেকাতে প্রতিপক্ষ পুরো দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছে নিজেদের রক্ষণভাগে। তাতেও গোলের দেখা মেলেনি।

উল্টো গোল খাওয়ার মুহূর্তও তৈরি হয়েছিল তাদের। গোলের খোঁজে সবাই গেছে ওপরে। ৭৭ মিনিটে বিজেএমসির লম্বা গোল-কিক মাঝমাঠ পেরিয়ে পড়ে কিংসের বক্সের ওপর। সেখান থেকে বল ধরে বিজেএমসির নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড স্যামসন ইলিয়াসু বক্সে ঢুকতে উদ্যত হন। শেষ মুহূর্তে নাসিরউদ্দিন ফাউল করে তাঁর যাত্রা ভঙ্গ করে সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা করেন দলকে। বিনিময়ে অবশ্য লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই ডিফেন্ডারকে। ১০ জনের দল হলেও তাদের আক্রমণের ধার কমেনি একটুও। বরং বদলি ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজ নেমে ঝাঁজ আরো বাড়িয়ে দেন। কিন্তু কিংসকে ম্যাচ জিততে না দেওয়ার পাঁয়তারা যে শুরু হয়ে গেছে সর্বত্রই। তাই রেফারি জালাল উদ্দিনও চার মিনিট অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিট খেলিয়ে বাজিয়ে দিয়েছেন শেষ বাঁশি। অথচ ওই তিন মিনিটের মধ্যে নানা বাহানায় বিজেএমসি নষ্ট করেছে অন্তত দেড় মিনিট। তাই ক্ষোভে-দুঃখে কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোন বলেছেন, ‘অনেক কিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে আমাদের। ভালো মাঠ, ভালো রেফারিং তো সুন্দর ফুটবলের পূর্বশর্ত। এসব ঠিক না হলে শক্তিশালী দল গড়া, বিশ্বকাপের ফুটবলার আনা সবই অর্থহীন হয়ে যায়।’

মুক্তিযোদ্ধা-রহমতগঞ্জের মধ্যকার দিনের অন্য ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। বালো ফামোসার দুই গোলে বড় লিড নেয় মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে রানা ও চমরিন রাখাইনের গোলে রহমতগঞ্জ ম্যাচে ফেরে। ৬ ম্যাচ শেষে মুক্তিযোদ্ধার ৭ পয়েন্ট আর রহমতগঞ্জের ৪ পয়েন্ট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা