kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

স্প্যানিশ গোলাপ ফুটবে বসুন্ধরা কিংসে

সামীউর রহমান   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্প্যানিশ গোলাপ ফুটবে বসুন্ধরা কিংসে

স্পেন ফুটবল দলের আদুরে নাম ‘লা রোসা’ বা লাল গোলাপ। সেই স্প্যানিশ গোলাপই বাংলার পলিমাটিতে ফোটাতে চাইছেন বসুন্ধরা কিংসের প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান। স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোনকে দায়িত্বে রেখেছেন শুরু থেকেই, দলের ট্রেনারও স্প্যানিশ। এবার কোচের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে স্পেনের লা লিগার ভারতীয় অঞ্চলের কান্ট্রি ম্যানেজার হোসে আন্তনিও চাচাজাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কিংস কর্তৃপক্ষ। কাল রাজধানীর উপকণ্ঠে ফোরটিস স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে বসুন্ধরা কিংসের অনুশীলন দেখেছেন চাচাজা ও ইমরুল। সেখানেই ইমরুল জানালেন, একাডেমি গড়ার পরিকল্পনায় অনেক দূর এগিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। নান্দনিক ফুটবশৈলীর দেশ স্পেন থেকে খেলোয়াড় ও কারিগরি সাহায্য পাওয়ার ব্যাপারে কতটুকু কী করা যায়, সেসব নিয়ে আলাপ-আলোচনা এগিয়ে নিতেই চাচাজাকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানো।

ভারতীয় অঞ্চলে এবারই ফেসবুকে সম্প্রচার করা হচ্ছে লা লিগা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অনেকটাই ভূমিকা রেখেছেন চাচাজা। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন, ফর্মুলা ওয়ান, মাদ্রিদ ওপেনসহ অনেক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা চাচাজা জানালেন, ‘এখন আমরা ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছি। তাই আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছি বেশি। বাংলাদেশ থেকে আমরা প্রায় ৩০ লাখ অনুসারী পেয়েছি লা লিগার, যা বিশ্বের অন্য অনেক জায়গার চেয়ে বেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব দেশে আমাদের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, তাদের ভেতর বাংলাদেশ একটি। এটাই আমার বাংলাদেশ সফরে আসার অন্যতম কারণ।’ ভারতে আইএসএলে অ্যাতলেতিকো দি কলকাতার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের। এভাবে বাংলাদেশের কোনো ক্লাবের সঙ্গে লা লিগার কোনো ক্লাব অংশীদারিত্বে যেতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে তাঁর উত্তর, ‘এসব সম্পূর্ণ ক্লাবের ব্যাপার। তবে আমরা সব সময় চাই বিশ্বের সব জায়গা থেকে আসা সেরা প্রতিভারা যেন লা লিগাকেই তাদের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেয়।’ আজ বাফুফেতে গিয়ে শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন চাচাজা, তিনি বললেন, ‘এটা আমার প্রথম সফর, আমি শুনতে এসেছি। বাংলাদেশের ফুটবল অনেক জনপ্রিয় ছিল, এখন হয়তো সেটা ঠিক পথে নেই। যতটা সম্ভব, সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস থাকবে আমাদের তরফ থেকে।’

চাচাজার এই সফরকে ইমরুল হাসান দেখছেন নতুন সম্পর্কের সেতুবন্ধ হিসেবে, ‘দেশের ফুটবলের জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনা ও উন্নতির লক্ষ্য নিয়েই আমরা এসেছি। একটা সময় ঢাকার ফুটবলে ছিল আফ্রিকান ফুটবলারদের প্রাধান্য। আমরা নান্দনিক ফুটবলের দেশ স্পেন থেকে ফুটবলার ও কোচ এনেছি। ভবিষ্যতেও আমরা স্পেনের সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি করতে চাই।’ স্পেনের কোনো ক্লাবের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ইমরুল জানান, ‘আমরা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা দল কুইনস পার্ক রেঞ্জার্সের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলাটা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিলাম। লিগের সূচি পিছিয়ে যাওয়াতে সেটা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে কোনো স্প্যানিশ দলের সঙ্গে হয়তো আমরা খেলতে পারি।’ এই ক্রীড়ানুরাগী জানান, ‘পূর্বাচলে আমাদের একাডেমি হবে। হয়তো এক-দেড় বছর লেগে যাবে। সেই একাডেমির ব্যাপারে কতটা সাহায্য সহযোগিতা পরামর্শ পাওয়া যাবে, সেসব নিয়ে কথা বলতেই চাচাজাকে আমন্ত্রণ জানানো।’

প্রক্রিয়াটা দীর্ঘমেয়াদি, তবে সুন্দরের সন্ধান তো আর চটজলদি হয় না। স্প্যানিশ মডেলে একাডেমি করতে চাইছে কিংস, বাড়াতে চাইছে স্পেনের সঙ্গে আরো যোগাযোগ। এভাবেই তারা বাংলাদেশের পলিমাটিতে ফোটাতে চাইছে স্প্যানিশ ফুটবলের গোলাপ। চাচাজার সঙ্গে আলাপ সেই পথেই ছোট একটা পদক্ষেপ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা